নারীর জন্য | স্বমেহনে চরম পুলক প্রাপ্তির পরীক্ষিত উপায়

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

নারী পুরুষ সকলেই যৌনতৃপ্তি পেতে স্বমেহন বা মাস্টারবেশনের দ্বারস্থ হন। রতিক্রীড়ায় চরম তৃপ্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন বেশ কিছু নিয়মকানুন আছে। স্বমেহন বা মাস্টারবেশনও তার ব্যতিক্রমও নন। যদি কেউ ভেবে থাকেন, স্বমেহনের কোনও নিয়ম নেই, পদ্ধতি নেই, তাহলে ভুল করবেন। তাহলে সবশেষে হতাশাই সার। পুরুষদের থেকেও নারীদের এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত।

নারী শরীরের গঠন বেশ জটিল। যৌনক্রিয়া যতখানি জৈবিক, তাতে তৃপ্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শরীরকে চেনা ও ভালবাসাও অত্যন্ত জরুরি। স্বমেহনের ক্ষেত্রে গোড়াতেই অনেকে যে ভুলটা করেন, তা হল, রতিক্রিয়ার থেকে একে আলাদা করে ফেলেন। নারী-পুরুষ যেখানে জড়িত, সেখানে যেমন সফল যৌনক্রিয়ার জন্য দু’জনের দায়িত্ব আছে, স্বমেহনের ক্ষেত্রে সে দায়িত্ব পুরোপুরি নিজের। নারীর চরম তৃপ্তির জন্য রতিক্রিয়ায় পুরুষকে নারী শরীরকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হয়। স্বমেহনের ক্ষেত্রে কিন্তু কোনও পুরুষ নেই। আর তাই নারীরা যদি চরম তৃপ্তি পেতে চান, তবে নিজেদের শরীর সম্পর্কে কয়েকটি বিষয় তাদের মাথায় রাখতেই হবে। তাই নিচের টিপসগুলি দেয়া হলো-

স্তনবৃন্ত হেলাফেলার নয়

স্বমেহনের ক্ষেত্রে অনেকে স্তনবৃন্তকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেন না। কিন্তু যৌনতৃপ্তি দিতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে স্তনবৃন্তই। রতিক্রিয়ায় পুরুষই দায়িত্ব নিয়ে স্তনবৃন্ত জাগিয়ে তোলে। এরফলে মস্তিষ্কের বিশেষ অংশ জাগ্রত হয়, যাতে সুখানুভূতি পান নারীরা। অর্গ্যাজমের ক্ষেত্রে একে Nipplegasm বলা হয়। তাই স্বমেহনে চূড়ান্ত তৃপ্তি পেতে যেন কোনওভাবেই স্তনবৃন্তকে হেলাফেলা না করা হয়। তা জাগিয়ে তোলা ও আনন্দের আয়োজন করার দায়িত্ব অবশ্য এক্ষেত্রে নিজেরই।

যোনি যেন শুষ্ক না থাকে

শুষ্ক যোনি রতিক্রিয়ায় বড় প্রতিবন্ধক। এক্ষেত্রেও পুরুষসঙ্গীর মুখমেহনে তা পিছল হয়ে ওঠে। কিন্তু স্বমেহনে তো সে সুবিধা নেই। তাই খেয়াল রাখতে হবে যোনি যেন কোনওভাবেই শুকনো না থাকে। পিছল করতে মুখের লালা ব্যবহার করা যেতে পারে। অথবা যদি অ্যালার্জি না থাকে তবে লুব্রিক্যান্টের ব্যবহারও করতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু ক্লিটোরিসে তৃপ্তি নয়

আনন্দ পেতে চটজলদি ক্লিটোরাল তৃপ্তিতেই মন দেন অনেকে। তাতে তৃপ্তি আসে ঠিকই, কিন্তু সেটুকুই সব নয়। যোনির অন্যান্য অংশেও মন দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে নিজের শরীরকে এক্সপ্লোর করতে পারবেন। তাতে আনন্দের মাত্রা কয়েকগুণ বাড়বে।

অল্প পেনিট্রেশন

অনেকেই এ কাজ করতে ভয় পান। বা সামাজিক ট্যাবুর কারণে যোনিতে পেনিট্রেশন থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। কিন্তু সত্যিই এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অল্প মাত্রায় পেনিট্রেশনে তৃপ্তি অনেকটা বেড়ে যায়। তবে এর পরিমাণ ঠিক কতটা, সেটা নিজেকেই ঠিক করতে হবে। কতটা পেনিট্রেশনে নিজের চূড়ান্ত তৃপ্তি আসছে, তা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে।

দরকার হলে পর্ন দেখুন

যৌনতৃপ্তির আকাঙ্ক্ষা, কিন্তু শরীর জাগছে না। কী করবেন? দরকার হলে একটু পর্ন দেখুন। বা ইরোটিক কোনও আর্টিকল বা গল্প পড়ুন। যা আপনার রুচিতে মানানসই হয়। যৌনতায় পর্ন দেখা বা না-দেখা নিয়ে অনেক লেখাজোকা ছড়িয়ে আছে নেটদুনিয়ায়। শুধু মাথায় রাখুন, অতিরিক্ত যে কোনও জিনিসই খারাপ। তাই পর্নে অ্যাডিক্ট হযে পড়বেন না। কিন্তু শরীররে তন্ত্রীতে সাড়া ফেলতে, যৌনতার আনন্দের চরমে পৌঁছতে যদি গোড়াতে একটু পর্ন দেখতে হয়, তবে তা দোষের বলে ভাববেন না।

পরিবেশ তৈরি করুন

যৌনতার ক্ষেত্রে দম্পতিরা বিশেষ পরিবেশ তৈরি করেন। সেই পরিবেশ শরীরকে এমনভাবে জাগায়, হরমোন নিঃসরণ থেকে বিভিন্ন জৈবিক ক্রিয়া এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়, যাতে আনন্দ আসে। স্বমেহনও যেমন তেমন পরিবেশে তৈরি করবেন না। গোপনীয়তার খাতিরে যেখানে সেখানে, যেমন তেমন করে স্বমেহন আসলে যৌন হতাশারই নামান্তর। তাই ঢিমে আলো থেকে পছন্দের বিছানা, সুগন্ধীর আয়োজন থেকে হালকা গান- যা আপনার ভীষণ পছন্দের তা দিয়ে তৈরি করে ফেলুন পরিবেশ।

তাড়াহুড়ো নয়

যৌনতায় যেমন তাড়াহুড়ো করতে বারণ করা হয়, স্বমেহনেও সেই একই নিয়ম। সবসময় মনে রাখবেন, স্লো বাট স্টেডি উইন দ্য রেস। তাই অর্গ্যাজম পেতে তাড়াহুড়ো করবেন না। বরং নিজের শরীরকে ভালবাসুন। নিজেকেই এক্সপ্লোর করুন। স্বমেহনকে অনেকটা অ্যাডভেঞ্চার বলে মনে করুন। আর একটু একটু করে আনন্দের চরমে পৌঁছান।

বরফের ব্যবহার

শরীরকে জাগিয়ে তুলতে কল্পনারও কোনও বিকল্প নেই। পর্ন বা বই ছাড়াও নিজের যা ইচ্ছে, আদিরস সম্পৃক্ত কোনও কিছু ভাবা যেতে পারে। এছাড়া একটু বরফও বেশ কার্যকরী। কয়েকটা আইস কিউব নিয়ে শরীরের কোনও অংশে যদি ঘষে দেন, তবে স্তনবৃন্ত শক্ত হয়ে ওঠে। ক্লিটোরিসও জাগ্রত হয়ে ওঠে। ফলে তৃপ্তির জন্য শরীর উন্মুখ হয়ে ওঠে।

সঙ্গীকে দেখানো

তৃপ্তিতে আপনার শীৎকার করছেন। আর কেউ তা দেখছেন। এ জিনিস যদি আপনার ভাল লাগে, যদি আপনাকে দ্বিগুণভাবে জাগিয়ে দেয়, তবে অবশ্যই তা করতে পারেন। দরকার হলে সঙ্গীকে দেখাতে পারেন। আর যদি সেটা অস্বস্তিকর মনে হয়, তবে আয়না তো আছেই। স্বমেহনে তৃপ্তির গোড়ার কথা নিজেকে ভালবাসা।

আলাদা পদ্ধতি ও পজিশনের ব্যবহার

যৌনতার ক্ষেত্রে তৃপ্তি পেতে প্রায়শই দম্পতিদের আলাদা পদ্ধতি ও পজিশন ব্যবহার করতে বলা হয়। স্বমেহনেও তাই-ই নিয়ম। এক পজিশনে আটকে থাকবেন না। এক পদ্ধতিতেও নয়। যত আলাদা পদ্ধতি ব্যবহার করবেন, তত যৌনতৃপ্তির সেরা উপায়টি নিজেই খুঁজে নিতে পারবেন।

[ব্রাইট সাইড]

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।