বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ ও আমদানি নিষিদ্ধ কন্ডমসহ শিবির নেতা আটক!

0

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর বাজার এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং আমদানি নিষিদ্ধ নিম্নমানের কন্ডমসহ জামায়াতে্ ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের স্থানীয় এক নেতাকে আটক করেছে র‌্যাব।

বুধবার রাতে ফরিদপুর র‌্যাব-৮ ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে ২ হাজার বোতল যৌন উত্তেজক ওষুধ ও ব্র্যান্ড নামবিহীন নিম্নমানের সাড়ে তিন হাজার সুগন্ধযুক্ত আমদানি নিষিদ্ধ কন্ডম আটক করে। এসময় বোয়ালমারী উপজেলা ছাত্র শিবিরের নেতা মোঃ আনিসুর রহমানকে আটক করা হয়।

ফরিদপুর র‌্যাব-৮ ক্যাম্পের উপ অধিনায়ক মেজর খান সজিবুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিক্তিতে বোয়ালমারীর সাতৈর বাজারের মসজিদ সংলগ্ন গেট ও কামারগ্রামে অভিযান চালানো হয়। এসময় কামার গ্রামের জনৈক বিভুতি সাহার বাড়িতে পাইকারি মাল রাখার গুদাম হিসেবে ভাড়া নেয়া একটি কক্ষ থেকে থেকে ব্র্যান্ড নাম ছাড়া আমদানি নিষিদ্ধ নিম্নমানের সাড়ে ৩ হাজার সুগন্ধি কন্ডম ও ২ হাজার বোতল যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয় মোঃ আনিসুর রহমান নামের ওই শিবির নেতাকে। আনিসুর শিবিরের একজন ‘সাথী’ বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন  জেনেভা ক্যাম্পের মাদক সম্রাট বিহারী পাচু অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকসহ সস্ত্রীক আটক


ছবি: ইসলামী ছাত্রী সংস্থা পরিচালিত যৌন আস্তানা থেকে আটককৃত কর্মীরা

এই যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং ব্র্যান্ড নামবিহীন সুগন্ধি কন্ডম জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার জন্য মজুদ করা হচ্ছিলো বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিপূর্বে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থা নিয়ন্ত্রিত মেসে অনৈতিক কর্মকান্ড সংগঠিত হওয়ার খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে যে সকল কর্মীকে আটক করা হয়, তাদের কাছ থেকে একই ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ ও কন্ডম পাওয়া গিয়েছিল। এই মেসগুলোতে মূলতঃ জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতাদেরকে ‘এন্টারটেইন’ করা হয় বলে রিমান্ডে ছাত্রী সংস্থার কর্মীরা স্বীকার করেছে।

সাতৈর বাজার এলাকা থেকে আটককৃত আনিসুরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক, সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ আনিসুজ্জামান ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন  ‘৭ দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত খালেদা, চোখ ফুলে গেছে’

জব্দকৃত কন্ডম এবং যৌন উত্তেজক ওষুধসমূহ বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে আসামি আনিসুর রহমানকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।