শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না পাইলট আবিদকেও!

0

সময় এখন ডেস্ক:

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটির পাইলট আবিদ সুলতান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাইলট আবিদ সুলতান নেপালের নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এয়ারলাইন্সটির জিএম (পিআর) কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এয়ারফোর্স ব্যাকগ্রাউন্ডের পাইলট আবেদ সুলতান আগে বেসরকারি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজে ছিলেন। বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ক্রু ছিলেন খাজা ও নাবিলা। গতকাল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইমরান আসিফ জানিয়েছিলেন, ক্যাপ্টেন আবেদ সুলতানের ৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ফ্লাই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

জানা গেছে, ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলরুম (এটিসি) থেকে পাইলট আবিদকে অবতরণের ভুল নির্দেশনা দেয়া হয়। কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথোপকথনের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, কন্ট্রোলরুম থেকে বিমানের পাইলটকে বিমানবন্দরের ডানদিকের দুই নাম্বার রানওয়েতে অবতরণের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। পরে আবিদ বলেন, ঠিক আছে স্যার।

আরও পড়ুন  বার্নিকাটের ‘মায়ের দোয়া’ ফোনে 'জীবনের সেরা' সেলফি

নির্দেশনা অনুযায়ী, তিনি বিমানটি বিমানবন্দরের ডানদিকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান কন্ট্রোলরুমে। কিন্তু ডানদিকে রানওয়ে ফ্রি না থাকায় তিনি আবারও কন্ট্রোলরুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় তাকে ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়। এবারে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি বর্তমান অবস্থানে থাকতে পারবেন? এ সময় পাইলট আবিদ দুই নাম্বার রানওয়ে ফ্রি করার জন্য কন্ট্রোলরুমের কাছে অনুরোধ জানান। কিন্তু তাকে আবারও ভিন্ন বার্তা দেয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর পাইলট আবিদ বলেন, স্যার আমি আবারও অনুরোধ করছি রানওয়ে ফ্রি করুন। এর পর পরই বিমানটি বিকট শব্দ করতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ২টা ১৮ মিনিটে বিমানটি ত্রিভুবন বিমানবন্দরের পাশের একটি ফুটবল মাঠে আছড়ে পড়ে।

আরও পড়ুন  বিরল রোগে আক্রান্ত মুক্তা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালো

ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ৭৮ আসনের বিমানটিতে ৬৭ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু মেম্বার ছিলেন। ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদের মধ্যে ৩৭ জন পুরুষ, ২৭ জন নারীর সঙ্গে ছিল দুই শিশু। এদের মধ্যে ৩৭ জন বাংলাদেশি। নেপালের ৩২ জন, মালদ্বীপের ১ জন এবং চীনের ১ জন ছিলেন বাকিদের মধ্যে।

ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রেমনাথ ঠাকুরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ আসনের বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় ২:২০ মিনিটে বিধ্বস্ত হয়। এসটু-এইউজি নামে নিবন্ধিত ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়েছিলো দুপুর ১:৪৩ মিনিটে।

উল্লেখ্য, নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলার বোম্বার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ-৪০০ (S2-AGU) বিমানটি এর আগেও দুর্ঘটনায় পড়েছিল। জানা যায়, ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর একবার যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ঘাসের ওপর পড়ে। সেসময় যাত্রীরা ভয়ংকর আতঙ্কিত হলেও কর্তৃপক্ষ একটি ব্রিফ দিয়ে দায় সেরেছিল।

আরও পড়ুন  বিমানমন্ত্রী জানেন না দেশের বিমানবন্দরগুলোর ওয়েবসাইট নেই‍!

জানা যায়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের এয়ারক্রাফটটি ২০১৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ৭৪ জন যাত্রী নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি রানওয়ের এক প্রান্তে ইউটার্ন নিয়ে যখন পার্কিং বে-তে আসছিল তখন একটি চাকা আটকে যায়। সেদিন ঢাকা থেকে দ্রুততার সঙ্গে হেলিকপ্টারযোগে ইউএস-বাংলার দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে প্রকৌশলীরা বিমানটি পার্কিং বে-তে ফিরিয়ে আনেন এবং ফিরতি যাত্রীদের নিয়ে যথারীতি ঢাকায় ফিরে আসে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।