ফাঁসী থেকে বাঁচাতে নাগরিকত্ব দিয়ে তারেককে পাকিস্থানে আশ্রয়ের দাবি জামায়াতের!

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর পাকিস্থানের করাচিতে তারেক জিয়ার জন্ম। আর তাই এজন্য তারেক জিয়াকে পকিস্থানের নাগরিকত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্থান। দলটির আমির সিরাজুল হক লাহোরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন। সিনেটর সিরাজুল হক বলেন, ‘তারেক জিয়ার নেতৃত্বে পাকিস্থান পুনরুদ্ধারের আন্দোলন নতুন করে শুরু করা উচিত। না হলে বাংলাদেশে জামায়াত বিপন্ন হবে।’

জামায়াতের আমির লাহোরের ধীর সফর করছিলেন। এসময় তার কাছে বাংলাদেশের জামায়াতের আমীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে তারেক জিয়া অত্যন্ত বিপদসংকুল অবস্থায় আছেন যুক্তরাজ্যে। শেখ হাসিনার আসন্ন যুক্তরাজ্য সফরেই বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। এ চুক্তির আওতায় তারেককে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে দিতে পারে বর্তমান সরকার। তাই অবিলম্বে তাকে নাগরিকত্ব দিয়ে পাকিস্থানে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা উচিৎ।’

আরও পড়ুন  জরিপ: এই মুহুর্তে আ. লীগ ও শেখ হাসিনার জনসমর্থন বিএনপির চাইতে বেশি

পাকিস্থানের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১ এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে যে, ‘কেউ এই আইন প্রবর্তিত হবার পরে পাকিস্থান ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করলে তিনি পাকিস্থানের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।’ এই আইনের ধারায় একটি শর্তও দেওয়া হয়েছে যাতে বলা হয়েছে, ‘যদি তার পিতা রাষ্ট্রে শত্রু বিবেচিত হন অথবা বিচারিক দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন।’ পাকিস্থানের দলিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীকালে পাকিস্থান তিন শতাধিক পাকিস্থানি (বাঙালি) নাগরিককে রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে ঘোষণা করে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্থান এক ঘোষণার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাষ্ট্রের শত্রু’ বা রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করেন। এভাবে পর্যায়ক্রমে তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, কর্নেল (পরবর্তীতে মেজর জেনারেল) এম এ জি ওসমানীকেও রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত পাকিস্থান কখনো জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করেনি। এমনকি তার নাগরিকত্ব বাতিল কিংবা চাকুরি থেকে বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করেনি। বরং, কর্নেল বেগ যুদ্ধকালীন সময়ে জিয়াকে লেখা এক চিঠিতে তার ‘ভূমিকার’ প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন  খালেদা জিয়ার জন্য 'খেতে খেতে অনশন' করছে নেতা কর্মীরা!

পাকিস্থান নাগরিক আইনে দ্বৈত্ব নাগরিকত্বের স্বীকৃতি নেই। তবে আইনের ১৪(ক) ধারায় বলা হয়েছে, পাকিস্থানি নাগরিক ১২ বছরের নিচে থাকার সময় যদি অন্য দেশের নাগরিক থাকেন তাহলে তার বয়স ২১ পূর্ণ হওয়ার পর তিনি যদি পাকিস্থানি নাগরিকত্ব ফেরত চান তাহলে তা পুনরুজ্জীবিত হবে। অর্থাৎ এই ধারা অনুযায়ী, এখন চাইলেই তারেক জিয়া পাকিস্থানি নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট ফেরত পেতে পারেন।

অবশ্য তারেক জিয়ার পাকিস্থান প্রেম পুরোনো। ২০০৩ সালে তিনি জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে আপন ভাই হিসেবে তুলনা করেছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে লন্ডনে থাকছেন তারেক জিয়া। এখানে পাকিস্থান দূতাবাসই তার প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং অভিভাবক। পাকিস্থানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গেও তারেক জিয়ার ঘনিষ্ঠতার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে।

আরও পড়ুন  ফখরুলকে ধমক দিয়ে তারেক জিয়া: কেন আপনি কী করছেন, ‘সবই জানি’

জামায়াতে ইসলামী পাকিস্থান বাংলাদেশের জামায়াতকে তাদের সংগঠনের একটি শাখা মনে করে। যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা, মতিউর রহমান নিজামী, আলী হোসেন মুজাহিদ সহ সবার মৃত্যুতে পাকিস্থানের জামায়াত শোক পালন করেছিল। পাকিস্থানের জামায়াতই পাকিস্থানের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব এনেছিল। বাংলাদেশেরও তারেক জিয়ার বিএনপি এবং জামায়াত একই জোটভুক্ত। সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, ‘জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই তারা নির্বাচন করবেন।’ ক্ষমতায় এলে কি তারা বাংলাদেশকে পাকিস্থানের সঙ্গে একীভূত করবেন।

পাকিস্থানের নাগরিকত্ব আইন ১৯৫১ দেখুন:
Paki-citizenship-act1951

Spread the love
  • 1.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.8K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।