শেখ হাসিনা একাই দাবার ছক উল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন: মঈন ইউ আহমেদ

0

সময় এখন ডেস্ক:

সাবেক সেনাপ্রধান এবং ওয়ান ইলেভেনের অন্যতম পরিকল্পনাকারী জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের নতুন একটি বই অচিরেই প্রকাশিত হবে জানা গেছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। ক্যান্সারে আক্রান্ত সাবেক এই সেনাপ্রধান এখন নিউইয়র্কে নিভৃত জীবন যাপন করছেন।

খসড়া পান্ডুলিপিতে মঈন ইউ আহমেদ ‘শেখ হাসিনাকে ‘বিচক্ষণ, দেশপ্রেমিক এবং রাষ্ট্রনায়োকচিত গুণাবলী সম্পন্ন রাজনীতিবীদ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিক বেগম জিয়াকে ‘পরিবার কেন্দ্রিক, অস্থির এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।’

এটা মঈন ইউ আহমেদের দ্বিতীয় গ্রন্থ। প্রকাশিতব্য গ্রন্থটি বিশ্লেষণমূলক। এখানে ওয়ান-ইলেভেনের ব্যর্থতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। খসড়া পান্ডুলিপিতে তিনি সুশীল সমাজের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার পান্ডুলিপিতে এই সাবেক জেনারেল লিখেছেন, ‘আমাদের সুশীল সমাজ ক্ষমতালোভী, স্বার্থপর এবং জনবিচ্ছিন্ন।’

খসড়া পান্ডুলিপির দ্বিতীয় অধ্যায়ে তিনি দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে বিস্তারিত বলেছেন। মঈন ইউ আহমেদ বলেন, ‘দেশে শক্তিশালী এবং ক্রিয়াশীল একটি সুশীল সমাজ দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে তাদের রাজনীতি থেকে অবসরে পাঠানোর জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। এই সুশীল সমাজের নিয়ন্ত্রণে ছিলো দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা ও ইংরেজী দৈনিক। তাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা এবং আমার অন্তত ৩ দফা বৈঠকে তারা বার বার দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করে, রাজনীতি থেকে (দুই নেত্রীকে) বিদায় করতে বলেন।’

আরও পড়ুন  ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করায় ছাত্রদল নেতাকে বহিষ্কার


ছবি: মঈন ইউ আহমেদ এর পূর্বে প্রকাশিত বই

তিনি লিখেছেন ‘সুশীলদের দুষ্ট ফাঁদে পা দেয়াটা ছিলো সেনাপ্রধান হিসেবে আমার ভুল সিদ্ধান্ত। পরবর্তীতে দেখলাম, এরা শুধু নিজের স্বার্থই বোঝেন, জনগণের কথা কিছুই ভাবেন না। এরা অত্যন্ত লোভী, পদ-পদবী এবং নানা সুযোগ সুবিধার জন্য এদের নিয়মিত তদবির আমার মোহভঙ্গ ঘটায়।’

দুই নেত্রীকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মঈন ইউ আহমদ বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার কোন যৌক্তিক এবং আইনগত কারণ আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কিন্তু বেগম জিয়াকে এককভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব ছিলো না। তখন আমরা পুরনো কিছু মামলা দিয়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করি। কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে আমরা সুস্পষ্ট দূর্নীতির অভিযোগ পাই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যে কোন বিচারেই মামলাযোগ্য ছিলো।’

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইলে খালেদার মুক্তি: শেখ হাসিনা

মঈন ইউ আহমেদ তার খসড়া পান্ডুলিপিতে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে যেতে সম্মত ছিলেন। তার কাছে তার দুই সন্তানের নিরাপত্তাই মুখ্য ছিলো। কিন্তু শেখ হাসিনা রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে যেতে অস্বীকৃতি জানান। মূলতঃ শেখ হাসিনা একাই দাবার ছক উল্টে দেন।’ তিনি লিখেছেন, ‘এখন বুঝি সুশীল সমাজ কেন তার (শেখ হাসিনার) উপর ক্ষুদ্ধ ছিলো। আদর্শের এবং নীতির প্রশ্নে তাকে টলানো অসম্ভব।’

শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা লিখতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমি সৌভাগ্যবান, আমি বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা দু’জনের অধীনেই সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছি।

দু’জনের পার্থক্য, দেশ পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে বইয়ে দীর্ঘ আলোকপাত করা হয়েছে। দু’জনের পার্থক্য করতে গিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বিচক্ষণ, দেশপ্রেমিক। দেশের প্রশ্নে তিনি অটল।’ অন্যদিকে বেগম জিয়াকে সাবেক সেনাপ্রধান অস্থির পরিবারকেন্দ্রিক এবং প্রতিহিংসাপরায়ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। জেনারেল তার পান্ডুলিপিতে লিখেছেন, ‘দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহনের এক আশ্চর্য ক্ষমতা শেখ হাসিনার আছে। অন্যদিকে বেগম জিয়া সিদ্ধান্ত দিতে কালক্ষেপনের নীতি গ্রহন করতেন।’

আরও পড়ুন  'দেশের সেবা যে কোনোভাবে করা যায়, এজন্য মন্ত্রী হওয়ার প্রয়োজন নাই'

এ প্রসঙ্গে জেনারেল বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। খসড়া পান্ডুলিপিতে মঈন ইউ আহমেদ বলেন, ‘বেগম জিয়ার প্রধান সমস্যা হলো তার ছেলে তারেক জিয়া।’ বেগম জিয়ার প্রতিহিংসা পরায়ণতাই তার দেশত্যাগের প্রধান কারণ বলে গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মঈন ইউ আহমেদ তার খসড়া গ্রন্থে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুর্নীতি এবং দূর্বৃত্তায়নকে উন্নয়নের অন্যতম সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মঈন ইউ আহমদ বইতে লেখেন, ‘শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার কোন যৌক্তিক এবং আইনগত কারণ খুঁজে পাইনি। কিন্তু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে আমরা সুস্পষ্ট দূর্নীতির অভিযোগ পাই। খালেদা রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে যেতে সম্মত ছিলেন। শেখ হাসিনা রাজি হননি, আদর্শ ও নীতির প্রশ্নে তাকে টলানো অসম্ভব। দেশের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অটল।’

Spread the love
  • 4.6K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4.6K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।