বীমা থাকায় স্যাটেলাইট নিয়ে বাংলাদেশের বিন্দুমাত্রও ঝুঁকি নেই: জয়

0

সময় এখন ডেস্ক:

শেষ মূহুর্তে এসে গতকাল দিবাগত রাতে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ নির্ধারিত সময়ে উৎক্ষেপণ করা যায়নি। এর আগেও কয়েক দফায় সময় পেছানো হয়। এবার কয়েক সেকেন্ড আগে উৎক্ষেপণ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এক ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। মহাকাশে স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যর্থ হওয়ারও অনেক নজির রয়েছে।

তবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলছেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি বীমার আওতায় রয়েছে। ফলে উৎক্ষেপণে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে আর্থিক লোকসানে পড়তে হবে না বাংলাদেশকে। এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ একটি বড় আয়োজন, এখানে অনেক ধরনের ঝুঁকি থাকেই। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বীমার আওতায় রয়েছে। উৎক্ষেপণসহ সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসকে। কোন দুর্ঘটনা যদি ঘটেও আর্থিক বিষয়গুলোর দায়িত্ব নেবে থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। আমাদের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না, বাড়তি টাকা খরচ হবে না। শুধু আবারও প্রস্তুতি নিতে যে সময় নষ্ট হবে, সেটিই আমাদের ক্ষতি।’ তিনি জানান, থ্যালেস অ্যালেনিয়ার দায়িত্বের মধ্যে বীমার বিষয়টিও রয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে উৎক্ষেপণের পরপরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাশিয়ার আবহাওয়া স্যাটেলাইট ‘মিটিওর-এম’। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে গাওফেন-১০ নামের একটি স্যাটেলাইটকে এর নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয় চীন। ২০১০ সালের জুনে স্যাটেলাইট নিয়ে উৎক্ষেপণ করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি রকেট বিস্ফোরিত হয়। উৎক্ষেপণের দুই মিনিট ১৭ সেকেন্ড পর ভূ-কেন্দ্র থেকে এটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।


ছবি: বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। তবে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে এক হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বাংলাদেশের নিজস্ব তহবিল। এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শেষ মুহূর্তে এসে আটকে যায় স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ। কারিগরি জটিলতায় উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়নি জানিয়েছে উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিট) স্যাটেলাইটটি আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে।

উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর স্পেসএক্স এক টুইট বার্তায় বলেছে, ‘ভূমি থেকে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া এক মিনিট আগে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আজ থমকে যেতে হয়েছে। রকেট এবং পেলোড ভালো অবস্থায় আছে। আগামীকাল স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৪ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে একটি দল কাজ শুরু করেছে।’

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মূলত একটি কমিউনিকেশন ও ব্রডকাস্টিং স্যাটেলাইট। বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের তথ্যমতে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টু হোম), ভিডিও সম্প্রচার, ভি-স্যাট নেটওয়ার্ক, ব্রডব্যান্ড, কমিউনিকেশন ট্র্যাংক সেবা দেওয়া যাবে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।