ময়মনসিংহে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে লাশ: প্রিয়জনদের কবর শূন্য!

0

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:

শফিউর রহমান, ঢাকায় একটি ব্যাংকে চাকুরি করেন। বাবা-মা গত হয়েছেন আগেই। গ্রামে কিছু সম্পত্তি আছে। দেখাশোনা করতে মাসে দু’মাসে একবার বাড়িতে যান। গত বৃহস্পতিবার অফিস শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ি গেছেন, শুক্রবার জুমার পরে বাবা-মা’র কবর জেয়ারত করতে গিয়ে দেখেন পাশাপাশি দু’টো কবরে বড় আকারের গর্ত! ঘাবড়ে গিয়ে লোকজন ডেকে এনে দেখেন, ভেতরটা ফাঁকা, কিছুই নেই!

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়ন এবং আশে পাশের এলাকায় এভাবেই কবর থেকে লাশ (কংকাল) তুলে নিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে একটি চক্র। সম্প্রতি এমন খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছে ওই এলাকা। কবর থেকে প্রিয়জনের লাশ (কংকাল) চুরির এই ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।

জানা যায়, লাশ বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে ময়মনসিংহে আকির হোসেন, রাসেল মিয়া আর হযরত আলী নামে ৩ জনের বিবাদ হয়। এর পরই লাশ চুরির ঘটনা ফাঁস হয় ময়মনসিংহে। লাশ বিক্রির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তাদের ঝগড়া শুনতে পান ভাংনামারী ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে নয়ন মিয়া। এ চক্রের ৩ জনের বাড়িই তার এলাকায়। তিনি রবিবার বাড়িতে তার ভাই ফয়সাল ইসলামকে ফোনে এ তথ্য জানান।

নয়ন মিয়ার দাদা ওয়াহেদ আলী ও দাদী কদরবানুর কবরে লাশ আছে কী-না জানতে চান? পরিবারের লোকজন ছুটে গিয়ে দেখেন, দুটি কবরেই দুই-আড়াই ফুট করে গর্ত (ফাঁকা)। কবরে লাশ নেই! এরপর ছুটে আসেন আত্মীয়-স্বজনও। এরপরেই স্বজনের লাশের সন্ধানে চলে কবর খোঁড়াখুঁড়ি। এরপরে কুলিয়ারচর গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী হাসনা আক্তারের কবর খুঁড়ে লাশ পাওয়া যায়নি। তিনি মারা যান প্রায় ২ বছর পূর্বে। ৩ বছর পূর্বে মারা যান মৃত একিন আলীর পুত্র মোর্শেদ আলী। তার কবরেও লাশ নেই।

এই চক্রের লাশ চুরির ঘটনা শুনে ভাংনামারী ইউনিয়নের হাজী আবদুল মজিতের ছেলে আবুল হাসাদ বাচ্চু ছুটে যান মায়ের কবরে। কবরের মাথার অংশে দুই-আড়াই ফুট ফাঁকা দেখে চমকে উঠেন। মায়ের লাশ আছে-কী না নিশ্চিত হতে, গ্রামবাসীকে নিয়ে কবরের মাটি সরিয়ে দেখেন লাশ নেই। স্ত্রীর লাশ নেই এ কথা শুনেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন হাজী আবদুল মজিদ।

বাচ্চু জানান, তার মা নুরজাহান বেগম প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মায়ের শোক ভুলতে পারছেন না, এবার মায়ের লাশও নেই। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দিনে দুবার মোনাজাত করতাম।

গ্রামবাসীর ধারণা, বিশেষ ধরনের কোন যন্ত্র দিয়ে পুরো লাশ এ ফাঁকা অংশ দিয়েই সহসায় চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে এ চক্রটি।

গজারিয়া গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে আবদুর রাজ্জাক জানান, তার ভাই আবু চান ও সালেহা খাতুনের কবরেও লাশ নেই। একই গ্রামের মৃত বাছির উদ্দিনের স্ত্রী জুবেদা খাতুনের কবরেও লাশ নেই।

কবর থেকে প্রিয়জনের লাশ (কংকাল) চুরি হওয়ার ঘটনায় ছড়িয়ে পড়ায় এবার প্রিয়জনের ‘লাশ রক্ষা’য় পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন ফুঁসে উঠছে ইউনিয়নবাসী।

Spread the love
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    25
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।