বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গুপ্ত আস্তানায় যেভাবে জঙ্গী চাষাবাদ হয়

0

।। আলহাজ হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ।।

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলার মুসলিমদের একাংশের সাথে বাংলাদেশি জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠতা অনেক। মুর্শিদাবাদ এবং মালদহতে প্রচুর মুসলিম অাছে যারা জঙ্গি ভাবাপন্ন, উত্তরপ্রদেশ থেকেও উগ্রতার দীক্ষা দিতে অাসে প্রচুর উর্দুভাষী হুজুর।

অামি অনেক অাগেই বলেছিলাম, বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জঙ্গিরা অাস্তানা গাড়ছে এখন এবং পাকিস্তানি নির্দেশে ‘গাজয়াতুল হিন্দ’ এর প্রস্তুতি চলছে ভারত সীমান্তে। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের দরবেশ হুজুররা এসব জেলায় নতুন নতুন অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরি করছে অারবের টাকায় এবং কিছু শিল্পপতির টাকায়।

বসুন্ধরাগ্রুপ, পারটেক্স গ্রুপ, যমুনা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ সহ বড়বড় শিল্পপতিদের একাংশ বিনা প্রশ্নে মোল্লাদেরকে টাকা দেয়, এসব টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তা ‘জানিতে চাহিয়া’ তারা হুজুরদেরকে লজ্জা দেন না! ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিরা হুঁশিয়ার হোন, অাপনাদের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে তার হিসাব নিন পাই টু পাই।

শফি হুজুর, বাবুনগরী, হারুন ইসলামবাদী, মুফতি ইজহার, মুফতি ফয়জুল্লাহ, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমি, মুফতি অাবদুর রহমানের ছেলে মুফতি মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, অাবদুর রাজ্জাক ইউসুফ, মতিউর রহমান মাদানি প্রমুখ হুজুররা সীমান্তবর্তী মাদ্রাসা গড়ার কারিগর। তারা সবাই দরবেশ হুজুর হিসেবে পরিচিত, কিন্তু ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ এর স্বপ্নে বিভোর! গাজওয়াতুল হিন্দ হলে তারা ইন্ডিয়ান নায়িকাদেরকে গনিমতের মাল হিসেবে পাবে এমন স্বপ্নে তারা বিভোর; এবং এ স্বপ্ন অশিক্ষিত ইন্ডিয়ান মুসলিমদেরকেও দেখাচ্ছে উর্দুভাষী ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানি মোল্লারা।

অামি যা বলছি এটা কোন গুপ্ত খবর নয়, এটা জানে বাংলাদেশের সব অালেমরা। এটা জানে ভারতের সব বরকতী মার্কা মোল্লারা। পাকিস্তানে চীনা বিনিয়োগ চলছে, প্রচুর অারব্য টাকা উড়ছে। এসব টাকার একটা ভাগ হাটহাজারী হয়ে বাংলাদেশে ঢোকে। ভবিষ্যতে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পাক-চীনা ঐক্যের সুদূরপ্রসারী ভাবনার অংশ হচ্ছে অারব্য বিনিয়োগে ভারত সীমান্তে মসজিদ-মাদ্রাসা তৈরি করা। এসব মাদ্রাসা তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুতার্থে তুুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হয় ধর্মান্তর নামক কল্পিত ইস্যু।

হাটহাজারী, পটিয়া, লালখান বাজার, রহমানিয়া, যাত্রাবাড়ী, মাদানি নগর, লালবাগ, বাবুস সালাম, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা, বগুড়ার জামিল এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার মাদ্রাসায় গোপন মিটিং হয় এনজিওদের ঠেকানোর জন্য। এসব মিটিংয়ে খৃষ্টান মিশনারিদের তৎপরতা রোখার নামে উস্কানি সরবরাহ করার কৌশল শেখানো হয়, সিনিয়র তথা বুড়া হুজুররা জুনিয়র হুজুরদেরকে এসব দীক্ষা দান করেন। এরপরই জুনিয়র হুজুরদেরকে সিনিয়র বুড়া হুজুররা সীমান্তবর্তী জেলায় পাঠিয়ে দেন মাদ্রাসা কিংবা মসজিদ বানিয়ে। এই জুনিয়র হুজুররা মসজিদের মিম্বারে বসে বুড়া হুজুরের দীক্ষানুযায়ী উস্কানি সাপ্লাই দেন। এরা তাবলীগীর বেশে ঢোকে, এরপর মিশনারি ঠোকানোর নামে জঙ্গিঘাঁটি গড়তে সাহায্য করে। এসব জুনিয়র হুজুরদের অনেকেরই গাড়ি, বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স অাকর্ষণীয়।

ওয়াজ-মাহফিল, ইসলাহী তথা অাধ্যাত্মিক জলসার নামে বুড়া হুজুরকে অানা হয় মাঝেমধ্যে। বুড়া হুজুর এসে উম্মতের মাঝে পরিপূর্ণ হিংসার বিষ বিতরণ করে যান। হেফাজতের উচ্চপর্যায় থেকে অালেমদেরকে কঠোর ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে জঙ্গিবাদে জড়াতে, বরং জঙ্গিত্বে উস্কানি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্কুল, কলেজ, ভার্সিটির ছেলেরাই যেহেতু নিজ হাতে ‘নাস্তিক-কতল’ মিশনে নেমেছে, তাই হেফাজতীরা হাত গুটিয়ে রাখলেও চলবে। কিন্তু মুখ গুটিয়ে রাখতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

২০১৩ সালের শাপলাচত্বর কান্ডে ব্যর্থতার পর বারিধারা, অারজাবাদ (মিরপুর), হামিউস সুন্নাহ মাদ্রাসায় অালেমদের যেসব গোপন মিটিংয়ে অামি অংশ নিয়েছিলাম সেখান থেকে অামাদেরকে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে উস্কে দিতে অাদেশ দেয়া হয়েছিল। ভার্সিটির পোলাপানরা নাস্তিক কতল করছে বলে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলা হয়েছিল। নাস্তিক হত্যার সপক্ষে সামাজিক ঐক্য তৈরির উপর জোর দিতে বলা হয়েছিল। সরকারের লোকদেরকে বোঝাতে বলা হয়েছিল, ‘অালেমরা তো খুনখারাবি করছে না, এটা করছে দাড়িছাড়া ভার্সিটি পড়ুয়ারা!’ হেফাজত সফল, কারণ কর্তা ব্যক্তিরা এখন বলছেন – “জঙ্গিরা অালেম না, জঙ্গিরা ইহুদী-নাসারা!”

পাকিস্তান ও অারবের সম্মিলিত বুদ্ধির সাথে টেক্কা দিয়ে চলা খুব কঠিন। ভারত, জাপান, অামেরিকা, ইইউয়ের সাথে সুসম্পর্ক রাখলে সরকারের পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ হবে, নয়তো হবে কন্টকাকীর্ণ। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে চাইলেও সরকার পারছেনা, কারণ হেফাজত ইতিমধ্যে জামায়াতের সহায়তায় ভারতবিরোধী একটি চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে সরকারের উপর।

অবশ্য সামগ্রিক বিবেচনায় হেফাজত এখন অাগের মত গুরুত্ববহ নয়, তাদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে, যা শফির মৃত্যুর পর ভয়াবহ অাকার ধারণ করবে। সীমান্তে ক্রম বিকাশমান জঙ্গিঘাটি বন্ধ করতে হবে, সীমান্তে উস্কানিমূলক ওয়াজ-মাহফিলও বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের অাইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করছে, এবং তা অারো বেগবান করতে হবে।

বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকান্ডও বন্ধ হয়েছে যা প্রশংসার দাবিদার। বিএসএফের হত্যাকান্ডে লাভবান হয় জামাতীরা, তারা এটাকে ইস্যু করে সীমান্তে ভারত-বিরোধিতা চাঙ্গা করে। সুতরাং বিএসএফ বাংলাদেশের সাথে অারো সুন্দর অাচরণ করুক তা-ই প্রত্যাশিত। অবশ্য জঙ্গি ইস্যুতে কোন ছাড় দেয়া চলবে না।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।