‘সাদা জার্সিতে নেতা হিসেবে ফিরতে পারেন মাশরাফি’

0

ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে তার দূর্দান্ত নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে নতুন টেস্ট অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ইনজুরিতে পাড়ায় নিজের মুখেই সাদা জার্সি গায়ে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন নড়াইল এক্সপ্রেস। কিন্তু পরক্ষণেই আবার বিসিবি বস তা নাকচ করে দিয়ে বলেন সে চাইলে এখনই টি-টোয়েন্টি দলে নেয়া হবে।

টেস্টে ফেরা না ফেরা নিয়ে যখন এতো কথা এ পর্যায়ে এসে ওয়ানডে অধিনায়কের সুরেই তাল মেলালেন আরেকজন। তিনি বললেন, টেস্ট ক্রিকেটেও নেতা হিসেবেই ফিরতে পারেন মাশরাফি। এখন দেখার বিষয় বিসিবি কী উত্তর দেয়।

মাশরাফির পক্ষ নেয়া ব্যক্তিটি হলেন অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত শল্যবিদ ডেভিড ইয়াং। ক্রিকেট খেলতে গিয়ে টাইগারদের ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা যতবারই হাঁটুর বড় ধরণের ইনজুরিতে পড়েছেন, ততবারই ছুটে গেছেন তার কাছে। কারণ হাঁটুর প্রথম অপারেশনটি বাদ দিলে বাকি ৬টিই করেছেন তিনি। শুধু অস্ত্রোপচার করেই ক্ষান্ত থাকেননি এই শল্যবিদ। অস্ত্রোপচার পরবর্তী পুনর্বাসন কী হবে তাও মাশরাফিকে বাতলে দিয়েছেন। হাঁটুতে মাশরাফির সবশেষ অস্ত্রোপচারটি তিনি করেছেন ২০১১ সালে। এরপর অবশ্য মাশরাফিকে আর তার শরণাপন্ন হতে হয়নি। কেননা ইয়াংয়ের ছোঁয়ায় দিব্যি সুস্থ আছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণভোমরা।

আরও পড়ুন  ভ্যাটিকানের ধর্মযাজক পেল এর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের বিচার শুরু

বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা বড্ড বেশি ইনজুরিপ্রবণ। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টটা ঠিকভাবে করতে পারেন না বিধায় এমনটা হয় ধারণা বিশেষজ্ঞদের। আর তাই মাশরাফি প্রায়ই বলে থাকেন এ দেশের চিকিৎসক-ফিজিওদের ইয়াংয়ের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নেয়ার। পারলে খেলোয়াড়দেরও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এ উদ্যোগটা নেয়নি। কিন্তু বন্ধু মাশরাফির মনের কথা জানতে পেরেই হয়তো নিজের উদ্যোগেই ঢাকায় চলে এলেন। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আরেক অকৃত্রিম বন্ধু একরাম বাবুকে নিয়ে চলে এলেন দেশে।

দেশের অর্থপেডিক্স সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সেমিনারেও অংশ নিলেন ইয়াং। মঙ্গলবার চলে এলেন মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবি কার্যালয়ে। এরপর একাডেমি মাঠে বিসিবির ফিজিও চিকিৎসকদের নিয়ে ছোট্ট একটি কর্মশালাও করলেন ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। মাশরাফি প্রসঙ্গে বললেন, মাশরাফি হচ্ছেন এমন একজন পেশাদার খেলোয়াড় যার সবটুকু নিবেদন দেশ এবং খেলা নিয়ে। তার ক্যারিয়ারে কিছু অংশে আমি জড়িত থাকায় খুব খুশি। সে-ই সব কিছু করেছে। আমি হয়তো কিছু সাহায্য করেছিলাম বেশ কয়েক বছর আগে। খেলার প্রতি তার নিবেদনের কারণেই রিহ্যাব দারুণভাবে করেছে এবং তার ক্যারিয়ার লম্বা করতে পেরেছে। সে দারুণভাবে টিকে আছে, যা খেলোয়াড়দের জীবনে একবারই হয়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশি এন্ড্রয়েড গেম: ক্রিকেট ক্যারিয়ার সুপারলিগ

বলা বাহুল্য, এই ইয়াংয়ের জন্যই চোট জর্জরিত হাঁটু নিয়ে আজও দেশের হয়ে খেলতে পারছেন ৩৪ বছর বয়সী মাশরাফি। তাইতো সৃষ্টিকর্তার পরেই তাকে স্থান দিচ্ছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’। তিনি বলেন, আমার প্রায় ৭টি অস্ত্রোপচার তার হাত দিয়ে হয়েছে। এটা বলতে পারেন যে আমি এখনও খেলছি তার কল্যাণে। উনিই আমার সব কিছুই করেছেন। অপারেশনের পর পুনর্বাসন কীভাবে কী করতে হবে তাও বলে দিয়েছেন।

মাশরাফি আরও যোগ করেন, একের পর এক সার্জারি করতে করতে আমার হাঁটুর অবস্থা ক্রিটিক্যাল হয়ে গিয়েছিল। সবশেষে ২০১১ সালের অপারেশনের পর আর কোনো সমস্য হয়নি। এটা সত্যি সে পেশাদার চিকিৎসক, কিন্তু সে তার মন থেকেই আমাদের সার্ভিসটা দিয়েছে। এটা অসাধারণ।

শুধু মাশরাফিই কেন? বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা যখনই ইনজুরিতে পড়েছেন তখনই বিসিবি (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) ইয়াংকে স্মরণ করেছে। পেসার শাহাদাৎ হোসেন, মোহাম্মদ শহীদ, আবুল হাসান রাজু এবং তামিম ইকবালের কাঁধের ইনজুরিও তার জাদুকরি ছোঁয়ায় সেরে উঠেছে।

আরও পড়ুন  ৯ দিন পর সাকিব দেশে ফিরলেন সুখবর নিয়ে

তবে মাশরাফিকে শুধু তার খেলার প্রতি নিবেদনের কারণেই পছন্দ করেন না ইয়াং, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসা দেখেও মুগ্ধ এ অস্ট্রেলিয়ান, মাশরাফির আমি যেটা পছন্দ করি সে খুব ভালো একজন মানুষ, দারুণ হৃদয়ের মানুষ। সে দানশীল এবং লোকজনদের সে অনেক গুরুত্ব দেয়। তার দল এবং বাংলাদেশের মাশরাফিকে পেয়ে গর্বিত হওয়া উচিৎ। সে দেশের এবং খেলার একজন মহান প্রতিনিধি।

৩ দিনের ঝটিকা সফরের ২য় দিন আজ। আগামীকাল বুধবার আবার নিজ দেশে যাচ্ছেন ইয়াং। ইচ্ছে ছিল মাশরাফির গ্রামের বাড়ি নড়াইলে যাওয়ার। তবে সময় স্বল্পতায় পেরে উঠেননি। তবে মাশরাফিকে কাছে পেয়ে তার ইচ্ছের অনেকটাই লাঘব করলেন এদিন। বেশ কিছুক্ষণ একান্ত আলাপও করলেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।