কিম জংয়ের রহস্যময় দেহরক্ষীদের নির্বাচন করা হয় কীভাবে?

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও সমালোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তার কাজ কারবার সবই রহস্যে ঘেরা। এমনকি তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীরা, যারা স্যুট-টাই পরে তাদের নেতাকে ঘিরে বলয় তৈরি করে দৌড়ায়, তাদেরকে নিয়েও জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। তবে এবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণে বিশ্ববাসীর সুযোগ হলো সেই দেহরক্ষীদের দেখার।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সিঙ্গাপুরে যখন এসে পৌঁছালেন কিম জং উন, সেখানে সারাক্ষণ তাকে ঘিরে রাখছে এই দেহরক্ষীরা। তবে এই সুদর্শন এবং সুসজ্জিত দেহরক্ষীদের কেবল চোখ ধাঁধানোর জন্যই রাখা হয়েছে বলে ভাবলে ভুল করা হবে। উত্তর কোরিয়া তাদের নেতার নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনো রকমের ঝুঁকি নিতেই রাজি নয়। কীভাবে এই রহস্যময় দেহরক্ষী দলের সদস্যদের বাছাই করা হয়, কীভাবে তারা কাজ করেন তা ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্লেষক মাইকেল ম্যাডেন।

কিম জং উনের দেহরক্ষী দলকে ডাকা হয় সেন্ট্রাল পার্টি অফিস-সিক্স নামে। তাদের আনুষ্ঠানিক নাম অবশ্য ভিন্ন। সরকারি কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয় ‘মেইন অফিস অ্যাডজুট্যান্টস’ বলে। কিমের একেবারে খুব কাছে তাকে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন তারা।

আরও পড়ুন  সাড়ে তিন সেকেন্ডে যেভাবে ব্রিজটি অদৃশ্য হয়ে গেলো! (ভিডিও)

কোরিয়ান পিপলস আর্মির বাছাই করা চৌকস সদস্যদের নিয়ে তৈরি করা হয় এই দেহরক্ষী দল। কিমের শারীরিক উচ্চতা যতটুকু, দেহরক্ষী দলের সদস্যদের অন্তত ততটুকু উচ্চতার হতে হবে। তাদের দৃষ্টিশক্তি হতে হবে প্রখর, চোখে সমস্যা থাকলে চলবে না।

সদস্য বাছাই করা হয় আরও অনেক ধরনের দক্ষতার ভিত্তিতে। যেমন মার্কসম্যানশিপ। কত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে বন্দুকের গুলি চালিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে পারেন তারা। এর পাশাপাশি দেখা হয় মার্শাল আর্টে তাদের দক্ষতা।

দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার আগে তার এবং পুরো পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ব্যাকগ্রাউন্ড ভালোভাবে যাচাই করা হয়। দেহরক্ষীদের অনেকেই কিম জং উনের নিজ পরিবার বা উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীনদের পরিবারের সদস্য বা আত্মীয়। দেহরক্ষী হিসেবে বাছাই করার পর তাদের খুবই নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কোরিয়ান পিপলস আর্মির স্পেশাল অপারেশন ফোর্সেস এর সদস্যদের যে ধরনের প্রশিক্ষণের ভেতর দিয়ে যেতে হয়, এই দেহরক্ষীদেরও সেই একই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

কিম জং উনকে ঘিরে সাধারণত একটি বৃত্ত তৈরি করে রাখেন দেহরক্ষীরা। যেসব লোকজন কিমের কাছাকাছি থাকেন, তাদের সারাক্ষণ নজরে রাখেন এরা। তিনি যখন গাড়িতে থাকেন, এরা আগে আগে এবং পাশাপাশি দৌড়াতে থাকে। আর তার সঙ্গে থাকে চার থেকে ছ’জন দেহরক্ষী। এদের মধ্যে দেহরক্ষী দলের প্রধানও আছেন।

আরও পড়ুন  দ. কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের 'মাস্টারপ্ল্যান' ক্র্যাক করলো কিম জংয়ের হ্যাকাররা!

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং উনের কাছাকাছি থাকা লোকজনের মধ্যে এই দেহরক্ষী দলের সদস্যরাই একমাত্র সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান বহন করতে পারে। দেহরক্ষীরা সাধারণত পশ্চিমা ধাঁচের স্যুট-টাই পরেন। কিমের গাড়িচালক পরেন লিনেনের স্যুট এবং হাতে থাকে চামড়ার দস্তানা। দেহরক্ষী দলের সদস্য সংখ্যা আনুমানিক দুশো হতে তিনশো। সাধারণত একজন সদস্য দশ বছর পর্যন্ত কাজ করেন।

তবে দেহরক্ষীদের দ্বিতীয় একটি দল আছে, যার নাম গার্ড কমান্ড। এরা কিমের চারপাশে দ্বিতীয় ধাপের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। সাধারণ কিম জং উন যখন কোন জায়গায় যান, সেই জায়গাটিকে তার জন্য নিরাপদ করা এদের কাজ। সেটা অফিস ভবন হতে পারে, কারও ব্যক্তিগত বাড়ি হতে পারে বা উত্তর কোরিয়া কিংবা দেশের বাইরে অন্য কোন জায়গা হতে পারে।

আরও পড়ুন  পারমাণবিক অস্ত্রবিরোধী সংগঠন আইসিএএন'ই প্রকৃত শান্তিকামী

গার্ড কমান্ডের আরও অনেক কাজ আছে। কিম জং উনের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের যাবতীয় জিনিস বহন এবং যোগানো তাদের কাজ। এদের বাছাই এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে দেহরক্ষীদের মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কিমের সাম্প্রতিক সফরের সময় দেখা গেছে, তার সঙ্গে উত্তর কোরিয়া থেকে তিনটি বিমান এসেছিল। সেখানে একটি বিমান ভর্তি ছিল এই গার্ড কমান্ডের লোকজন। এরা কিমের জন্য গোপন ও সুরক্ষিত টেলিফোন লাইনের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে তার কম্পিউটার এবং আইটি সুবিধা জোগানো, সব কিছুই করে থাকে। সেই সঙ্গে কিমের জন্য পানীয়, খাবার, সিগারেট থেকে শুরু করে তার যা যা চাহিদা, সেগুলোও তাদের মেটাতে হয়। দলে থাকেন কিমের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও।

কিম পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে স্যুট পরে দৌড়ানো দেহরক্ষীদের তৎপরতাই হয়তো বেশি চোখে পড়ে। কিন্তু এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের চেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন যারা, তারা কিন্তু চোখের আড়ালেই থাকেন।

Spread the love
  • 74
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    74
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।