টেকনাফে ধরা পড়ছে লাখ টাকা দামের মাছ | কেন এত দাম জানেন?

0

কক্সবাজার সংবাদদাতা:

রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক দিন সাগরে মাছধরা বন্ধ ছিল। যার ফলে জেলেদের পরিবারে খুব অভাব অনটন দেখা দিয়েছিল। এখন মাছ ধরা শুরু হলে আগের এক মাসের মাছের যে উপার্জন হতে পারতো, তা এখন মাত্র একটি মাছ থেকে পুষিয়ে গেছে। জেলেদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে নতুন করে। হাসি ফুটেছে জেলে পাড়ার অভাবী মানুষদের মুখে।


ছবি: ৬৬ কেজি ওজনের পোয়া মাছ

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে জেলেদের জালে আরও একটি বড় পোয়া মাছ ধরা পড়েছে। রবিবার সকালে শাহপরীর দ্বীপের ডাঙরপাড়ার রহিম উল্লাহর জালে মাছটি ধরা পড়ে। এটি দুই দফা হাত বদল হয়ে টেকনাফ বাজারে বিক্রি হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকায়। মাছটির ওজন ৬৬ কেজি। শনিবারও একই এলাকার উত্তরপাড়ার মো. ইউনুছের জালে ৫৭ কেজি ওজনের ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের একটি পোয়া মাছ ধরা পড়ে। পরেরদিন আরো বেশি ওজন ও মূল্যের আরেকটি বড় পোয়া মাছ ধরা পড়ায় স্থানীয় জেলেরা খুবই উচ্ছ্বসিত।


ছবি: ৫৭ কেজি ওজনের পোয়া মাছ

নৌকার মালিক রহিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি রবিবার ভোরে বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলতে যায়। এ সময় নৌকার মাঝিমাল্লারা জালে একটি বড় মাছ আটকা পড়তে দেখে এটি নৌকায় তুলে নেয়। পরে মাছটি মাঝেরপাড়া সাগর পাড়ে নিয়ে আসা হলে অনেক ক্রেতা দরদাম করেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল ফয়েজ ও সোলতান আহমদের কাছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করে দিয়েছি।’

ক্রেতা আবুল ফয়েজ বলেন, ‘প্রথমে মাছটি আমরা দুজন মিলে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। এরপর টেকনাফের মাছ ব্যবসায়ী মো. আলীর কাছে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। দ্বিতীয় দফায় মাছটির ক্রেতা ব্যবসায়ী মো. আলী মাছটি টেকনাফে অবস্থানরত চট্টগ্রামের এক বড় ব্যবসায়ীর কাছে ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে অভিজ্ঞ মাছ ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, মাছটির প্রকৃত দাম সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি।’

জেলেরা জানিয়েছেন, মূলত পোয়া মাছের ফৎনা (পটকা)র কারণে বেশি দাম হয়ে থাকে। যদি কালো পোয়া না হয়ে সোনালি রঙের হত তাহলে এ ওজনের একটি পোয়া মাছের ফৎনার মূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত!

এদিকে রবিবার ইউনুছের জালে ধরা পড়া ৫৭ কেজি ওজনের পোয়া মাছটি টেকনাফের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ঢাকা পাঠিয়ে রবিবার সকালে ৫৪ হাজার টাকা লাভে কারওয়ান বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।