সিঙ্গাপুরে তারেকের নির্দেশে নূরু ও নারী জঙ্গিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাত পরিকল্পনা: টাইমস অব এশিয়া

0

সময় এখন ডেস্ক:

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সারাদেশে রক্তক্ষয়ী সংঘাত, আত্মঘাতী হামলা ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করে সরকার পতনই ছিল বিএনপি জামায়াতের মূল লক্ষ্য। সিঙ্গাপুরে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা মালেক, জামায়াত নেতা রেজাউল করিম ও আইএসআইয়ের ব্রিগেডিয়ার আশফাকের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারেক রহমান ও আইএসআই-এর দুই কর্মকর্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত করে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক গণমাধ্যম টাইমস অব এশিয়ার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা।

এই পরিকল্পনায় সরকার উৎখাতে ব্যর্থ হলেও রক্তপাত ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা উদ্দেশ্য ছিল। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে ও মূল পরিকল্পনা জানতে নূরু, লুৎফুন্নাহার লুমা, উম্মে হাবিবা ও মৌসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে প্রয়োজন বলে পরামর্শ দেয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কোটা সংস্কার যৌক্তিক হলেও এ আন্দোলন শুরুর পর থেকেই যেসব ঘটনা ঘটতে থাকে তাতে সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের লক্ষণ দেখা যায় নি। সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাক, রাস্তা অবরোধ, রেল ট্র্যাক বিচ্ছিন্ন করাসহ উপাচার্যের বাড়িতে হামলা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন হতে পারে না। বিএনপি জামায়াত উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই অবস্থা সৃষ্টির পরিকল্পনা করে।

আরও পড়ুন  খালেদা জিয়ার খোঁজ খবর নিলেন প্রধানমন্ত্রী

গতকাল টেররিজম ওয়াচ নামে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা কোটার নামে নৈরাজ্য পরিকল্পনার মূল নায়ক হিসেবে তারেক রহমানকে উল্লেখ করে। এজন্য বড় অংকের টাকা বরাদ্ধ করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের ইতিপূর্বেই এতে সহযোগিতার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলা হয় পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই আরও আগেই বাংলাদেশে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের জন্য নারী জিহাদী রিক্রুটের পরামর্শ দিয়েছিল যারা সব ধরণের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুত। এতে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংস্থা ও জেএমবি নারীদের রিক্রুট করা শুরু করে।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে জঙ্গি বোমা মিজান গ্রেফতার করে তার মিরপুরের বাসায় অভিযান চালালে সে তার স্ত্রী শারমিনকে সাংকেতিক নির্দেশ দেয়া মাত্র বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই শিশু সন্তানসহ মৃত্যুকে বেছে নেয়।

কোটা আন্দোলনকে নারীদেরকে জঙ্গিবাদে যুক্ত হওয়ার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয় এখানে নারীরা নিজেদের সুযোগ বাতিলের জন্য আন্দোলনে নেমেছে। বলা হয় আইএস এর নেত্রী আহলাম তার কবিতায় নারীদের অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বলেছিলেন পুরুষদের অধীনে থাকাকে হুকুম বলে উল্লেখ করে। বাংলাদেশে কয়েকজন কোটা নেত্রীর মানসিকতা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হত্যা-ধর্ষণ গুজব ছড়ানোয় গ্রেপ্তার ২ জন

প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির বহুদিন থেকেই ইসলামের নাম ব্যবহার করে নারীদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানাচ্ছে। দল থেকে ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের টাকা দেয়া হয় বলে অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা এতে যুক্ত হয়। তারা এ সংগঠিত করাকে পারিবারিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বলা হয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশী নারীদের সন্ত্রাসবাদে যুক্ত হওয়ার সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সন্ত্রাবাদ পর্যবেক্ষক সংস্থা নারীদের সন্ত্রাসবাদে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, ইডেন কলেজ ছাত্রী সংস্থার সভাপতি লুৎফুন্নাহার লুমাকে পরিকল্পনায় যুক্ত অন্যতম বলে উল্লেখ করে বলা হয়, সে এতটাই আগ্রাসী যে নিজের জীবনে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়েছে। লুমার মত সিদরাতুল মুনতাহা কাশফি, লুবনা পারভিন হানা, ফাতিমা তাহসিন, নিশাদ সুলতানা সাকি ও লুবনা একই রকম উগ্র মতবাদে বিশ্বাসী বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন  সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া গ্রেফতার করা যাবে না

উপাচার্যের বাসভবনে হামলার আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হল ও শামসুন্নাহার হলে ছাত্রী সংস্থার কয়েকজন নেত্রীর হেফাজতে পেট্রোল, বোমা ও হামলা করার সরঞ্জাম মজুদ করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। আরও বলা হয় টিএসসি এলাকায় আগে থেকেই বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদি ছাত্রদল ও শিবিরের একটি জঙ্গি দল অস্ত্রসহ অবস্থান নিয়েছিল। উপাচার্যের বাড়িতে হামলা করে ছাত্রী সংস্থার সদস্যদের সহায়তায় খালি হাতে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এ আন্দোলনে ছাত্রী সংস্থার অন্তত ২৫ জন জিহাদি সম্পৃক্ত আছে বলে উল্লেখ করে বলা হয় তাদের মধ্যে ১০ জনই চরম উগ্রবাদী।

ভবিষ্যতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করে পুরো পরিকল্পনা জানতে নূরু, লুমা এবং টাকার জন্য পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়া উম্মে হাবিবা ও মৌসুমী মৌকেও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা জাতীয় স্বার্থে অতীব প্রয়োজন বলে পরামর্শ দেয়া হয়। অন্যথায় বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি তৈরি হবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

টাইমস অব এশিয়া

Spread the love
  • 25K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    25K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।