নারীদের কারনে ফসল নষ্ট হয়, ক্ষেতে যাওয়া নিষেধ- মসজিদে মাইকিং, ইমাম আটক

0

নারীরা ক্ষেতে গেলে ফসল নষ্ট হয়- এমন অদ্ভূত অজুহাত তুলে মসজিদে মাইকিং করে তাদেরকে ক্ষেতে কাজ করতে ফতোয়া জারি করা হয়েছে। এ ঘটনা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের। ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে মসজিদের ইমাম আবু মুছাকে আটক করেছে পুলিশ।

গত ৮ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর কল্যাণপুর জামে মসজিদে স্থানীয় মোড়লদের এক বৈঠকে নারীদের ক্ষেতে যাওয়া বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে রাতে ওই সিদ্ধান্ত মসজিদের মাইকে ঘোষণাও করা হয়। কল্যাণপুর গ্রামের জাহেদা খাতুন জানান, বাড়ির কাছে ক্ষেত হওয়ায় তারা গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটতেন। নিষেধ করায় তাদের ঘাস কাটা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পশু পালনে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কল্যাণপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘জুমার নামাজের পরপরই আমি সেখান থেকে চলে যাই। পরে বিষয়টি শুনেছি। তবে এটি মসজিদ বা মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত না। এটি গ্রামের মোড়লদের সিদ্ধান্ত। তাদের দাবি, নারীরা ক্ষেতে গেলে ফসলের ক্ষতি হয়। সে জন্য ক্ষেতে পাহারাদার রাখার সিদ্ধান্ত হয় এবং এই সিদ্ধান্তটি মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়।’

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়ার এক বাঙালির কাছে জাপানিরা জীবনভর কৃতজ্ঞ, কেন জানেন?

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, ‘গ্রামের বেশির ভাগ লোকের দাবি, নারীরা ক্ষেতে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তাই তাদের ক্ষেতে যেতে নিষেধ করে, চৌকিদার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

আটক ইমাম আবু মুছা মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বলেন, ‘গত জুমায় বলেছিলাম, ক্ষেতে ফসলের যে ক্ষতি হচ্ছে- তার কারণ সেখানে আমাদের মা-বোনেরা যায়। সেখানে যাওয়ার কারনে গাছের কলা, মোচা, পাতা ও ফসল নষ্ট হয়। এজন্য তাদের যদি বোঝাতে পারি, তা হলে সবাই উপকৃত হবো।’

‘কোনও নারী ক্ষেতে যেতে পারবে না’- এই সিদ্ধান্তটি মাইকে ঘোষণা দেন রুহুল আমিন শেখ। তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার মসজিদে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়- কোনও নারী ক্ষেতে যেতে পারবে না। এ বিষয়ে আমাকে মাইকে ঘোষণা দিতে বলা হয়েছিল।’ মসজিদে বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থানীয় কৃষক আফতাব আলী শেখ, আব্দুল আল মামুন, মইনুদ্দিন এবং হিয়াউর অভিযোগ করে বলেন, ‘কল্যাণপুরে কলার চাষ বেশি হয়। এছাড়া, অন্যান্য রবি ফসল তো রয়েছেই। এই এলাকার নারীরা ক্ষেতে গেলে এসব ফসল নষ্ট হয়, ফলন খারাপ হয়। এ কারণে নারীদের ক্ষেতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন  ইন্টারপোল খুঁজে পায়না, কিন্তু বুক ফুলিয়ে হাঁটছে রাজাকার মঈনুদ্দীন!

এ বিষয়ে কুমারখালী মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা নীলা বলেন, ‘সেদিন রাতে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নারীদের ক্ষেতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। এটি জঘণ্য কথা। নারীদের ঘরের মধ্যে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সেই সঙ্গে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাই।’

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএও) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমাদের এক সদস্য জানান যে, শিলাইদহ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের একটি মসজিদের পেশ ইমাম নারীদের ফসলের ক্ষেতে যেতে নিষেধ করেছেন। ওই ঘটনার কারণে মঙ্গলবার বিকালে ওই পেশ ইমামকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে গেলে তিনি কোনও কথা বলতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন  বাবলু কোম্পানির বেগুন গাছে ধরছে টমেটো!
Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।