এবার ছবিও আঁকলেন বহু গুণে গুণান্বিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা

0

সময় এখন ডেস্ক:

শিল্পী-মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদের ছবি আঁকা প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় তিনি তিনি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের চিত্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, ‘শাহাবুদ্দিন এক মন্ত্রমুগ্ধকর চিত্রকর। তার চিত্রে মূর্তমান হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযুদ্ধকে গর্ব আর বঙ্গবন্ধুকে আদর্শ মেনে চিত্রকলার চর্চা করে চলেছেন এই শিল্পী।’

শাহাবুদ্দিন আহমেদের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা টেনে তিনি বলেন, তাকে আমি ছোট থেকেই চিনি, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জানতাম। আর আমাদের বাসাও পাশপাশি। আমরা ধানমণ্ডিতে আর সে কলাবাগানে। তার বহু চিত্রকর্ম আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। সে বাংলাদেশের জন্য সম্পদ। সবচেয়ে বড় কথা, সে একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার এই পরিচয় তুলির আঁচড়ে সে নিয়মিত প্রকাশ করে চলেছে।’

নিজের প্রবাস জীবনে শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ১৯৮০ সালের ঘটনা। আমি ও রেহানা (শেখ রেহানা) তখন লন্ডনে। শাহাবুদ্দিন আমাকে ফোন করে দেখা করতে এসেছিল। সে বছরের ১৬ আগস্ট বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাজ্যের সর্বদলীয় একটি কমিটির সভায় আমি প্রথম রাজনৈতিক বক্তৃতা দেই। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর একটি ছবি ছিল। কাঠ পুড়িয়ে কয়লা, কাগজ পুড়িয়ে ছাই এবং পেস্টের মিশেলে শাহাবুদ্দিন সেই ছবিটি এঁকেছিল। এটাই প্রমাণ করে ও একজন প্রকৃত শিল্পী। যে কি-না যে কোনো উপাদান দিয়ে ছবি আঁকতে পারে। ওকে ছোট ভাই হিসেবে আমি ও রেহানা সব সময় স্নেহ করি।’

বক্তৃতার পরে প্রধানমন্ত্রী ছবিগুলো ঘুরে দেখেন। সে সময় রঙ-তুলি হাতে নিয়ে বলেন, ‘আমি যে ভালো ছবি আঁকতে পারি, সেটা তোমরা জানো? স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই ছবি আঁকতে উদ্যত হন। একটি ছবিও আঁকেন।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। যোগ্য জননেত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় সর্বদাই তুলে ধরেছেন নিজ কাজে। তাঁর চিত্রকল্পের পরিচয় আগেও পাওয়া গেছে। কয়েকবছর আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর আকা একটি ছবি ভাইরাল হয়। ছবিটি এঁকেছিলেন ১৯৯৪ সালে। সে সময় তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী।

সেই ছবিটি বছর চারেক আগে প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকন। আর ছবিটি ক্যামেরায় ধারণ করেছিলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

ছবিটির ভাষা ছিল, টইটুম্বর জলের ওপর তীরে ভেসে থাকা কয়েকটি নৌকা। আকাবাঁকা গাঁয়ের মেঠো পথ ছুটে গেছে অজানার খোঁজে। দিগন্তের গায়ে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ বৃক্ষরাজি। আকাশে জমাট বেঁধেছে মেঘমালা। মেঘের কালোরূপ যেন ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামার সঙ্কেত দিচ্ছে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।