জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ: ‘সপরিবারে মুসলিম হয়ে যা, ঋণ মাফ করে দেব’

0

বান্দরবান সংবাদদাতা:

ইসলাম ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নাই। যে যার ধর্ম নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করবে। সেই সাথে অন্য ধর্মের অনুসারীকে বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করার কথাও উল্লেখ আছে। কিন্তু এক শ্রেণির অতি উৎসাহী ধর্মান্ধের কারনে আজ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার জোগাড় হয়েছে।

ঋণ গ্রহীতার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করার একটি লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে জানা গেছে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগটি করেছেন লাঙ্গীপাড়া ৯ নাম্বার ওয়ার্ডে ওয়াপদা ব্রীজ সংলগ্ন সেলুন ব্যবসায়ী শোভা রানী শীল নামের জনৈক ভুক্তভোগী নারী।

গত ১ মে তারিখে লিখিত ওই অভিযোগপত্রে তিনি জানিয়েছেন- মেয়ের বিয়ে দেয়ার সময় অর্থাভাবে প্রতিবেশী জলিল, শামীম ও সামু মাঝি নামক তিনজনের কাছ থেকে তিনি ঋণ গ্রহণ করেন। কিন্তু যথাসময়ে উক্ত ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ঋণদাতারা শোভা রানীর স্বামী সনজিত শীলকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনসহ ভয় ভীতি দেখাচ্ছিল। সেই সাথে তাকে শর্তারোপ করে, যদি নিজ পূর্ব পুরুষের সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে, তবে তার সব ঋণ মাফ করে দেয়া হবে।

মানসিক নিপীড়নের শিকার সনজিত এসব ঘটনা নিজের পরিবারে জানালে পরিবারের সবাই তীব্র প্রতিবাদ করে। কিন্তু দারিদ্র সীমার নিচে অবস্থানকারী সনজিত পরিবারের ভবিষ্যৎ ভেবে ঋণের বোঝার চাপ থেকে নিষ্কৃতি এবং ঋণদাতাদের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে হলফনামার মাধ্যমে ধর্মান্তরে বাধ্য হন।

এর পরই ঋণদাতা ব্যক্তিরা ক্রমাগত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবং লোক মারফত শোভা রানী ও তার সন্তানদেরকেও ধর্মান্তরিত হতে ভয় ভীতি প্রদর্শন ও চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। মানসিক নিপীড়ন তার সমগ্র সীমা অতিক্রম করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শোভা রানী তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, তারা বংশপরম্পরায় সনাতন ধর্মের অনুসারী হিসেবে স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালনে আগ্রহী এবং নিজ ধর্মের প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল। সেই সাথে ইসলাম ধর্মের প্রতি তাদের কোনরূপ আগ্রহ নাই। এমনকি তার স্বামী সনজিত শীলেরও কোন আগ্রহ ছিল না। শুধুমাত্র ঋণের চাপে জোরপূর্বক ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি হলফনামা সম্পাদন করতে বাধ্য হন।

জলিল, শামীম ও সামু মাঝির ক্রমাগত হুমকি ও জোর জুলুমের কারনে বর্তমানে পরিবারটি জান মালের নিরাপত্তাহীনতা এবং উৎকণ্ঠার মাঝে দিনাতিপাত করছে বলে অভিযোগ করেন শোভা রানী শীল। একইসাথে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারটিকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আবেদন জানান এই অসহায় নারী।

এ প্রসঙ্গে জানার জন্য উল্লেখিত তিনজনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। প্রতিবেদককে শামীম বলেন, এসবই অপপ্রচার। সনজিত নিজেই অনেকদিন ধরে বলে আসছে ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়ে। তাই তাকে আমরা সহযোগিতা করেছি। ঋণ মাফ করে দেয়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, ঋণের ব্যাপারে জোরের কিছু নাই। ওটা আলাদা বিষয়।

সময় এখন ডটকমকে শোভা রানী শীল ঘটনাটি নিয়ে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি প্রতিবেদকের কাছে অনুরোধ করেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেন সবার কাছে তুলে ধরা হয়।

বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগটির প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি ‘উপরে’ জানানো হয়েছে। এখনই গণমাধ্যমকে জানানোর মতো কিছু হয়নি। সময় হলে জানানো হবে।

Spread the love
  • 7.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    7.9K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।