কারি পাতা: ভেষজ গুণ ও চাষ পদ্ধতি

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

শুধু দক্ষিণ ভারত নয়, সুগন্ধি মশলা হিসেবে এই সবুজ পাতা রান্নায় ব্যবহার করা হয় বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশেই। এই পাতায় ৬.১%, প্রোটিন, ১.০% তেল, ১৬% শ্বেতসার, ৬.৪% আঁশ ও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি (৪ মিলিগ্রাম/১০০ গ্রাম পাতা) আছে। কাঁচা কারি পাতা কয়েকটা পানিতে ধুয়ে রান্নার সময় তার ভেতরে ছিঁড়ে দিলে রান্নায় সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝ আসে।

গরু ও খাসির মাংস, মিশ্র সবজি, ডাল ইত্যাদি কারি পাতা দিয়ে রান্না করা যায়। কারি পাতা শুকনো করে গুঁড়া বানিয়ে কারি পাউডার তৈরি করা যায়। বোতলে ভরে রেখে রান্নার সময় তা ব্যবহার করা যায়। তবে কাঁচা পাতায় ঘ্রাণ বেশি।


ছবি: কারি পাতা ব্যবহারে রান্না করা মাংস

কারি গাছের পাতা, কাণ্ড, শিকড়, ফল, বীজ ইত্যাদি সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। গাছের শিকড় অর্শ রোগে উপকারী। আমাশয় ও ডায়রিয়া সারাতেও কারি পাতা ওস্তাদ। কয়েকটা সবুজ পাতা চিবিয়ে খেলে এটা সেরে যায়। পাতা ছেঁকে ও তা থেকে ক্বাথ তৈরি করে খেলে বমিভাব দূর হয়। রেচনতন্ত্রের ব্যথা দূর করতে কারি পাতার রস সেবন করতে পরামর্শ দেয়া হয়।

শরীরের কোথাও কোনো বিষাক্ত পোকা মাকড় কামড়ালে কাঁচা কারি পাতা ডলে সেখানে লাগালে দ্রুত উপশম হয়। যকৃতের কঠিন ব্যথা সারাতে রোগীদের কারি পাতা গাছের শিকড়ের রস খাওয়ানো হয়। শুধু পাতা নয়, এর ফলও খাওয়া যায়। বীজ থেকে যে তেল পাওয়া যায় তার গন্ধ অনেকটা নারকিল তেলের মতো আর স্বাদ মরিচের মতো ঝাঁঝালো। তেল জিহ্বায় স্পর্শ করলে ঠাণ্ডা মনে হয়। হিমালয়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে সুন্দরবন সংলগ্ন জনপদেও কারি পাতার গাছ জন্মায়।


ছবি: ফুলসহ কারি পাতা

কারি পাতা গাছ এ দেশে পরিচিত গাছ হলেও সুগন্ধি গাছ হিসেবে এর ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। কারি পাতা এ দেশে কোথাও কোথাও নিমভূত গাছ হিসেবে পরিচিত। বনে-জঙ্গলে জন্মে, আপনা আপনি হয়। কেউ কখনও এ গাছ লাগায় না। এ গাছ অবশ্য কেউ কেউ কবিরাজী কাজে ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর সুগন্ধি পাতা ব্যবহার করে এ দেশে কেউ কখনও রান্না করেন না। কিন্তু ভারতের তামিলনাড়ুতে গিয়ে কারি পাতা ছাড়া রান্না কেউ না খেয়ে ফিরে এসেছে এমনটি শোনা যায়নি।

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ভারতে রান্নাকে সুগন্ধিযুক্ত করতে কারি পাতার ব্যবহার চলে আসছে। খাদ্যকে শুধু সুস্বাদু করাই নয়, এ পাতার অনেক ভেষজগুণও আছে। তাই আমাদের বুনো এ গাছটির পাতা তেজপাতার মতো মশলা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আর এ গাছ চাষে আলাদা কোনো জমি দরকার নেই। বাড়ির আশপাশে যে সব বাগানের ভেতর ছায়া ছায়া ফাঁকা জায়গা পড়ে রয়েছে সে সব পতিত জায়গা ব্যবহার করে কারি পাতা উৎপাদন করে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে। বীজ থেকে প্রথমে চারা তৈরি করে নিতে হবে। বর্ষার শুরুতে ২-৩ মিটার পর পর জমিতে চারা লাগাতে হবে। চারা লাগানোর জন্য সবদিকে আধা মিটার আন্দাজে গর্ত তৈরি করে গর্তের মাটির সঙ্গে এক ঝুড়ি গোবর সার মিশিয়ে সপ্তাহদুয়েক রেখে দিতে হবে। জুন-জুলাই মাসে চারা লাগাতে হবে। প্রতিবছর জুলাই মাসে একবার গাছ প্রতি ১০০-২০০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে। খরার সময় সেচ দিলে উপকার হয়।


ছবি: ড্রাম বা বড় টবেও লাগাতে পারেন, ছাদে কিংবা বারান্দায়

গাছের বয়স ১৫ মাস হলেই গাছ থেকে পাতা তোলা শুরু করা যায়। কচি পাতা না তুলে গোড়ার দিক থেকে বয়স্ক পাতা তুলে আঁটি বেঁধে বাজারে বেচতে পাঠাতে হবে। ঘরোয়া ব্যবহারের জন্য একটা দুটো গাছই যথেষ্ট। বাণিজ্যিকভাবে চাষের আগে এর বাজার সম্বন্ধে নিশ্চিত হতে হবে। এ গাছে সহজে কোনো রোগ বা পোকা আক্রমণ করে না।

ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ফুল ফোটে। ফুল থেকে নিমের মতো ফল হয়। ফল ডিম্বাকার থেকে গোলাকার, কাঁচা ফলের রঙ সবুজ। পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালচে থেকে কালো হয়ে যায়। বীজ থেকে সহজে চারা হয়।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।