কীর্তন করায় জিহাদিদের চাপাতির আঘাতে খুন হলেন মঞ্জু সাহা!

0

নারায়ণগঞ্জে মঞ্জু সাহা নামে এক অর্ধবয়স্ক মহিলাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্ত তকমাধারী জিহাদিরা। রোববার রাত প্রায় সোয়া ১২টার দিকে জেলার ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর অক্টো অফিসের সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত মঞ্জু সাহার মাথায় চাপাতির এলোপাথাড়ি গভীর আঘাত এবং গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, এই ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার রাতেই এলাকার ৫ বখাটে যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে এরা সকলেই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে কর্মরত শ্রমিক ও মাদকাসক্ত।

নিহত মঞ্জু সাহা (৪৫) নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন নয়ামাটি এলাকার জনৈক মরু সাহার স্ত্রী। তিনি ৩টি পুত্র ও ১টি কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন।

জানা গেছে, স্থানীয়রা রোববার (২৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর অক্টো অফিসের সামনে থেকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, খুনের কারণ সম্পর্কে পুলিশ ও পরিবার থেকে কোন তথ্য পাওয়া না গেলেও একে একটি সাম্প্রদায়িক হামলা বলে ধারণা করছেন নিহতের বড় ছেলে অমিত সাহা। তিনি বলেন, কিছুদিন ধরেই তার মা কিছু মুসলিম তরুণ (দাড়ি-টুপি পরিহিত) দ্বারা অনুসরিত হচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদেরকে বলেছিলেন।

এ প্রসঙ্গে নিহত মঞ্জু সাহার সন্তান অমিত সাহা এই প্রতিবেদককে আরও জানান, তার মা মঞ্জু সাহা প্রতি সপ্তাহের রোববার নারায়ণঞ্জের বিভিন্ন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে কীর্তন পরিবেশন করতেন। সেই সুবাদে গত রোববার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে নিজ বাসা থেকে কীর্তন করার উদ্দেশ্যে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় আসেন। কীর্তন শেষে রাত্র প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে ইসদাইর এলাকা থেকে নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। কিন্তু এর পর থেকেই মা মঞ্জু সাহার কোন খবর পাচ্ছিলেন না ছেলে অমিত। তখন তার মা’কে কিছু মুসলিম তরুণের অনুসরণ করার বিষয়টা মনে পড়ে। অমিত বাইরে রাস্তায় খুঁজতে যান, কিন্তু কোথাও মা’কে না পেয়ে ঘরে ফিরে আসেন।

পরে, আজ সোমবার সকালে ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর সরকারী হাসপাতালে গিয়ে তার মায়ের লাশ শনাক্ত করেন অমিত ও তার পরিবার।

এদিকে, মায়ের এমন অপ্রত্যাশিত খুনের ঘটনায় বুক ফাটা আর্ত-চিৎকারে ক্ষণে ক্ষণেই মূর্ছা যাচ্ছিলেন সদ্য এতিম হওয়া ৪ সন্তান। অপরদিকে, স্ত্রী হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে উঠা মরু সাহা শুধু বললেন, ‘আমার স্ত্রীকে যারা ফলো করতো, তাদেরকে ধরলেই অপরাধী সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যাবে।’

Spread the love
  • 16.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    16.9K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।