দেবী সরস্বতীর প্রতি ‘কামার্ত’ সাংবাদিক আনিস আলমগীর এবং ধর্মানুভূতি প্রসঙ্গ

1

।। সুষুপ্ত পাঠক ।।

আনিস আলমগীর নামের একজন সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগে চমৎকৃত হবার মত সব কথা বলেছেন! গণেশ কীভাবে রাতারাতি নিজের বেলাতে ওল্টাতে হয় (ধর্মীয় ইস্যুতে) সেটা মুসলমানদের চেয়ে বেশি আর কেউ জানে না। যেমন এই সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে কিছু ধর্ম বিশ্বাসী হিন্দুর অভিযোগে ধর্ম নিয়ে তার বাক স্বাধীনতার পক্ষে বলেছেন, ‘সেক্সি করে বানানোর (সরস্বতী মূর্তিকে) যত কৌশল আছে প্রয়োগ করার পর তাকে সেক্সি মনে হলে তোমার অনুভুতিতে লাগবে আর আমার অনুভুতি নেই? অনুভুতি কি তোমার একার?’

সাংবাদিক সাহেবের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহমত জানাই। কি দরকার ‘বেপর্দাভাবে’ মূর্তির মধ্যে নারী দেহের সমস্ত ভাঁজ ফুটিয়ে তোলার আর তা দেখে যদি কারোর সেই দেবীকে সেক্সি মনে হয় তাতে তার দোষটা কোথায়? এই যেমন এই হাদিসটা পড়ে আমার সব সময় কলিকাতা হারবালের কথা মনে পড়ে যায়- কাতাদা বর্ণিত, আনাস বিন মালিক বলেছিলেন, “রাত ও দিনব্যাপী নবী তাঁর সকল স্ত্রীর সাথে মিলিত হতেন আর তাদের সংখ্যা ছিল এগার। আমি আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, “নবীর কি এত শক্তি ছিল?” আনাস উত্তর দিলেন, “আমাদেরকে বলা হয়েছিল ত্রিশ জন পুরুষের সমান শক্তি ছিল নবীর” (সহি বুখারি, ভলিউম-১, বই-৫, হাদিস-২৬৮)।

সাংবাদিক সাব কি তার নবীরে কলিকাতার হারবালের মডেল বললে সহজভাবে মেনে নিবেন? সহজ তো দূর কি বাত, কেউ এমনটা বলে কোপ খেলে তার মত সাংবাদিকই কোপার যৌক্তিকতা আবিস্কার করে ফেলবে। কেন নাস্তিকরা খালি ইসলামের নবীর পিছনে লাগে (উনি অবশ্য সরস্বতীর সামনে পিছনে দুই দিক দেখেই কামার্ত হয়েছেন!) আহাজারিতে ইন্টারনেট ভরিয়ে ফেলবে। মজা হচ্ছে, সাংবাদিক সাহেবের হিন্দু দেবীকে দেখে কামার্ত হবার যে ন্যায্য অধিকার, সেক্সি দেবী দেখে তার যে সহি যৌন অনুভূতি- তা রক্ষা করতে তার লিস্টে থাকা ভক্তকূলরা পারলে ফেসবুকই অবরোধ করে ফেলে। এরাই নাস্তিকদের নানা কায়দায় না এঙ্গেলে কোপানোর মনোবাসনা জানায়। সাংবাদিক সাহেব আওয়ামী লীগ করেন। তার ভক্তকূলরাও সেই তরিকার। এই তরিকার পীর এবং মুরিদরা বিদঘুটে এক ‘অসাম্প্রদায়িকতায়’ বিশ্বাস করে বলে প্রায়ই দাবী করে। এর নাম ‘হিন্দু সুরক্ষা’। ভাষাটা এরকম, ‘আমরা না থাকলে হিন্দুরা এদেশে একটাও আস্ত থাকবে না। আমরা আছি বলেই তো এত পূজা করতে পারিস, মন্দির বানাস…। খবরদার এই কথা কোনদিন ভুলবি না, কোনদিন অকৃতজ্ঞর মত আমাদের মাথার উপর ছড়ি ঘুরাতে আসিস না- তাইলে কিন্তু এইদেশে আর থাকতে পারবি না…।

মিলিয়ে দেখেন এবার আলমগীর সাহেব কি লিখেছেন তার ফেসবুক পোস্টে, ‘একটা প্রায় ৯০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের দেশে তুমি মাটির পুতুলের কাছে বিদ্যা চাওয়ার জন্য একদিন স্কুল কলেজ বন্ধ রাখবা- মুসলমান ছেলে মেয়েদের দিয়ে প্রতিমা সাজাবা- এই আবদারতো আমরা দিনের পর দিন মেনে আসছি। কারও অনুভুতিতে লাগেনা? পৃথিবীর কয়টি দেশে সংখ্যালঘুর এই আবদার মানা হয়। বাংলাদেশে মানা হয়। আমরাই মানি। শেখ হাসিনার সরকার তোমাদেরকে দিয়েছে, এই রাষ্ট্র তোমাদেরকে সেটা দিয়েছে’।

মানে হচ্ছে ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে আলমগীর সাহেবরা পুতুল পূজা করতে দিয়েছে এটাই তো বেশি! সেখানে সেই মূর্তিকে একটু সেক্সি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠের কেউ বলে থাকে তাতে মালাউনদের এত জ্বলে কেন? মুসলমান দেশের ততোধিক মুসলমান শিক্ষা ব্যবস্থায় এইসব পূজাফুজা যে করতে দেয়া হচ্ছে সেটাই কি তাদের সাত কপালের ভাগ্য নয়? তার বদলে কিছুটা হজম করার মানসিকতা যদি এইসব মালাউনদের না থাকে এরচেয়ে অকৃতজ্ঞ আর কাকে বলে!…

…বাদ দেন। সাংবাদিক সা’ব আরো যা যা বলেছেন তার তুলনা করতে গেলে দীর্ঘ পোস্ট লিখতে হতো। স্কুল কলেজ থেকে সরস্বতী পুজার মত কুসংস্কার বাদ দেয়ার কথা আমরা নাস্তিকরা আগেও নানা সময়ে বলেছি। ভারতে প্রবীর ঘোষ তো কয়েকবার জোরালো দাবী জানিয়েছিলেন বিদ্যা দেবীর মত কুসংস্কার একটা ধারনা স্কুলের মত জ্ঞান অর্জনের স্থানে হতে দেয়া যায় না। কিন্তু মনে করুন আলমগীরের মত কোন মুসলমান সাংবাদিক যিনি ইজতেমাকে হজের সঙ্গে তুলনা করলে গুনাহ হবে বলে ফেসবুকে পোস্ট দেন, যিনি নিজেকে সাচ্চা মুসলমান বলে দাবী করেন তিনি বা তার মত যারা, তারা কোন বিশেষ ধর্মের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে কট্টাক্ষ করলে, কোন ধর্মীয় চরিত্রকে সেক্সি বললে তার অর্থ একদমই পাল্টে যায়।

প্রবীর ঘোষের পূজার বিরোধীতা আর মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের বিরোধীতা এক জিনিস না। স্কুল থেকে সরস্বতী পুজা বন্ধ করতে হলে সব স্কুল থেকে নামাজের ঘর, মসজিদ, মিলাদ সব উঠিয়ে দিতে হবে। একই যাত্রায় পৃথক ফল কেন হবে? সরস্বতীকে সেক্সি বলার অধিকার চাই সঙ্গে জয়নব মুহাম্মদের প্রেম কাহিনী নিয়ে স্বাধীন মতামত দেয়ার অধিকার চাই। সাংবাদিক আলমগীর যেমন সরস্বতী ব্রহ্মার কেলেংকারি অকপটে প্রকাশ করেছে তেমনি ইসলামের রথি মহারথিদের কেলেংকারি প্রকাশ কেন ‘ইসলাম বিদ্বেষ’ হবে? এমন তো না এসব বানিয়ে বানিয়ে লেখা হয়। আলমগীর সাহেবের পাশে আছি, এবার তিনি আয়েশাকে নিয়ে কামার্ত কোন মন্তব্যকে স্বাগত জানাবেন আশা করি?

* সুষুপ্ত পাঠক এর অন্য লেখাগুলো পড়তে ক্লিক করুন

পরিচিতি: ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।