প্রতিবেদন প্রকাশ: সিএনজিতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার ৭ গুণ পর্যন্ত আদায়

0

সময় এখন ডেস্ক:

সিএনজি চালিত অটোরিক্সা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নাই। পুরনো বেবিটেক্সি উঠিয়ে দিয়ে সিএনজি গ্যাস চালিত অটোরিক্সা নামার অনুমোদন দেয়ার পর প্রথম কিছুদিন ঠিকঠাক চললেও এত বছর ধরেও সিএনজি চালকদেরকে সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাজধানীতে সিএনজি অটোরিক্সার ওপর এক জরিপে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ৭ গুণ পর্যন্ত আদায় করে চালকরা। চুক্তিতে চলাচলকারী অটোরিক্সাগুলো মিটারের ভাড়া থেকে সর্বনিম্ন ৫০ শতাংশ সর্বোচ্চ ৭১০.৮১ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।


ছবি: অ্যাপ ভিত্তিক রাইড কোম্পানিগুলোর কারনে সিএনজি চালকদের দৌরাত্ম কিছুটা কমলেও এখন আবার আগের মতোই অবস্থা

গত ১ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর ১১টি সড়কে ২৩০টি অটোরিক্সায় চলা ৪২২ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটি’র সদস্যরা। রবিবার এই প্রতিবেদনটি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। এতে জানানো হয়, যাত্রী হয়রানি নিয়ে পুলিশ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সদস্যরা পুরোপুরি উদাসীন।

অবশ্য গত বছর থেকে রাজধানীতে অ্যাপে গাড়ি ভাড়ার সেবা চালুর পর সিএনজি অটোরিক্সার নৈরাজ্য কিছুটা কমলেও আইন মেনে মিটারে যেতে এখনও রাজি হচ্ছে না চালকরা। কিন্তু এতে চালকদের বেপরোয়া মনোভাবের যে এতটা পরিবর্তন হয়নি সেটাই উঠে এসেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির জরিপে।

২০১৫ সালের ১ মে থেকে প্রথম ২ কিলোমিটার ৪০ টাকা এবং পরের প্রতি কিলোমিটার ১২ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এর আগেও ৩ বার ভাড়া বাড়িয়েও অটোরিক্সা মিটারে চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। আর সবশেষ ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর পরও কয়েকদিন মাত্র অটোরিক্সা চালকরা মিটারে চলেছে। এরপর তারা আবারও আগের মতোই চুক্তিতে যাত্রী পরিবহনে বাধ্য করেছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সদরঘাট, গুলিস্তান, প্রেসক্লাব, পল্টন, কাকরাইল, বাড্ডা, মতিঝিল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, খিলগাঁও চৌরাস্তা, ফকিরাপুল, ফার্মগেইট, মালিবাগ, মিরপুর-১০, ধানমন্ডি, এলিফেন্ট রোড, শাহবাগ, বিমানবন্দর, মহাখালী এলাকায় এই পর্যবেক্ষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

পর্যবেক্ষণের সময়ে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওইসব এলাকায় বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ বা অন্যকোন সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়েনি। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীরা বলেন, রাত ৯টার পর এবং সকাল ৮টার আগে কোনো অটোরিক্সাই মিটারে চলেনি। অতিরিক্ত ভাড়া বা চালকের পছন্দের গন্তব্যের সঙ্গে মিললেই কেবল যাত্রীর পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয়। যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় অটোরিক্সার পরিমাণ কম থাকায় চালকরা যাত্রীদের জিম্মি করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত অটোরিক্সার ৯৬ শতাংশ চুক্তিতে চলে। আর মিটারে চলা ৯১ শতাংশ চালক ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বকশিস হিসেবে আদায় করেন। যাত্রীদের চাহিদার গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৮৭ শতাংশ অটোরিক্সা। পর্যবেক্ষণকালে প্রাইভেট অটোরিক্সা ভাড়ায় যাত্রী বহন এবং ঢাকা জেলার অটোরিক্সা বেআইনিভাবে ঢাকা মহানগর এলাকায় ঢুকে যাত্রী বহন করতেও দেখা গেছে।

অটোরিক্সার সংকট নিরসনে যাত্রী কল্যাণ সমিতি ৭ দফা সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো:

# ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় মহানগরীতে ২০ হাজার করে ৪০ হাজার নতুন অটোরিক্সা নামানোর উদ্যোগ নেওয়া।

# গণমালিকানার বদলে কোম্পানি বা অ্যাপভিত্তিক অটোরিক্সা পরিচালনার ব্যবস্থা করা।

# মিটারবিহীন ও প্রাইভেট অটোরিক্সা চলাচল বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ।

# জমা ও ভাড়া বৃদ্ধি, সিলিং নির্ধারণ, মনিটরিং কমিটিতে যাত্রীসাধারণের প্রতিনিধিত্ব রাখা।

# নীতিমালা লঙ্ঘন করে চলাচলকারী অটোরিক্সা ১ বছর আটক রাখার বিধান করা।

# আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মুনাফা সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া।

# নতুন অটোরিক্সা নিবন্ধনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করা।

অবশ্য রাজধানীতে অটোরিক্সার নৈরাজ্যের অবসানের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে অটোরিক্সাগুলো অ্যাপে চালানোর উদ্যোগের খবরে। টপআইআই নামে একটি প্রতিষ্ঠান ‘হ্যালো’ নামে একটি অ্যাপ নিয়ে এসেছে। উবার এবং পাঠাওয়ে অ্যাপের মাধ্যমে যেভাবে গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাড়া করা হয় এই অ্যাপে সেভাবেই অটোরিক্সা ভাড়া করা যাবে।

১ মার্চ থেকে এই সেবা চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে চালকদের সঙ্গে টপ আই আই এর মতবিরোধে সেটি পিছিয়ে গেছে। পয়লা বৈশাখ থেকে সেবাটি চালু হবে বলে জানিয়েছে টপ আইআই।

অবশ্য ১০ মার্চ রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করে মেট্রো ট্রান্সপোর্ট আইটি সল্যুশন নামে একটি সংগঠন জানায়, তারা একটি সেবা নিয়ে এসেছে, যেখানে অ্যাপে সিএনজি অটোরিক্সা ভাড়া করা যাবে। অ্যাপে ভাড়া করা সিএনজি অটোরিক্সা সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় চলবে বলেও জানায় তারা। ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২০০টি অটোরিক্সা এভাবে চলছে এবং তাদের আয় অন্য অটোরিক্সার চেয়ে বেশি।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।