ধর্ষক ধর্মগুরু আসারাম বাপুর ওয়ার্ডেই আছেন সল্লু ভাই!

0

বিনোদন ডেস্ক:

কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার দায়ে বলিউডের ভাইজান ওরফে সল্লু ভাইকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভারতের যোধপুর আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে সোজা তাকে যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবারের রাতটা সেখানেই কাটিয়েছেন ‘দাবাং’ হিরো সালমান।

সেখানকার জেল কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, যোধপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে শাস্তি ভোগ করছেন ধর্ষণে অভিযুক্ত ভারতীয় ধর্মগুরু আসারাম বাপুও। নিজ আশ্রমে এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে গ্রেপ্তার হন তিনি। সেই ধর্ষক বাবার সঙ্গে একই ওয়ার্ডে রয়েছেন সালমান খান। দুই নম্বর ব্যারাকের দুই নম্বর সেলে রাখা হয়েছে তাকে। এই জেলে অবশ্য এর আগে ১৯৯৮, ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে আরো তিন দফায় ১৮ দিন কাটিয়েছেন নায়ক। সব ক’টি মামলাই হরিণ চোরাশিকারের।

আরও পড়ুন  এফডিসিতে শ্যুটিংয়ের ভেতর সত্যিকারের মারামারি!

১৯৯৮ সালে যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ১ অক্টোবর মাঝরাতে সাইফ, টাবু, সোনালি ও নীলমের সঙ্গে একটি মারুতি জিপসিতে বেরিয়েছিলেন সালমান। অভিযোগ, সেই সময়েই যোধপুরের কাছে বিশ্নোই সম্প্রদায়ের কঙ্কনি গ্রামে নিজের রাইফেল থেকে গুলি করে ৩ দিনে মোট ৫টি কৃষ্ণসার হরিণ মারেন তিনি।

কৃষ্ণসার বিপন্ন প্রাণী। বিশ্নোইরা কৃষ্ণসারের রক্ষক হিসেবে মনে করেন নিজেদের। সালমানের জিপসির নম্বর পুলিশকে তারাই দিয়েছিলেন। বন্যপ্রাণী আইনে ২০ বছর ধরে মামলা তারাই চালিয়েছেন। প্রায় একই সময়ে রাজস্থানে চিঙ্কারা হরিণ শিকারেরও অভিযোগ ওঠে সালমানের বিরুদ্ধে। আছে মুম্বাইয়ে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চাপা দিয়ে এক পথচারীকে হত্যার অভিযোগও। সেই দু’টি মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে।

পড়ুন: সালমানের আরও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি

আরও পড়ুন  দিনে ১ বোতল হুইস্কি লাগে যার, সেই ষাঁড়টির মূল্য ২০ কোটি টাকা মাত্র! (ভিডিও)

বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে প্রথমে খবর প্রচার হয়, মাত্র দুই বছরের জেল হয়েছে সালমান খানের। তিন বছরের কম মেয়াদের সাজা হওয়ায় যোধপুর আদালত থেকেই তিনি জামিন পাবেন বলে মনে করা হচ্ছিল। ভক্তরা উৎসবের তোড়জোড়ও শুরু করছিলেন। এমন সময়ে ফের ঘোষণা, আগের খবরটা ভুল! পরের দেড় ঘণ্টা রুদ্ধশ্বাস টেনশন। দুপুর ২টা ১০ নাগাদ আবার ‘ব্রেকিং নিউজ’- পাক্কা ৫ বছরের জেল অভিনেতার, সঙ্গে ১০ হাজার রূপি জরিমানা।

সাজা ঘোষণা হতেই সালমানের পরিবারের লোকদের দূরে গিয়ে বসতে বলেন দায়িত্বরত পুলিশরা। কেননা, ভাইজানকে তখন জেলে নেয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। সাজানো হয় পুলিশের গাড়ির কনভয়। বেশ খানিক ক্ষণ পরে সাদা পর্দা-ঘেরা একটা বোলেরোয় তোলা হয় সালমানকে। আদালতের বাইরে তিন স্তর নিরাপত্তার সর্বশেষ ব্যারিকেডের ধারে বিশ্নোইরা তখন হাতে হাতে বিলাচ্ছিলেন গুড়ের টুকরো। ওটাই তাদের মিষ্টিমুখ।

আরও পড়ুন  রবি নেমেছিল ধরায় আজ

বৃহস্পতিবার থেকে এখনও পর্যন্ত জেলেই রয়েছেন সালমান। সাধারণ কয়েদিদের মতোই রাখা হয়েছে তাকে। দেয়া হয়নি কোনো বিশেষ সুবিধা। এমনকি, সালমান নিজে থেকেও কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করেননি। জেলখানায় ১০৬ নম্বর কয়েদি তিনি। জামিন না হওয়া পর্যন্ত এটাই বলিউড সুপারস্টারের পরিচয়।

Spread the love
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।