এতদিন কী করেছেন, আমাকে জেলে রাখতে কত পেয়েছেন: খালেদা

0

বিশেষ সংবাদদাতা:

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া দলীয় আইনজীবীদের উপর আবার চটেছেন। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এতদিন কী করেছেন আপনারা? এই মামলাগুলোতে এতদিন কেন জামিন নিলেন না? আমাকে জেলে রাখার জন্য সরকার থেকে কত পেয়েছেন?’ অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সানাউল্লাহ মিয়াসহ ৫ জন আইনজীবী বেগম জিয়ার সঙ্গে কাল সন্ধ্যায় সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি ওই মন্তব্য করেন। কারাসূত্রে এই খবর পাওয়া গেছে।

৫ আইনজীবী মূলত গিয়েছিলেন নিম্ন আদালতে বেগম জিয়ার জামিন আবেদনের জন্য ওকালতনামায় তার স্বাক্ষর গ্রহণের জন্য। বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৭টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আছে। গত মার্চ মাস থেকে একে একে এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। কিন্তু বেগম জিয়ার আইনজীবীরা এক কুমিল্লার দুটি মামলা ছাড়া অন্য কোনো মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে জামিনের আবেদন করেনি।

আরও পড়ুন  বন্যার্তদের কাছ থেকে কোরবানের পশু কেনার অনুরোধ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জানা গেছে, এর আগে খন্দকার মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপির আইনজীবীরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে বেগম জিয়া তাদের এইসব মামলায় জামিন নিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকেও বেগম জিয়া একই নির্দেশ দেন। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরা এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেননি।

কারাসূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী আইনজীবীরা বলেছেন, তারা আপিল বিভাগের জামিনের অপেক্ষা করছিলেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তি দেখান, ‘আমরা মনে করেছিলাম, এই মামলায় আপিল বিভাগ জামিন দিলে বাকি মামলাগুলোতে আপনা আপনি জামিন হয়ে যাবে। নিম্ন আদালত আপিল বিভাগের আদেশকে একটা নির্দেশনা হিসেবে দেখবে।’ তিনি বলেন, ‘এসব মামলার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোটা আইনের লঙ্ঘন। কারণ আপনি যে গ্রেপ্তার আছেন এটা কারও অজানা নয়।’

আরও পড়ুন  জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা ও ধর্ম ব্যবসার উদ্যোক্তা মওদুদীর আসল রূপ

অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ তিনি কুমিল্লার একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে আমি জামিনের আবেদন করেছিলাম, কিন্তু শুনানির পর কোর্ট নো অর্ডার দিয়ে রেখে দিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যেতে পারছি না।

কিন্তু বেগম জিয়া আইনজীবীদের এসব কথায় সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি মনে করেন, এসব মামলায় চেষ্টা করলে আগেই উচ্চতর আদালত থেকে জামিন নেয়া যেত। বেগম জিয়া বলেছেন, আপিল বিভাগেও অসুস্থতার কারণে সব মামলায় একসঙ্গে জামিন চাওয়া যেত, কিন্তু আপনারা এসব কিছুই করেননি।

উল্লেখ্য, জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন বেগম জিয়া। গত ১৬ মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপীল বিভাগ এই মামলায় তাকে জামিন দেয়। কিন্তু আরও ৭ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় এখনো নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারেই অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

আরও পড়ুন  বিএনপিতে মূল দ্বন্দ্ব নেতৃত্বের: খালেদা-তারেকের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই
Spread the love
  • 88
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    88
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।