নীতিগ্রস্তেরা পড়বেন না || প্রসঙ্গ: মদ-গাঁজা

0

।। সাঈদ তারিক ।।

একেবারে তরুণ বয়সে আমার মদ্যপানে হাতেখড়ি হয়েছিল মৃতসঞ্জীবনী সুরা দিয়ে। মদ্য, গঞ্জিকা ও আরও বিবিধ মাদকের প্রথম আস্বাদনের ব্যাপারে আমার ফ্রেন্ড অ্যান্ড গাইড ছিল আমার পাড়ার বন্ধু রবিন, ফিলোসফির দায়টুকু নিজের কাঁধেই রাখছি। রবিনের সাথেই এই তীব্র রসের আস্বাদন হয়েছিল প্রথম। তখন প্রায় সব আয়ুর্বেদিক ঔষধের কোম্পানিই মৃতসঞ্জীবনী সুরা/সুধা বাজারজাত করত। তবে সাধনা ঔষধালয়েরটাই সেরা ছিল। যদ্দুর মনে পড়ে মৃতসঞ্জীবনী এক বোতলের দাম ছিল ১৫ টাকা। এটি যদিও বলবর্ধক টনিক হিসাবে বাজারে আসত, কিন্তু রসিকজনেরা বিকল্প কারণবারি হিসাবে দিব্যি ব্যবহার করত।

এরশাদ দ্য গ্রেট- এর আমলে এই মৃত সঞ্জীবনী সুরা নিষিদ্ধ করা হয়। এবং এই মহান আমলেই ভারতীর মহৌষধি ফেনসিডিল গুপ্তসমারোহে ও দ্রুততার সাথে তরুণসমাজে জনপ্রিয় হতে শুরু করে। আমিও এই নীলচে-বেগুনী যৌগরসের আস্বাদ নিই।

আরও পড়ুন  সালমানের আরও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি

মহান এরশাদের আমলে আরও একটি গুণবান দ্রব্য নিষিদ্ধ করা হয়। ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ক্যানাবিস অর্থাৎ গঞ্জিকা বা গাঁজা বা সিদ্ধি… হোয়াটস ইন আ নেইম? আগে নওগাঁ জেলায় যুগ যুগ ধরে গাঁজার চাষ হতো, সারা দেশে আবগারি নামক সরকারি দোকানে নির্দিষ্ট মূল্যে গাঁজা কিনতে পাওয়া যেত। আশির দশকের শুরুতেও কমলাপুরের আবগারি থেকে তিরিশ টাকায় আধা ছটাক ও ছয় টাকায় এক ভরি গাঁজা কিনেছি আমি নিজে। এই গাঁজা সেবনেও আমার হাতেখড়ি হয়েছিল রবিনের সাথেই। তবে এটি সরকারিভাবে নিষিদ্ধ হলেও অবৈধভাবে প্রচলিত থেকেই যায় ও আমরা অব্যহতধারায় নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে এই যৌগিক ধূম্রযোগে কৈবল্য উপভোগ করতে থাকি।

একবার পেলাম একটা চরসের স্টিক ঢাবি ক্যাম্পাসে। লাইব্রেরির পেছনে সেবন করলাম সেটা। ভালো মানের ছিল সেটা। তারপর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গিয়ে জীবনানন্দের ‘হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে’ এই পংক্তির তাৎপর্য অনুভব করতে থাকলাম। চরস আরও খেয়েছি অনেক। গাঁজার তীব্র গন্ধের বদলে এর মিষ্টি সুরভি আকর্ষণীয় ছিল।

আরও পড়ুন  ডায়েট প্ল্যানে যে ১০টি গুরুতর ভুল করি আমরা!

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই পোস্ট ওইসব ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে না, স্মৃতিচারণ করছে মাত্র। কনফেশনও বলা যায়।

৯.২.১৮

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।