ভুয়া পুলিশ কর্তৃক হয়রানি এড়াতে কী করবেন?

0

একটি ঘটনা- রিক্সা থামিয়ে সিভিল পুলিশ পরিচয় দিয়ে আইডি দেখিয়ে এক নারীকে হয়রানি করা হয়েছে। এরকম অবস্থায় বেশ কিছু কাজ করা যেতে পারে যা একে একে লিখছি:

১. প্রথম কাজ হচ্ছে, কোন অবস্থাতেই সাহস হারানো যাবেনা। মনে রাখুন, অপরাধী মনের দিক থেকে আপনার চেয়ে দুর্বল।

২. সাহসের সাথে তার নাম, বিপি নং (বাংলাদেশ পুলিশ নং- অনেকটা রোল নম্বরের মত) জিজ্ঞাসা করুন। এই বিপি নম্বরটি দশ ডিজিটের, যার প্রথম ২ ডিজিট জন্মসাল ও পরের ২ ডিজিট পুলিশে যোগদানের সাল হবে, বাকি ৬ ডিজিট হবে পুলিশের দেয়া নম্বর। যেমন- আমার প্রথম ৪ ডিজিট হচ্ছে বিপি- ৮০০৯****** এখানে, ১৯৮০ জন্মসাল, ২০০৯ পুলিশে যোগদানের সাল। যদি দেখেন ৪০ বছরের দেখতে কারো আইডি শুরু হয়েছে ৯৫ দিয়ে, বুঝবেন ভূয়া। চাকুরি কতদিন এটা জিজ্ঞাসা করবেন। যদি বলে ২০ বছর, অথচ চাকুরি যোগদানের সাল ২০১৪- বুঝবেন সে মিথ্যা বলছে।

৩. যে থানা থেকে এসেছে সে থানার ওসি এবং ওই এলাকার ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের নাম জিজ্ঞাসা করবেন। এরপর ওই থানায় কল দিয়ে সেটা ভেরিফাই করে দেখবেন। বাংলাদেশ পুলিশের সব নাম্বার সম্বলিত অ্যাপ পুলিশ ফোনবুক সহজেই প্লে স্টোর থেকে নামাতে পারবেন। গুগল করে যে কোন থানার নম্বর পাওয়া যায়।

৪. সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং তার আইডি- দুটোরই ছবি তুলুন। বাধা দিলে বুঝবেন ঘাপলা আছে।

৫. প্রয়োজনে কাল্পনিক পুলিশ আত্মীয়ের সাথে জোরে জোরে ফোনে কথা বলুন। ভুয়া পুলিশ হলে ভয় পাবে।

৬. আইনে স্পষ্ট বলা আছে, গ্রেপ্তারে বাধা না দিলে কোন অবস্থাতেই কারো উপর শক্তি প্রয়োগ করা যাবেনা। আর মহিলার তল্লাশী মহিলা পুলিশ ছাড়া কেউ করতে পারবে না। কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউরে বিস্তারিত পাবেন। আসল হোক আর ভুয়া হোক, আপনার গায়ে বিনা প্ররোচনায় হাত দেবার এখতিয়ার কোন পুলিশের নেই। এরকম আচরণ করলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করুন।

৭. নিজ থানার ফোন নম্বর ইমার্জেন্সিতে সেভ করে রাখুন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সরকারী মোবাইল নম্বর এবং ওসির নম্বর আপনার ফোনে থাকাটা জরুরী। ওসি (তদন্ত) এর নম্বরও রাখুন। অন্য এলাকায় বিপদে পড়লেও নিজ থানায় জানালে তারা সহায়তা করবে।

৮. চিৎকার করুন, বাধা দিন, লোক জড়ো করুন। DO NOT become an easy prey.

৯. সেল্ফ ডিফেন্স শিখুন। এটা বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনীয়তা। বলা হয়- Exercise can add years in your life but self defense techniques can add decades. “সিটিং ডাক” এর মত বিপদের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজেকে প্রস্তুত করুন।

চিকন বুদ্ধি: পুলিশ খারাপ আচরণ করার সময় সেটা ঠেকাতে একটা কাজ করতে পারেন। ফেসবুক লাইভ অপশন আছে না? ওটা চালু করুন এবং বলুন, “আপনার আচরণ লাইভ দেখছে সবাই”। ম্যাজিকের মত কাজ দেবে।

এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, “পুলিশ কি এত কিছু করার টাইম দিবে?” হয়ত দেবে, হয়ত দেবেনা। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি কী করতে পারেন এটা জানানোই এ লেখার উদ্দেশ্য। এখন আপনি প্রতিবাদ করবেন নাকি চুপচাপ ওই শয়তানটাকে সুযোগ দেবেন- এটা আপনার সিদ্ধান্ত।

পরামর্শগুলো দিয়েছেন জনৈক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা

Spread the love
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    10
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।