পুলিশকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি: রিক্সাচালকের অন্ডকোষে লাথি ও বেদম প্রহার!

0

সময় এখন ডেস্ক:

‘পুকুর কিংবা সাগরচোরদের আমরা হাত তুলে সালাম দিই, আর খেটে খাওয়া মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি, গায়ে হাত তুলি কারনে অকারণে। কারন তাদের কিছু করার ক্ষমতা নাই।’ খুব শ্লেষ নিয়ে কথাগুলো প্রতিবেদককে বলছিলেন স্থানীয় এক দোকানি। ঘটনাটি এক রিক্সাচালক পুলিশ কর্তৃক প্রহৃত হওয়া নিয়ে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা না দেয়ায় এক রিক্সাচালককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। রবিবার দুপুরে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জামগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও রিক্সা শ্রমিকরা প্রায় ঘন্টাব্যাপি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।

আহত রিক্সাচালকের নাম আব্দুল মালেক (৩২)। তিনি বগুড়া জেলার আদমদিঘি থানার দরিয়াপুর গ্রামের আফজাল সরদারের ছেলে। সপরিবারে জামগড়ার কাঁঠালতলা এলাকার ওহাব মিয়ার ভাড়াটিয়া মালেক রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জের সেই দুই খুনে কুকুর আটক

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার দুপুরে আব্দুল মালেকের কাছে নুরুল আমিন নামের এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য চাঁদা দাবী করেন। এসময় ওই রিক্সাচালক মালেক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ সদস্য তাকে লাথি ও বেদম প্রহার করে। এ সময় শরীরের স্পর্শকাতর জায়গা (অন্ডকোষ)-এ লাথি লেগে মালেক অচেতন হয়ে পড়লে পুলিশ ও এলাকাবাসী মিলে তাকে স্থানীয় নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে জামগড়া এলাকায় ওই রিক্সাচালকের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যার জের ধরে স্থানীয় জনতা ও রিক্সাচালকরা টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে প্রায় ১ ঘন্টা পর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় নারী ও শিশু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সাকলাইন মোসাদ্দিক জানান, বর্তমানে আব্দুল মালেকের অবস্থা শঙ্কামুক্ত। তবে অন্ডকোষে গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হবে।

আরও পড়ুন  মসজিদের মাইকে সেহরির জন্য ডাকায় বিরক্ত হয়ে ইমামকে বেদম প্রহার

এ ঘটনায় নারী ও শিশু হাসপাতালে উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ সেকেন্দার আলী চাঁদাবাজির ঘটনাটি অস্বীকার করলেও ওই রিক্সাচালককে প্রহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

এব্যাপারে ঢাকা জেলা ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, ট্রাফিক পুলিশ সদস্য কর্তৃক রিকশা চালককে পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটি তিনি অবগত রয়েছেন। আপাতত আহত রিক্সাচালককে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। আর তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।