‘শেষ নবী’ ধারা পরিবর্তন বিতর্ক: নওয়াজ শরীফের ওপর জুতা নিক্ষেপ (ভিডিও)

0

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

খাজা মোহাম্মদ আসিফ, পাকিস্থানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে কালি নিক্ষেপের একদিন পর আজ রবিবার লাহোরে দলের সভা চলাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ওপর জুতা ছুঁড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। দুই ক্ষেত্রেই হামলাকারীরা জানিয়েছেন, পাকিস্থানে মুসলিম বলে স্বীকৃতি পেতে নবী মুহাম্মদকে উল্লেখ করে যে ধারা আছে, তা বদলানোর চেষ্টার বিরুদ্ধেই এই ‘প্রতিবাদ’।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুতাটি নওয়াজ শরিফের কাঁধে লাগে।

পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী যখন ভাষণ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেই সময় এক ছাত্র শরিফের খুব সামনে চলে আসেন। তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে হঠাৎই জুতা ছুঁড়ে মারেন। ওই ছাত্রের সঙ্গে আরও একজন ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীরা ওই ছাত্র ও তার সঙ্গীকে ধরে ফেলেন। তারপর উত্তম মধ্যম দেন সভাস্থলেই। এই ঘটনার পর অবশ্য শরিফ তার কর্মসূচি বন্ধ করেননি। সংক্ষিপ্ত ভাষণের পর সভাস্থল ছেড়ে চলে যান।

১৯৭৪ সালে পাকিস্থানে দ্বিতীয় সংবিধান সংশোধন হয়। এর ফলে পাকিস্থানে তারাই মুসলিম হিসেবে স্বীকৃত, যারা হযরত মুহাম্মদ -কেই শেষ নবী বলে স্বীকার করেন এবং নবী মুহাম্মদের কথাই শেষ কথা বলে মানেন। এই আইনের ফলে মুসলিম সমাজের আহমাদিয়া ধারাটিকে আর মুসলিম বলে স্বীকৃতি দেয়া হয় না সে দেশে। ঊনবিংশ শতকের শেষ দিকে এই সমাজ বা ধর্মীয় আন্দোলনের ধারাটির জন্ম। তারা মনে করেন, মুহাম্মদের পরেও নতুন নবীর জন্ম হতে পারে, যদিও তারা কেউই মুহাম্মদকে ছাপিয়ে যাবেন না।

পাকিস্থানের নির্বাচনী বিধি অনুযায়ীও, যে কোনও মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় মুহাম্মদকে শেষ নবী মেনে সই করতেই হয়। অমুসলিম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অবশ্য প্রযোজ্য নয়।

সম্প্রতি পাকিস্থানের নির্বাচন বিধি সংশোধন প্রক্রিয়ার মধ্যেই অভিযোগ ওঠে, নওয়াজ শরিফ ও তার ক্ষমতাসীন দল ‘পাকিস্থান মুসলিম লিগ-নওয়াজ’ (পিএমএল-এন) ‘শেষ নবী’ সংক্রান্ত বিধিটি বদলাতে চাইছে। এই অভিযোগ তুলেছে পাকিস্থানের বেশ কিছু ধর্মীয় দল। যার মধ্যে রয়েছে তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্থান। পিএমএল-এন অবশ্য এই পরিবর্তনের অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে।

নওয়াজকে জুতা ছোঁড়ার আগের দিন অর্থাৎ শনিবার পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে দলীয় কর্মীদের সভায় ভাষণ দেয়ার সময় পাকিস্থানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফের মুখে কালি ছিটিয়ে দেন এক ব্যক্তি। সভা মঞ্চের খুব কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন লম্বা দাড়িওয়ালা মধ্যবয়স্ক ওই ব্যক্তি। আসিফ মঞ্চে ভাষণ দেয়া শুরু করতেই তাকে লক্ষ্য কালি ছুঁড়ে মারেন তিনি। দলীয় কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে সঙ্গে ধরে ফেলেন। মারধর করার পর অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা।

বিরোধীরাই ওই ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে এমন কাণ্ড করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন আসিফ। বলেন, ‘ওই লোকটাকে আমি চিনি না। মনে হচ্ছে, বিরোধীরা কিছু টাকাপয়সা দিয়ে লোকটাকে কালি ছেটাতে বলেছে। তবে লোকটাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। পুলিশকে বলব ওই ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে।’

অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম ফৈজ রসুল। সে কোনও রাজনৈতিক দলের নয়।

পুলিশের দাবি, জেরায় রসুল তাদের জানিয়েছে, দেশের সংবিধানে নবী মুহাম্মদের শেষ কথা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল আসিফের দল। আর সেই প্রচেষ্টা শুধু তার নয়, লাখ লাখ পাকিস্থানির ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে। এই প্রতিবাদেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে তিনি কালি ছিটিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

Spread the love
  • 34
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    34
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।