রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ: এ বছর জন্মাবে ৫০ হাজার শিশু

0

সময় এখন ডেস্ক:

দেশের আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার যে বিপুল চাপ, তার মধ্যে এসে পড়েছে নতুন আরও অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী। যাদের সিংহভাগই নারী। অশিক্ষিত রোহিঙ্গা মুসলিমরা তাদের ধর্ম বিশ্বাসের কারনেই জন্ম নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নয়। ফলে এই শরণার্থী অবস্থায় ভাসমান জীবনেও থেমে নেই তাদের অরক্ষিত যৌন সঙ্গম। ফলে জন্ম নিচ্ছে হাজার হাজার শিশু। যার পুরো চাপটাই এসে পড়ছে আশ্রয়দাতা দেশ বাংলাদেশের ওপর। বন জঙ্গল উজাড় করে যেমন তারা হাজার কোটি টাকার সম্পদ বিনষ্ট করছে, তেমনি গণহারে শিশু জন্ম দিয়ে জনসংখ্যা বিস্ফোরণের এক মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে বাংলাদেশকে। গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো যুক্ত হচ্ছে মারাত্মক সংক্রামক সব রোগ!

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের এক প্রতিবেদনে এসেছে- মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা নারীরা গত বছর অর্ধ লাখ শিশুর জন্ম দেবে। এ বছরও একই হারে জন্ম নেবে সমান বা আরও অধিক সংখ্যক শিশু। এসব নবজাতক নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলেও সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যবেক্ষণ শেষে শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে শিশুদের নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ক্যাম্পেই রোহিঙ্গা নারীরা অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক সন্তান জন্ম দেবে। ওই ৫০ হাজার হিসেবে বছরের প্রতিদিন অন্তত দেড়শ রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে এবং নিচ্ছে। এরই মধ্যে ক্যাম্পের বহু শিশু নানা রোগে ভুগছে। প্রতিনিয়ত জন্মাচ্ছে নতুন শিশু। এসব শিশুর অনেকেই ৫ বছর বয়সের আগেই মারাও যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে এবং তারও আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থারত মিলে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বসবাস করছে। সামরিক জান্তার দ্বারা গণহত্যা, ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া, জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা, নারীদের ধর্ষণসহ ভয়াবহ সহিংসতার শিকার হয়ে পালিয়ে এসেছে রোহিঙ্গারা। যাদের মধ্যে ৬০ ভাগই শিশু। এর মধ্যে ৩ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শিশু ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত।

সেভ দ্য চিলড্রেনের মিডিয়া ম্যানেজার ইভান শারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ২০১৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শিশু জন্ম নেবে, এমনটা ধারণা করছি আমরা। এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানুষ এমনিতেই গাদাগাদি করে থাকছে। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণে আগ্রহী নয়।’

সেভ দ্য চিলড্রেনের আশঙ্কা, এই অবস্থায় যেসব শিশু জন্ম নেবে তাদের অনেকেই ৫ বছর বয়সের আগেই মারা যেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জন্মের পর থেকেই এসব ক্যাম্পে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকবে। পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ডায়রিয়া-কলেরার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।

ইভান শারম্যান আরো বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। কেননা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ একইসঙ্গে পুষ্টিকর খাবারের অভাব এবং কলেরা-ডায়রিয়ার মতো রোগের প্রকোপ এখানে বেশি। যা নবজাতকের জন্য ক্ষতিকর।’

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।