জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মির্জা ফখরুলের চমকপ্রদ ফর্মূলা!

0

সময় এখন ডেস্ক:

এখনও মাতৃমৃত্যুর শোক পুরোপুরি সামলে উঠতে পারেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবুও বিএনপির দীর্ঘদিনের এই কান্ডারী এবং ক্লিন ইমেজের নেতা দলের কঠিন সময়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নিচ্ছেন। তার দল বিএনপি একদিকে বলছে, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন নয়। কিন্তু গোপনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করেছে।

শরীক দলগুলোর আপত্তি এবং বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শে জামায়াতকে বাদ দিয়ে সর্বদলীয় এই জোটে বিএনপি মাত্র ১৫০ আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি ১৫০ আসন শরীকদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। একাধিক সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের সুচিন্তিত ভাবনার ফসল এই প্রস্তাব পেয়েই জাতীয় পার্টির নেতা এরশাদ ৭০ আসনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত যদি বেগম জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচন করতে হয়, তাহলে বিএনপি একটি লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচন করবে, সেটি হলো আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা।

বিএনপির একজন প্রবীণ নেতা বলেন, ‘এরকম পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে হলে সেটি করা হবে আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আর ওই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের পতন।’ ওই নেতা বলেন, ‘এটা ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে বেগম জিয়ার মুক্তির সম্ভাবনা নেই। তাই, এ ব্যাপারে আমরা নূন্যতম ইস্যুতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চাই।’

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি যদি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেই করবে। আসন নিয়ে ভাববে না।

শরীক দলগুলোর মাঝে বিভক্তির সুর স্পষ্ট হচ্ছিলো যখন, ঠিক তখনই মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের নেতাদের কাছে ঐক্যের স্বার্থে অর্ধেক আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। বাকি অর্ধেক আসন জাতীয় পার্টি, বিকল্প ধারা, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্যসহ সব দলগুলো দেওয়ার কথা বলেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘সর্বদলীয় নির্বাচনী ঐক্য করার একটা আলোচনা বিএনপিতে আছে। তবে তা ২০ দল ভেঙে না। ২০ দলীয় জোট আছে, এর বাইরে ক্রিয়াশীল সব দলকে নিয়ে একটা নির্বাচনী প্লাটফরম করার চিন্তা আছে।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ১৫০-১৫০ তত্ত্ব কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ ফরহাদের থেকে নেওয়া। ১৯৮৬ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ। আর এই নির্বাচনে দুই নেত্রীকে দেড়শ আসন করে প্রতীকী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওই কমিউনিস্ট নেতা। ওই প্রস্তাব রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপুল সাড়া ফেলেছিল। তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আইন অনুযায়ী একজন প্রার্থী যত খুশি আসনে প্রার্থী হতে পারতেন। মোহাম্মদ ফরহাদের প্রস্তাবের পর বিচলিত এরশাদ গণ প্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ সংশোধন করেছিলেন রাতের অন্ধকারে। সংশোধনীতে বলা হয়েছিল একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এরশাদ চলে গেলেও ওই সংশোধনী এখনো বহাল রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব, বেগম জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় সরকার পুনঃ প্রতিষ্ঠা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের লক্ষ্যে এমনই প্রতীকী নির্বাচন করতে চান। যেখানে বিএনপি ক্ষমতায় যাবার জন্য নয় বরং সরকারের পতনের লক্ষ্যে নির্বাচন করতে চায়। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব দলকে ঐক্যবদ্ধ করা কঠিন। তবে, বৃহত্তর ত্যাগ স্বীকার করে শেষ পর্যন্ত যদি সেটা করা যায়, তাহলে সরকারের জন্য কারচুপি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Spread the love
  • 108
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    108
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।