রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকিতে কক্সবাজারের ১৩ লাখ মানুষ: ডব্লিউএইচও

0

বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের অধিবাসীরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা- ডব্লিউএইচও। এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের বিশেষায়িত ওই সংস্থা জানিয়েছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিরা মিলিয়ে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। উদ্বাস্তু ও জনগণকে যথাসম্ভব ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন হু’র আঞ্চলিক প্রধান।

তবে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী আর জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে দাতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার মানুষ। তাদের বেশিরভাগই মূলত কুতুপালং, বালুখালির মতো স্থানে স্থাপিত অস্থায়ী ক্যাম্পে থাকলেও আশপাশের এলাকায় স্থানী জনগণের সাথেও প্রায় ৭৯ হাজার রোহিঙ্গা বাস করছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি শক্তিশালী হয়ে উঠছে: আইএমএফ

আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পালিয়ে আসা বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হলেও তা কার্যকরের বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন। ডব্লিউএইচও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বর্ষাকালের আবহাওয়া, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় ডায়রিয়া ও হেপাটাইটিসের মতো পানিবাহিত রোগ এবং ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো সংক্রামক রোগের প্রকোপ বাড়িয়ে তুলবে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম’ চালু করেছে। এতে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আগেই দ্রুত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারীদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছে তারা। ডব্লিউএইচও’র ধারণা, আগামী বছরে আনুমানিক ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে। তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার দরকার পড়বে। এছাড়া সাধারণ আঘাতের চিকিৎসাসহ হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের জন্যও চিকিৎসা সেবার বন্দোবস্ত করা দরকার। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাও তাদের জন্য প্রয়োজনীয়।

আরও পড়ুন  খালিপেটে বেশিক্ষণ থাকা রক্তে সুগার বাড়ায়!

সুস্থতার পূর্বশর্তগুলো নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে ক্ষেত্রপাল বলেন, ‘পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বাসস্থানের সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এরকম পরিবেশে খুব সহজেই সংক্রামক ও পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে।’

নিরুপায় শরণার্থীদের বাংলাদেশে আসার ৬ মাস পরে গত সোমবার ডব্লিউএইচও’র কাছ থেকে এই পরামর্শ এলো। তারা বলছে, ঝুঁকির মধ্যে থাকা কক্সবাজারের জনগোষ্ঠী এখনও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো পাওয়াও তাদের জন্য অসম্ভব উঠেছে।

ডব্লিউএইচও-এর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পরিচালক পুনাম ক্ষেত্রপাল সিং বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, কলেরা, হাম ও ডিপথেরিয়ার মতো রোগের ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে। তবে এখনও অনেক কাজ বাকি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সমস্যাও সামনে আসছে।’

আরও পড়ুন  দুদকের হটলাইন: অভিযোগ করুন সরাসরি

সমস্যাকে ‘পাহাড় সমান’ আখ্যা দিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরামর্শ দিয়েছে, নতুন করে সৃষ্টি হওয়া সংকট মোকাবেলায় ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন পড়বে দাতাদের বাড়তি সহযোগিতার। তাদের সহায়তায় ঝুঁকির মধ্যে থাকা জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।