প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাজ্য সফর, নিরাপত্তা কতোটা নিশ্ছিদ্র?

0

সময় এখন ডেস্ক:

সৌদি আরবের বাদশাহ’র আমন্ত্রণে সামরিক মহড়ায় অংশগ্রহণ করতে আজ বিকেলে রওনা হয়েছেন। আগামীকাল সোমবার আবার সৌদি আরব থেকে লন্ডনে যাবেন। লন্ডনে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের সম্মেলনে যোগ দেবেন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন সফরে অন্য সব কিছু ছাপিয়ে তাঁর নিরাপত্তার ইস্যুটি প্রধান হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ সরকার এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদিও বলা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার কমনওয়েলথ সম্মেলনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অতিথি, এজন্যেই তাঁর সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী এবার লন্ডন সফর করছেন এমন এক সময়ে, যখন স্বাধীনতাবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী গোষ্ঠী এবং তারেক জিয়া অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে সংঘবদ্ধ ও মরিয়া। শেখ হাসিনার সফর উপলক্ষে লন্ডনে বিএনপি জামাত বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়েছে। সেসব কর্মসূচি উস্কানিমূলক ও দেশের স্বার্থবিরোধী। যদিও ব্রিটিশ সরকার বিএনপি জামাতের কোনো কর্মসূচিরই অনুমতি দেয়নি।

আরও পড়ুন  পরবর্তী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ আশরাফ!

গত ৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে হামলার পর বিএনপি ব্রিটিশ পুলিশের নজরদারিতে আছে, তারপর বিএনপি-জামাত লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দৃশ্যমান প্রতিবাদ করতে চায়। একসময় লন্ডন ছিল মুক্তিকামী বাঙালিদের আশ্রয়ের ঠিকানা। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে ভারতের পর লন্ডনেই মুক্তিকামী বাঙালিরা সবচেয়ে সক্রিয় ছিল। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন জানিয়েছিল। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর জাতির পিতার হত্যার বিচারের দাবি প্রথম উচ্চারিত হয় লন্ডন থেকেই। আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডন থেকে জাতির পিতা হত্যার বিচারের দাবিতে সাক্ষর সংগ্রহ অভিযানের সূচনা করেছিলেন।

কিন্তু আজ যুক্তরাজ্য এবং বিশেষ করে লন্ডন যুদ্ধাপরাধী, স্বাধীনতাবিরোধী এবং তারেক জিয়ার মতো দণ্ডিত অপরাধীদের জন্য অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গত ৪ বছরে লন্ডনেই সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। আর এই তৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। এছাড়াও যুদ্ধাপরাধী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক লন্ডনে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রচারণা এবং গোপন ষড়যন্ত্রে ব্যস্ত। যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের পুত্ররা লন্ডনে জড়ো হয়েছে। সেখানে তারা প্রতিদিনই বৈঠক করছে, বাংলাদেশকে কীভাবে অশান্ত করা যায়।

আরও পড়ুন  ৪৭ বছরে বিএনপি নেতার এসএসসি পাশ, খালেদার জন্য অনুপ্রেরণা: নুরুল আজিম রনি

লন্ডনের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে, এবার কমনওয়েলথ সম্মেলনে তারেক জিয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানরা বড় ধরনের শো ডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ভাড়াটে সাংবাদিক ঠিক করেছে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রতকর প্রশ্ন করার জন্য। কিছুদিন আগে, শেখ রেহানার মেয়ে ব্রিট্রিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীকে ভাড়াটে সাংবাদিক দিয়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হবে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সম্মেলন স্থলে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে। সম্মেলনস্থলে বিএনপির পক্ষ থেকে লিফলেট বিতরণের চেষ্টা করা হবে বলেও জানা গেছে। অবশ্য লন্ডন আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সেখানে কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া বিএনপির সমর্থক নেই। লন্ডন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভাবে সংবর্ধনা পাবেন। আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা অতন্ত্র প্রহরীর মতো শেখ হাসিনার পাশে থাকবে।

আরও পড়ুন  রিমান্ডে সৌদি প্রিন্সদের পেটাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া করা হয়েছে
Spread the love
  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    91
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।