শিবরাত্রি-ভ্যালেন্টাইন দ্বৈরথ: কোথাকার জল কোথায় ঢালবেন?

0

১৪ তারিখ মহারণ। শিবরাত্রি-ভ্যালেন্টাইন সংঘাত। ময়দান-এ-জঙ্গ। কে হারে-কে জেতে-উত্তেজনা।

না, এই মুসাবিদা চরম দক্ষিণপন্থী কোনও রাজনৈতিক দলের কেলোর কীর্তির খতিয়ান নয়। আবার পার্ক স্ট্রিটের ঝিমঝিমে আলো-আঁধারির নেশা নেশা রেস্তোরাঁয় বয়ফ্রেন্ডভাই-গার্লফ্রেন্ডবোনের রোজি রোজি চকো চকো সেলিব্রেশনের প্রতিবেদনও এই লেখা নয়। এই লেখা এক সংঘাতের গল্প, সংঘর্ষের গল্প।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে এমন মাহেন্দ্রযোগ আগে পড়েছে বলে মনে হয় না। শিবরাত্রি, যা কি না আম পাবলিকের চোখে নেহাতই ভাল বর পাওয়ার জন্য ব্রত, তার সঙ্গে ভ্যালেন্টাইন, যা কিনা কমন ভারতীয়র দৃষ্টিতে লাভারবাজির মওকা- তা একসঙ্গে! এ তো গোবিন্দ দ্বাদশী, কোদালে অমাবস্যা আর চড়ক ষষ্ঠীর একদিনে পড়ার মতো ঘটনা। রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে ঘনিয়ে ওঠা পিরিতির বাষ্প। সিঙ্গেল, ডবল, ট্রিপল- সব রকমের প্রেমিকদের জন্য বিস্তারিত বন্দোবস্ত।

সন্দেহ নেই সেদিন কলকাতা সেজে উঠবে একেবারে অনন্য সাজে। গণমুখে রটেছে, মিলেনিয়াম পার্ক, সেন্ট্রাল পার্ক, বিবিধ মল আর সাবেকি ভিক্টোরিয়ার সামনে বেলুন বিক্রেতারা শিবলিঙ্গাকৃতির বেলুন হাতে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। এথনোম্যানিয়াক ‘বেইবি’রা লালপাড়-সাদাশাড়ি গুছিয়ে রেখেছেন। সকালে পাড়ার বটগাছের নীচে অবস্থানরত নুড়িতে একঘটি বিসলেরি ঢেলেই তাঁরা বেরিয়ে পড়বেন প্রণয়-সফরে। কস্টিউম চেঞ্জ হবে কি না, তা অবশ্য জানা যায়নি।

আরও পড়ুন  ৬ বছর গৃহবন্দী শিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল-এর শেষ দুই ইচ্ছে!

অতি গুপ্তসূত্রে জানা গিয়েছে, সল্ট লেক সেন্ট্রাল পার্কের সবক’টা বট ও অশ্বত্থ গাছের তলা সেদিনের জন্য বুকড। না, কাপল-ভাইদের জন্য নয়। তাঁরা সেখানে ভিজিট মারতে পারেন, কিন্তু বসাবসি চলবে না। সেখানে অবস্থান করবেন দেবাদিদেবের একান্ত প্রতীক শিবলিঙ্গ। তাতে শুধু জল নয়, পয়সা ঢালতেও বাধ্য করবে ‘শিবরাত্রি-ভ্যালেন্টাইন উদযাপন সিন্ডিকেট’। দশ টাকার কয়েনের নীচে কোনও প্রণামী গ্রাহ্য হবে না, এমনটাও শোনা যাচ্ছে।

পাড়ার বঙ্কাদা-নেঞ্চুদা জানাচ্ছে, এবার শিব মন্দিরে মাসিমাদের জন্য আলাদা লাইন। পাড়াতুতো বোনটিসোনাদের দ্রুত ছেড়ে দিতে হবে। ভ্যালেন্টাইন ডাকছে।

গিফট আইটেম প্রস্তুতকারী সংস্থাদের তলায় তলায় প্রস্তুতি চলছে শিবঠাকুর সফট টয় বানানোর। লিঙ্গ চলবে না। সেটা সেক্স টয় ভেবে বাজেয়াপ্ত হতে পারে। কোম্পানির কর্তারা গিরেফতার হতে পারেন। প্রেমিকভাইরা প্রেমিকাবোনদের সে বস্তু কিনতে পেরে উঠবে না বলেই আগাম মার্কেট সার্ভে জানিয়েছে। তবে, ধুতরো-আকন্দ-কল্কে কাটিং দুল আর গয়না এবারের ভ্যালেন্টাইনে সুপারহিট। অনেক বয়ফ্রেন্ডভাই আবার ‘তন্ত্রা’ বা ‘সামপ্লেস এলস’-এ নন্দী সেজে মাসক্যারেড করবে বলে ষাঁড়ের মুখোসও কিনতে চাইছে। গোবলয় থেকে কড়া হুমকি এসেছে, গরু বা ষাঁড়কে ভ্যালেন্টাইনে যুক্ত করা চলবে না। গোমাতা আর ষণ্ডবাবার অপমান গেরুয়া ভারত মুখ বুঁজে সইবে না। কিন্তু এই সব হুমকির মুখে একটুও দমছে না কলকাতার মাধবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীকুল। তারা এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে গাজনের নাচ নাচবে বলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। খেলা গম্ভীর।

আরও পড়ুন  'জরুরি মিটিংয়ে আছি, বাবার লাশ আঞ্জুমানে দিয়ে দেন।'

কী হতে চলেছে সেদিন- প্রশ্ন করতেই নাম প্রকাশে ঘোর অনিচ্ছুক এক প্রেমিক জানালেন, সেদিন খরচা কম। আগের দিন উপোস থেকে গার্লফ্রেন্ডরা তেমন পয়সা খসাতে পারবেন না। তুল্যমূল্য করতে জনৈকা প্রেমিকাকে ধরা হলে তিনি জানান, দেখা যাবে কে খেতে পারে আর কে পারে না। রেস্তোরাঁ-রেস্তোরাঁয় স্পেশাল ডিশ। বিখ্যাত বং-কুইজিন ‘৬৯, ঢালিগঞ্জ প্লেস’ জানাচ্ছে, সেদিন ‘কৈলাস পরোটা’ আর ‘হিমালয় কারি’-র বন্দোবস্ত রয়েছে তাঁদের। এই খানা অবধারিত হিট। কলকাতার জগঝম্প ডিস্কোগুলোয় সেদিন সন্ধে থেকে ‘বাবা তারকনাথ’ আর ‘দক্ষযজ্ঞ’ সিনেমার গান বাজবে। রিমিক্সিং কমপ্লিট। ডিজে এসে হাত ছোঁয়ালেই হয়।

তন্ত্রগুরু জ্যোতিষার্ণব পরম ভট্টারক ১০০৮ কিলপাটকেলানন্দ ভৈরব ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, এই দিনই সেই দিন। এখান থেকে যে কাপল বিয়ে পর্যন্ত গড়াবে, তাদের উপরে সারা বছর ধরে বর্ষিত হবে কৈলাসি-আশীস। সেটাকে আবার গরমের প্রারম্ভে এসি মেশিনের বিজ্ঞাপন বলে অনেকে ভুল করছেন।

আরও পড়ুন  ভালোবাসা দিবস উদযাপন ইসলামী শরীয়াহ বিরোধী নয়: সৌদি মুফতী

ভ্যালেন্টাইন বিরোধীরাও এবারে তেমন ঘোঁট পাকাচ্ছেন না। সংগঠনের চিলেকোঠা থেকে মন্তব্য এসেছে- ”এই ভ্যালেন্টাইন দৈব-নির্ধারিত। হরগৌরীর মিলনকে কুর্নিশ জানাতেই এই সমাপতন।” যাঁরা প্রতি বছর ভ্যালেন্টাইনের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেন, সেই সব অপ্রেমিকও এ বছর প্রেমিকা জোগাড়ে মন দিয়েছেন।

হর হর মহাদেব! মনস্কামনা অপূর্ণ রাখ না বাপ!!

[সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে]

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।