জননেত্রী শেখ হাসিনা কি শুধুই কোটা বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রী?: নুরুল আজিম রনি

0

অনলাইন ডেস্ক:

কোটা সংস্কার আন্দোলনের হুজুগে শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ছাত্রদের একহাত নিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুুরুল আজিম রনি। কোটা বিরোধীরা আন্দোলনটিকে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুরু থেকেই কোটা আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

গতরাতে রনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে উ্দ্দেশ্য করে একটি আবেদন করে বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আপনার সিদ্ধান্ত পূর্নবিবেচনা করুন। যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া ইতিহাসের সাহসী সন্তানদের হেয় প্রতিপন্ন করেছে তারা ছাড়াও এই রাষ্ট্রে বিশাল একটি প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে। দেশের আইন শৃঙ্কলা ও শান্তির
স্বার্থে প্রজন্মটি রাজপথে নামেনি এখনো। নয়তো সামান্য চাকুরির লোভে যারা স্বার্বভৌমত্বে আঘাত হানতে পারে তাদের দমানো খুব বেশী কঠিন কাজ হতো না।

দলীয় সমর্থক ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুভূতিশীল সর্বস্তরের জনগণ সেই পোষ্টে নুরুল আজিম রনির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। সেখানে তিনি মন্তব্যের ঘরে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি কোটা প্রথার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। রনি লিখেছেন-

আরও পড়ুন  রাসিক নির্বাচন: রাজশাহীতে দ্বিগুণ ভোটে লিটন বিজয়ী

আমি কোটার পক্ষে। পাহাড়ের পাদদেশে যে ছেলেটি পড়াশুনা করে তার সাথে রাজউক মডেল কলেজের ছেলের সুযোগ সুবিধা এক করা যাবে না সুতরাং জেলা কোটা লাগবে।

দেশের অর্ধেক নারী প্রজন্ম যেখানে রাস্তায় বের হলে কথিত ধর্মবেপারীরা আপত্তি করে সেখানে তাদের সাথে পুরুষের সুযোগ সুবিধা এক করা যাবেনা।সুতরাং নারী কোটা লাগবে।

যেখানে এক ধর্মের লোক অন্য ধর্মের সাথে সুসম্পর্ক রাখাকে এদেশে অন্যায় ঘোষনা করে ফতোয়াবাজরা সেখানে আদিবাসী একজন যুবক আমার মতো সবার কাছে থেকে সহযোগিতা পাইনা। সুতরাং তার জন্য কোটা প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধীদের ভবিষ্যত যখন অনিশ্চিত তখন তার জন্য কোটা দরকার।

আর স্বাধীনতা পাওয়ার ৪৭ বছর পরেও যে দেশে স্বাধীনতা মানিনা বা নিজেদের স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি হিসাবে দম্ভ করে কথা বলা হয় তখন আমার কাছে দেশের স্বার্বভোমত্ব হুমকি মনে হয়। স্বাধীন রাষ্ট্রে কখনো স্বাধীনতার বিপক্ষে শক্তি বলে কিছু থাকতে পারেনা, রাজনীতি সমাজনীতি সবকিছু পরিচালিত হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের অনেকগুলো রাজনৈতিক দলের প্রতিযোগিতার আদলে। নয়তো প্রশাসনের ভেতরে বারবার স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। দেশ হুমকির মুখে পড়বে বলে আমি বিশ্বাস করি। যতক্ষন পর্যন্ত এ বিষয়টা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে না ততক্ষন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা বলবৎ থাকতে হবে।

আরও পড়ুন  গ্রেনেড হামলা মামলার রায় নিয়ে বিএনপি কেন আতংকে?

যদি বাতিল হয় তবে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার উপর বিশ্বাস রাখি বলেই আমার মতো অনেকের একসাথেই রাজপথে নামা উচিত বলে মনে করি। দেশপ্রেম বুকে রাখি বলেই ছাত্রলীগ করতে এসেছিলাম। যদি না রাখতাম তবে এই দলে রাজনীতি করতে আসতাম না। তাই দেশপ্রেম আমার কাছে মূখ্য।

[সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে]

Spread the love
  • 6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।