যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী সুমনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়!

0

সময় এখন ডেস্ক:

শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের পুত্র সুমনকে সূক্ষ্মভাবে পরিকল্পনার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। সময় এখন ডটকমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আসা তার বড় ভায়রা এমদাদুল হক বুলবুল বলেছেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বা কারা তাকে উত্তর শাজাহানপুরের বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়ার খবর শোনা যায়। সুতরাং এটা স্পষ্ট, তাকে সুপরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে।’

এমদাদুল হক বুলবুল আরও বলেন, ‘আমি রোজকার মতো সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে চলে যাই। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে সুমনের স্ত্রী টুইসির ফোন পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই তাদের বাসায়। তার পরিবারের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে।’

আরও পড়ুন  শেখ মুজিব দেশদ্রোহী ছিলেন না, আমরাই তাকে বিদ্রোহী করে তুলেছি: নওয়াজ শরিফ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন শহীদ বুদ্ধিজীবী সন্তান সুমন জাহিদ। পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ভায়রার দাবি, ‘তাকে এর আগেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য দেয়ার পর থেকে গত দুই বছর ধরে তিনি অনেকবার হুমকি পেয়েছেন। তাই আমরা ধারণা করছি, পরিকল্পিতভাবেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

যদিও পুলিশের ধারণা, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে সুমন জাহিদের। কারণ বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সকালে খিলগাঁওয়ের বাগিচা মসজিদ সংলগ্ন রেললাইন ঘেঁষে তার লাশ পাওয়া যায়।


ছবি: রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পড়ে থাকা শহীদ বুদ্ধিজীবি সেলিনা পারভীনের লাশ। (ছবিসূত্র: জন্মযুদ্ধ’৭১)

ঘটনাস্থল থেকে সুমন জাহিদের মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিন ফারুক বলেন, ‘সুমন জাহিদের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।’

আরও পড়ুন  চর দাগারকুঠি একটা গল্প হয়ে উঠতে পারতো!

ময়নাতদন্তের জন্য সুমন জাহিদের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। লাশ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে যান রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। রেললাইন ঘেঁষেই সুমন জাহিদের লাশ পড়ে ছিল। আমরা ধারণা করছি, ট্রেনের চাকা তার গলার ওপর দিয়ে গেছে। তবে কোন ট্রেন তা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।’

মৃতের শ্যালক সারোয়ার জানান, সুমন জাহিদ ফারমার্স ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার সেকেন্ড অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী।

সুমন জাহিদের দুই সন্তান। তাদের মধ্যে স্মরণ টিঅ্যান্ডটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরেক ছেলে সুমন্দ্র আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

আরও পড়ুন  শেকল ভাঙার ছিন্নপত্র || মুক্তির বারতা তরুণ লেখকের কণ্ঠে
Spread the love
  • 333
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    333
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।