পথশিশুদের ফুল বিক্রির টাকা ছিনিয়ে আইসক্রিম খেল পুলিশ!

0

মাত্র একদিন আগেই বঙ্গভবনের সামনে ‘অকারণে’ এক কিশোরীকে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এবার পথশিশুদের কাছ থেকে টাকা কেড়ে নিয়ে সেই টাকায় আইসক্রিম খাওয়ার অভিযোগের মুখে পড়ে আবারও সমালোচনার শিকার পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে একুশে বইমেলার বাইরে। সেখানে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুই পথশিশুর ফুল বিক্রির টাকা কেড়ে নিয়ে আইসক্রিম খাওয়ার অভিযোগ উঠে। তবে সাধারণ মানুষের চাপের মুখে পরে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দোয়েল চত্বরের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন দাবি করেছেন, শিশুদের কাছ থেকে টাকা নেননি পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনাটি অন্য রকম।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কয়েকজন প্রতিবেদককে জানান, টিটু নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা ফুল বিক্রেতা দুই পথশিশুকে মারধর করে তাদের কাছ থেকে ৩২০ টাকা কেড়ে নেন। পরে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের মূল গেটে প্রতিবাদী মানুষ ও ‘উৎসাহী জনতা’র চাপের মুখে ৪শ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তিনি।

ভুক্তভোগী দুই শিশুর নাম তুলু ও জিহাদ। প্রতিবেদককে তুলু বলে, ‘আমরা ফুল বেচতাছিলাম। এক বেডি দাম জিগায়। আমি কইছি ৫০। বেডি কইছে ২০। পারুম না কওয়ায় ওইসুম বেডি খুব খারাপ ব্যবহার করছে, আবার জুতা দিয়া মারছে। ওইসুম পুলিশও মারছে। এক পুলিশ থাপ্পর দিছে। ওরা কয় ৫০ টেকায় বেচলে মারমু। পরে আমার ২২০ আর ওর (জিহাদ) কাছ থেইকা ১০০ টেকা কাইড়া লইয়া পুলিশ কয় ওই দৌড় দে একটা।’

‘ওরে (জিহাদ) দৌড় দিয়া ঘুরাইল, আর আমি কানতে কানতে আবার আইছি। দেখলাম কী, পুলিশ তিনটা আইসক্রিম কিইন্যা খাইয়া হালাইল! ওরা ওইসুম আমাগো গালিও দিছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অঙ্কন ঘটনাটি দেখে প্রতিবাদ জানান। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি ঘটার সময় সেখানে উৎসাহী জনতার ভীড় জমে যায়। তখন পুলিশ কর্মকর্তা চাপের মুখে টাকা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান দাবি করেন, ‘ঘটনাটি আপনি যেভাবে বলেছেন, সে রকম নয়। সেখানে পথশিশুরা ফুল বেচছিল। এক নারীর কাছে তারা ফুল বিক্রির চেষ্টা করছিল। তখন পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিলে তারা ফুলের মালা ফেলে পালিয়ে যায়। তখন কয়েকজন লোক এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্যরা তাদের পকেট থেকে নষ্ট হওয়া মালার দাম পরিশোধ করে।’

Spread the love
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।