পাকিস্থানে ভালোবাসা দিবসে পার্কে ছাগল ধর্ষণ ও হত্যা!‍

1

বিশ্ব বিচিত্রা ডেস্ক:

ভালোবাসা দিবসের দিন স্থানীয় একটি পার্ক থেকে উদ্ধার হলো একটি সাদা কালো রঙের ছাগলের মৃতদেহ। সন্ধ্যায় পার্কের ভেতরে গিয়ে এক ব্যক্তি এই মৃত ছাগলটি দেখতে পান। তিনি এরপর ঘটনাটি স্থানীয়দেরকে জানান।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্থানের সাদিকাবাদ অঞ্চলে। মৃত ছাগলটির মালিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের প্রিয় ছাগলটিকে শনাক্ত করেন। পরে তিনি পুলিশকে অভিযোগ করেন যে, তার এলাকার স্থানীয় যুবক ইরফান নামের একটি যুবক আগেরদিন ছাগলটিকে পাশের মাঠে ঘাস খাওয়ানোর কথা বলে তার কাছ থেকে নিয়ে যান। এর আগেও কয়েকবার সে তার অন্য কয়েকটি ছাগল চরাতে নিয়ে গিয়েছিল। তাই এবারও ছাগলটির মালিক আসিফ আপত্তি করেননি, ছাগলটির দড়ি ইরফানের হাতে তুলে দেন।

এর পর বিকেলেও ছাগলটিকে ইরফান ফিরিয়ে দিয়ে যায়নি, তিনি মাঠে খুঁজতে গিয়েও ছাগলটির দেখা পাননি। পরে ইরফানের বাড়ি গিয়ে তাকেও খুঁজে পাননি।

এদিকে স্থানীয় যে ব্যক্তি ছাগলের দেহটি প্রথমে পার্কে পেয়েছেন, তিনি এবং স্থানীয় জনগণ ছাগলের দেহের অদূরেই ৩টি ব্যবহৃত ও রক্তমাখা কনডম পেয়েছেন। ছাগলটির মৃতদেহ যে অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা ও বিশ্লেষণ করে স্থানীয় থানার পুলিশ সদস্যদের অনুমান, এই অবলা প্রাণিটিকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। উপুর্যপুরি ধর্ষণের ফলে অধিক রক্তক্ষরণে ছাগলটি মৃত্যুবরণ করেছে। এ ব্যাপারে স্থানীয়রা ইরফানকে সন্দেহ করছে বলে জানা গেছে।

ভালোবাসা দিবসে প্রাণির প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ভালোবাসাবাসিতে ছাগল ধর্ষণ করে মেরে ফেলার ঘটনাটি পশুপ্রেমি ও পশুকামিদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে বেশ কিছু গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়।

এ ঘটনা নিয়ে ছাগলের মালি গফুর আলী আসিফ অভিযুক্ত ইরফান এবং তার বন্ধুদেরকে ছাগল ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পালিত পশু এবং পরিবারের আয়ের উৎস ছাগলকে বলাৎকার করার কারনে স্থানীয়রা ফুঁসে উঠেছেন। পুলিশও গফুর আলী আসিফের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য, পাকিস্থানের হাইকোর্ট ভালোবাসা দিবস (ভ্যালেন্টাইন্স ডে)’র উৎসব নিষিদ্ধ করেছে সম্প্রতি। পরিবর্তে একে ভাই-বোন দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বলা হয়েছে, এটি মুসলিম সংস্কৃতি নয়, এই কারণ দেখিয়ে আদালত এই রায় দেয়। এই ঘোষণার ফলে তাৎক্ষনিকভাবে জনসমক্ষে ভ্যালেন্টাইন্স ডে সম্পর্কিত সকল অনুষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল হয়েছে। গণমাধ্যমকেও ভ্যালেন্টাইন ডে সম্পর্কিত কোন অনুষ্ঠানের সংবাদ সংগ্রহ কিংবা প্রচারণা না চালানোর নির্দেশনা দেয় আদালত। আদালতে দাখিল করা একটি বেসরকারি পিটিশনে বলা হয়েছিল, ভ্যালেন্টাইন্স ডে ইসলামী শিক্ষার বিরোধী। যার ওপর ভিত্তি করে আদালত এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।