জামায়াতের গোপন অস্ত্র কারখানা থেকে দেশিয় স্নাইপার রাইফেলসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার

0

স্থানীয় সংবাদদাতা:

মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা চরাঞ্চলের গজারিয়াকান্দি এলাকায় জামায়াতের গোপন আস্তানায় একটি অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান মিলেছে। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গুলি এবং অস্ত্র তৈরীর সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে লং ব্যারেল স্নাইপার রাইফেলের মতো ভয়ংকর মারণাস্ত্রও। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, চরকেওয়ার গজারিয়াাকান্দি এলাকায় জামায়াতের কর্মী মিজানুর রহমানের নিজ বাড়িতে স্থাপিত একটি কারখানায় অস্ত্র তৈরী করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে- গোপন সূত্রে এমন খবর জানতে পারে পুলিশ। পরে আঁটঘাঁট বেঁধে রবিবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। উক্ত অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরী ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন  ৯০টি পেট্রল বোমাসহ বিএনপি-শিবিরের ৩ নেতা-কর্মী গ্রেফতার

গোপনে স্থাপিত ওই অস্ত্র তৈরির কারখানার মূল কারিগর মিজানুর রহমান (৩৮) ওই গ্রামের খোরশেদ দিদারের ছেলে। সে নিজ বাড়িতে অস্ত্র তৈরির এই কারখানা গড়ে তুলেছিল। অস্ত্র তৈরীতে মিজান কারিগর দীর্ঘদিন ধরেই পারদর্শিতা অর্জন করেছিলো। অর্ডার নিয়ে চাহিদা মোতাবেক অস্ত্র তৈরী করতে পারতো বলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তার কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে আসতো দুষ্কৃতিকারীরা। মিজান জামায়াত শিবিরের নাশকতা সৃষ্টিকারী কাজে অস্ত্র সরবরাহ করতো বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। শিবিরের রাজনীতির সাথে এক সময় সম্পৃক্ত থাকা এই মিজান মুন্সীগঞ্জ জামায়াতের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অত্যন্ত ‘আস্থাভাজন’ বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।

জামায়াতের সন্ত্রাসী মিজানের কারখানা থেকে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামাদির মধ্যে রয়েছে- দেশে তৈরি ১টি লং ব্যারেলের স্নাইপার রাইফেল, দেশে তৈরী ২টি ওয়ান শ্যুটার গান, ১ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪ রাউন্ড শটগানের গুলি, পিস্তলের ২টি ব্যবহৃত গুলির খোসা, স্নাইপার রাইফেলের ব্যারেল তৈরীর ২টি পাইপ, ১টি ছোরা ও ১টি চাপাতি, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ১টি ড্রিল মেশিন, পিস্তল তৈরীর ২টি স্টিলের তৈরী ডাইস, আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ৬টি স্প্রিং এবং লাগেজ ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি।

আরও পড়ুন  রহস্যের গন্ধ: মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার খুন

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র তৈরির কারখানায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামী মিজানুর রহমান পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে সদর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পলাতক মিজানুর রহমানসহ তার সহযোগিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানায়, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।