গজবের ভয় দেখিয়ে নৃশংস কায়দায় ৩ শিশু বলাৎকার: মাদ্রাসার প্রধান ওস্তাদ আটক

0

মাগুরা সংবাদদাতা:

রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। অতি নৃশংস কায়দায় কোমলমতি শিশুদেরকে বলাৎকার এবং ঘটনা ফাঁস করে দিলে আল্লাহর গজব পড়ে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নহাটা পানিঘাটা গ্রামের পানিঘাটা হাফেজি মাদ্রাসার প্রধান ওস্তাদ হাফেজ আলাউদ্দিন (৩০) দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের বলাৎকার করে আসছিলো। কিন্তু মারধর এবং অত্যাচারের ভয়ে শিশুরা তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে পারতো না। এমনকি অভিভাবকরাও জানতো না এই কুকর্মের কথা। একেক সময় একেকটি শিশুকে তিনি নিজের ঘরে নিয়ে প্রথমে ভয় দেখিয়ে গামছা দিয়ে হাত পা বাঁধতো খাটের সাথে। তারপর লুব্রিকেন্ট (পিচ্ছিলকারক পদার্থ) ব্যবহার করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নৃশংস কায়দায় তাদেরকে বলাৎকার করতেন।

আরও পড়ুন  স্কুলছাত্রকে লোভ দেখিয়ে বলাৎকার | হাজি সাহেবকে গণধোলাই

কাউকে যদি ঘটনা প্রকাশ করে দেয় তবে তার ওপর আল্লাহর ভয়াবহ গজব নাজিল হবে এবং গলায় রক্ত উঠে সে মারা যাবে- এমন শপথ করিয়ে তাদেরকে চালপড়া খাওয়ানো হতো জোরপূর্বক। রক্তবমি করে মারা যাওয়ার ভয়ে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে দিনের পর দিন নীরবে অত্যাচার সয়ে যেত।

সম্প্রতি ৩টি ছেলে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিশুদেরসহ আলাউদ্দিনকে মাগুরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আনা হয়। আটককৃত হাফেজ আলাউদ্দিনের বাড়ি সদরের চাপোল গ্রামে।

বলাৎকারের শিকার এক শিশুর বাবা প্রতিবেদককে বলেন, ওই পাষণ্ড হুজুর অনেকদিন ধরেই তার সন্তান এবং অন্য কয়েকটি শিশুকে বলাৎকার করছিলো। রক্তবমির ভয়ে তারা কাউকে বলার সাহস পায়নি। গতরাতে একটি শিশুকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে গেলে অপেক্ষাকৃত বড় অন্য কয়েকটি শিশু তা দেখে ফেলে। এ সময় তারা স্থানীয় মুরব্বিদের ডেকে আনে। তারপর হাতেনাতে ওই শিক্ষককে আটক করে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে আমরা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আরও পড়ুন  ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে খুঁটিতে বেঁধে সারা শরীরে ব্লেড দিয়ে কেটে নির্যাতন!

এ প্রসঙ্গে মাগুরার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান জানান, ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে মাগুরা সদর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Spread the love
  • 28.4K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    28.4K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।