আপনি জানেন কি: হজ থেকে বছরে সৌদি আরবের আয় কত?

0

পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলমান ধর্মাবলম্বী মানুষ প্রতি বছর হজ করতে সৌদি আরবে যান। এছাড়াও বছরজুড়ে ওমরা তো আছেই। হজের সময় দেশটির আর্থিক লেনদেনের হার অনেক বেড়ে যায়। অনেকের মনেই এই প্রশ্নটা আসে যে, যারা হজ আর ওমরা করতে যান, তাদের কাছ থেকে সৌদি সরকার আসলে কী পরিমাণ অর্থ আয় করে? সৌদি আরবের অর্থনীতির কত ভাগ এই রোজগার থেকে আসে?

অর্থের অংক বের করতে গেলে প্রথমেই দেখা দরকার হজ করতে ঠিক কত সংখ্যক মুসলমান সৌদি আরবে যান? ২০১৬ সালে মোট ৮৩ লাখ মানুষ হজ করতে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ ওমরা সম্পন্ন করেন।

এখানে দুটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমত, বছরে একটা নির্দিষ্ট সময়েই হজ করা যায়। আর দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দেশ থেকে কত মানুষ হজে যাবেন, তার একটা কোটা নির্ধারণ করে দেয় সৌদি আরব। দেশটির বাসিন্দাদের একটা বড় অংশও কিন্তু হজে যান। যদিও তারা বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতেই পারেন। ২০১৬ সালে সৌদি আরবের যত বাসিন্দা হজে গিয়েছিলেন, সেই সংখ্যাটা অন্যান্য দেশ থেকে আসা মুসলমানদের সংখ্যার প্রায় অর্ধেক। কিন্তু গত ১০ বছর ধরেই মোটামুটিভাবে হাজিদের এক তৃতীয়াংশই সৌদি আরবের বাসিন্দা। এর একটা কারণ মক্কা তাদের খুব কাছে। তাই ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে স্থানীয়দের অনেকে হজ পালন করেন।

আরও পড়ুন  ধর্মত্যাগী মুফতী মাসুদের মুখোশ খুলতে গিয়ে পাজামা খুলে গেলো আরেক ইমামের (ভিডিও)

হজে একটা নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়া গেলেও সারা বছর ধরে ওমরা করতে যাওয়া যায়। ২০১৬ সালেই প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ওমরা করতে গিয়েছিলেন। নানা দেশ থেকে যারা সৌদি আরবে গেছেন, তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই গেছেন ওমরা করতে।

৭ বছর আগে ওমরা করতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৪০ লাখের কাছাকাছি। সৌদি আরবের এক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ৪ বছরের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ২০ লাখে দাঁড়াবে।

২০১৬ সালে হজ থেকে সৌদি আরবের সরাসরি রোজগার হয়েছিল প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার। দেশটিতে যাওয়া হজযাত্রীরা সেখানে ২৩০ কোটি ডলার খরচ করেছিলেন। এই অর্থের একটা বড় অংশ কিন্তু সৌদি অর্থনীতিতেই যোগ হচ্ছে।

মক্কার চেম্বার অব কমার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাইরের দেশ থেকে আসা মুসলমানরা মাথাপিছু ব্যয় করেন চার হাজার ৬০০ ডলার। স্থানীয়রা মাথাপিছু প্রায় এক হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় করেন।

আরও পড়ুন  হজ করতে গিয়ে কাবায় তাস খেলায় মগ্ন ৪ নারী!

একেক দেশ থেকে আসা হজযাত্রীদের জন্য আবার একেক রকম খরচ। যেমন ইরান থেকে আসা মানুষদের মাথাপিছু ৩ হাজার ডলার খরচ লাগে। এর মধ্যে যাত্রা, খাওয়া, কেনাকাটা সব খরচই ধরা হয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্থানের যাত্রীদেরও মোটামুটি একই রকম খরচ হয়।

ইরান থেকে আসা এক হজ যাত্রী নাম উল্লেখ না করার শর্তে বিবিসির ফার্সি বিভাগকে জানিয়েছেন, এ বছর তার হজের বাজেট প্রায় ৮ হাজার ডলার। এর মধ্যে তার ব্যক্তিগত খরচও ধরা আছে। কোনও না কোনওভাবে সেটা সৌদি অর্থনীতিতেই প্রবেশ করছে।

হজে বিভিন্ন দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কোটা সবচেয়ে বেশি। সেখান থেকে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ প্রতি বছর হজে যান। এটা মোট হজযাত্রী সংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ। এরপরেই রয়েছে পাকিস্থান (১১%), ভারত (১১%), বাংলাদেশ (৮%)। নাইজেরিয়া, ইরান, তুর্কি, মিশর -এই দেশগুলোরও কোটা মোটামুটি একই রকম।

আরও পড়ুন  রমজান মাসে কোরান তেলাওয়াতের ফযিলতসমূহ | শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ধারণা করছে, তেল উৎপাদন কমানোর ব্যাপারে ওপেক যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার শূন্যে নেমে যাবে। দেশটির সরকার এখন সেই ক্ষতিটা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। এর মধ্যে একটা বড় ক্ষেত্র হলো ধর্মীয় পর্যটন থেকে আয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Spread the love
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।