যে বাসে রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে, সেটি পাচ্ছে তার পরিবার

0

টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে চলন্ত বাসে জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিলো। দেশব্যাপী প্রতিবাদের ঝড় তোলা সেই নৃশংস ঘটনার পর বিচারিক প্রক্রিয়ার পর আদালত সেই বাসটি রূপার পরিবারকে দিয়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া এক আসামিকে করা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও পাবে রূপার পরিবার।

সোমবার এই মামলায় বাসের চালক ও তার সহযোগীসহ ৪ জনের ফাঁসি, ১ জনের ৭ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি এই আদেশও দিয়েছেন টাঙ্গাইলের একটি আদালত।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহগামী ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা-মেট্রো-ব-১৪-৩৯৬৩) এই তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে এই বাসটির মালিকানা দেয়া হচ্ছে রূপার পরিবারকে।


ছবি: রূপাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছিল ‘নিরাপদ’ এবং ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ কামনা’ করা এই বাসটিতে

আরও পড়ুন  রাজাকার 'নুলা মুসা'র বিরুদ্ধে মামলা!

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিয়া যাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন তারা হলেন ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান, তার সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর। অপর আসামি ওই পরিবহনের সুপারভাইজার সফর আলীকে দেয়া হয় ৭ বছরের কারাদণ্ড। সেই সাথে সফর আলীকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গত ১৫ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ১০ দিন পর তা গ্রহণ করেন বিচারক। আর মাত্র ১৪ কার্যদিবসে মামলার শুনানি শেষ করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখেন বিচারক। এই রায়ে সন্তোষ জানিয়ে রূপার ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, ‘রূপা হত্যার সুবিচার পেয়েছি। আমরা আর কোন রূপাকে হারাতে চাই না। এ রায়ের মধ্যে দিয়ে দেশে নারী জাতি এখন নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছানোর সাহস পাবে।’

আরও পড়ুন  দুই স্ত্রী'র সাথেই থাকতে চান আরাফাত সানি!

আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানি করতে হবে। এরপর আপিল, রিভিউ এবং সবশেষে দণ্ডিত হলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ আছে আসামিদের। রূপার ভাই এই সব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান।


ছবি: জাকিয়া সুলতানা রূপার কফিন বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা, ইনসেটে রূপা

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী আইনজীবী আতাউর রহমান আজাদ ও এস আকবর খান দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করায় সন্তোষ জানিয়েছেন। আজাদ বলেন, ‘এত অল্প সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের মামলার রায় ইতিপূর্বে লক্ষ্য করিনি। যারা ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতায় লিপ্ত তারা এই রায় থেকে শিক্ষা নেবে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন  মেয়ের ধর্ষণের বয়ান বদলাতে ঘুষ নেয়া বাবা-মা'র বিরুদ্ধেও মামলা!

তবে আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী শামীম চৌধুরী দয়াল ও দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, তারা ন্যয়বিচার পাননি। শামীম বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে যেসব সাক্ষ্য প্রমাণ উত্থাপন করেছে সেখানে দোষ প্রমাণ হয়নি। যে আলামত রাষ্ট্রপক্ষ সংগ্রহ করেছে সেখানেও রূপার হত্যা ও ধর্ষণ প্রমাণ হয়নি। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।