আদিবাসী নারীর পান্তা ও আলুভর্তার নিমন্ত্রণ পেলেন প্রধানমন্ত্রী

0

সময় এখন ডেস্ক:

নিজের শ্বশুরবাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে দাওয়াত পেলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধন করতে গিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ওই এলাকার এক আদিবাসী নারী বাংলা বছরের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তিতে দাওয়াত দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে পান্তাভাত ও আলুভর্তা খাওয়াবেন বলে জানান।

বৃহস্পতিবার গণভবনে বসে ১২ জেলার ১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়ায় ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যে ১২টি জেলায় এই সুবিধা মিলেছে সেখানে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। প্রতিটি জেলা থেকেই জেলা প্রশাসকরা ওই জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হন উপকারভোগীরা।

পীরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেন একেবারে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয়মই কিসকু। পীরগঞ্জের বড় আলমপুর ইউনিয়নে একই নামে গ্রামে তার বাড়ি। কিসকু ঘরের কাজ করা ছাড়াও হাতের কাজ করে আয় করেন। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের কী কী উপকার হয়েছে সেটা বর্ণনা করেন ওই তিনি। সব শেষে তিনি পীরগঞ্জে দাওয়াত দেন প্রধানমন্ত্রীকে।

আরও পড়ুন  সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসছে

সব শেষে শুক্রবার চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে পীরগঞ্জে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান কিসকু। বলেন, ‘আপনি সুস্থ থাকেন, ভালো থাকেন, এগিয়ে যান। আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছি এবং আগামী কালকে পান্তা ভাত এবং আলু ভর্তার দাওয়াত দিয়ে শেষ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী সহাস্যে জবাব দেন, ‘শ্বশুরবাড়ি গিয়ে পান্তাভাব খাব নাকি? শ্বশুরবাড়ি যেয়ে পান্তাভাত খাব, এটা কোনো কথা হলো? আচ্ছা খাব, তবে শুঁটকি ভর্তার সাথে।’

এর আগে কিসকু বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি ঘোষণা করেছিলেন, বলেছিলেন গ্রাম অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ দেবেন। আজকে সেটা বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই এই জন্য যে, আমরা গ্রাম অঞ্চলের মানুষ। আমরা কখনও পরিকল্পনা করতে পারিনি যে পল্লী বিদ্যুৎ পাব। কিন্তু আমরা আদিবাসীরা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পেয়েছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা এখন লেখাপড়া করতে পারছে। আমরা হস্তশিল্পী যারা আছি, আদিবাসী ভাই বোনেরা যারা আছে তারা এখন দিনে কাজ করে, রাতের বেলায় বিদ্যুতের আলোয় হাতের কাজ করে। আমরা আগে নিরাপত্তা পেতাম না, কিন্তু বিদ্যুৎ পেয়ে এখন নিরাপত্তা উপভোগ করছি। আমাদের জমি আছে যাদের তারা মোটর দিয়ে চাষবাস করে। তেল দিয়ে অনেক টাকা খরচা হতো। সেখান থেকে আমরা সেভে আসছি।

আরও পড়ুন  গ্রেনেড হামলা: ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের রাজনীতির কলঙ্কজনক অধ্যায়

কিসকু আরো বলেন, ‘আমাদের টিভি ছিল না, দেশের কোনো খবর আমরা পেতাম না। কিন্তু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ছোট ছোট টিভি আমরা কিনেছি। বাংলাদেশের সব খবর আমরা দেখতে পাই। এখন আমাদের ছেলে মেয়েরা টিভি থেকে অনেক কিছু শিখতে পারছে। আমাদের ছেলে মেয়েরাও স্কুলে লেখাপড়া করছে ল্যাপটপের মধ্য দিয়ে। আমরা গরিব, আমরা হয়ত ল্যাপটপ কিনতে পারি না। তারপরও আপনার মধ্য দিয়ে স্বার্থক হয়েছে আমাদের ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দাওয়াত পেয়েছেন সিলেট এবং দিনাজপুর থেকেও। সিলেটের একজন প্রধানমন্ত্রীকে ওই এলাকার বিখ্যাত ফল সাতকরা দিয়ে মাংস রান্না করে খাওয়ানোর আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রী তখনও হেসে দিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই সিলেট আসলে সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস খাব, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’

আরও পড়ুন  ‘আমরা শিবির নই, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক’

দিনাজপুরে একজন ইমাম প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘আমাদের এখানে লিচু ভালো হয়। সামনে লিচুর মৌসুম। আপনাকে লিচু খাওয়াবো। চলে আসেন।’

এই নিমন্ত্রণদাতাকেও নিরাশ করেননি শেখ হাসিনা। বলেন, ‘অবশ্যই আসব লিচু খেতে।’

Spread the love
  • 72
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    72
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।