ওষুধের কালোবাজারি পিনাকী ভট্টাচার্য্যের মিথ্যাচারের জবাব

0

সময় এখন ডটকম এ গতকাল প্রকাশিত ‘পপুলার ফার্মাসিটিক্যালস এর কালাজ্বরের ওষুধ মিল্টেফসিন নিয়ে দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিবেদন- পিনাকী ভট্টাচার্য: ওষুধের নামে ময়দা বেচে কোটি টাকা লোপাটের কারিগর প্রকাশ হওয়ার পর পিনাকী ভট্টাচার্য্য তার বিপরীতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে একটা বিবৃতি দিয়েছিলেন। তার প্রেক্ষিতে এই দুর্নীতি ফাঁসকারী ডাঃ জাহিদুর রহমান পিনাকী ভট্টাচার্য্যের মিথ্যাচারপূর্ণ ফেসবুক স্ট্যাটাসের জবাব দিয়েছেন। যা ডাঃ জাহিদুর রহমান এর পক্ষ থেকে হুবহু তুলে দেয়া হলো।

।। ডাঃ জাহিদুর রহমান ।।

পূর্বসূত্র

যা আশা করেছিলাম, সেটাই হয়েছে। দালালির চাকরি বাঁচাতে পিনাকী ভট্টাচার্য্য ১২ ঘন্টার মধ্যেই স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এবং স্বাভাবিকভাবেই সেটি মিথ্যা আর বিভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ। ছাগ রাজ্যের বাঘ যে বাস্তবের বিড়াল সেটা আরেকবার প্রমাণিত হল। উনার স্ট্যাটাসের শরীরে কিঞ্চিত কাঁটাছেড়া করা হল।

“তখন দেশ চালাচ্ছিল, ওয়ান ইলেভেনের সরকার। ২০০৭ সালের শেষের দিকে বিশ্ব ব্যাংকের টাকায় তারা কালা জ্বরের একটা ওষুধ কেনে”।

মিথ্যা। দরপত্রই আহবান করা হয় ২০০৮ এর ১৭ ফেব্রুয়ারি।

“পপুলার ফার্মা টেণ্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পেয়ে ওষুধ সরবরাহ শুরু করে। সরবরাহ যখন ২০% এর মতো সম্পন্ন হয়েছে; তখন ওষুধ ব্যবহারীদের কাছ থেকে জানা যায় এই ওষুধে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছেনা”।

মিথ্যা। ২০০৮ সালের ১৫ মে দরপত্রে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ৫০ মিলিগ্রামের ৪ লাখ এবং ১০ মিলিগ্রামের ২ লাখ, মোট ৬ লাখ মিল্টেফস কেনার বিজ্ঞপ্তি দেয়। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছ থেকে সরকার ৫ কোটি ৩৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬০০ টাকায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৭০০ মিল্টেফস ক্যাপসুল কিনে। পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস সরবারহ ককরে ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪১২টি ক্যাপসুল, যা মোট চাহিদার প্রায় ৮৪%, মোটেই ২০% না।

আরও পড়ুন  ইউরোপের যে দেশগুলোর নাগরিকত্ব টাকায় কেনা যায়!

“উল্লেখ্য ওষুধ শিল্পে রিকল ও রিপ্লেস করা কোন নতুন বিষয় নয়; এটা রেগুলার প্র্যাকটিস। পৃথিবীর তাবৎ বিখ্যাত কোম্পানি কোয়ালিটি ফেইলরের জন্য রিকল এবং রিপ্লেস করে”।

মিথ্যা। ড্রাগ রিকল এন্ড রিপ্লেস সব সময়ই যে ওষুধ কোম্পানির জন্য চরম ব্যর্থতা ও অপেশাদারিত্বের বিষয়। সারা জীবনের সুনাম নষ্ট হয়ে যায় এতে। ভাল কোম্পানিগুলো এটি জানে বলেই তারা এমনভাবে কোয়ালিটি কন্ট্রোল করে যাতে এরকম অঘটন ঘটার নুন্যতম সুযোগ থাকে।

“পপুলার ফার্মা তখনই এই ওষুধগুলো রিকল ও রিপ্লেস করার জন্য চিঠি দেয় সরকারকে”।

মিথ্যা। দুটি জেলায় ২০ জনের বেশি রুগি মারা যাওয়ায় সরকারই পপুলারকে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মিল্টেফসের উৎপাদন বন্ধ করতে চিঠি দেয়।

“এরই মাঝে একটা বেনামী চিঠি নানা জায়গায় ছড়িয়ে দিয়ে তাতে দাবী করা হয়, এই ওষুধে ভেজাল আছে; আর তা পরীক্ষা করা দেখা হয়েছে জার্মানির একটা ল্যাবে”।

মিথ্যা। বেনামী চিঠি না, গুজবও না, ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কালাজ্বর-বিষয়ক টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি সভায় মহাপরিচালক এম এ ফয়েজ নিজে জানান, কানাডার পেলাডিন ল্যাবরেটরি পপুলারের মিল্টেফস ক্যাপসুল পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ক্যাপসুলটিতে মিল্টেফসিনের কোনো উপাদান নেই। এছাড়াও আরো কয়েকটি বিদেশী ল্যাবে নানা রকমের পরীক্ষা করে প্রমাণ করা হয়েছে পপুলারের মিল্টেফসের মধ্যে কোন মিল্টেফসিন নেই। এবং এর জন্য শতভাগ দায়ী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। কোন কারনগুলো তথ্য প্রমাণের মাধ্যমেই বাদ দেয়া হয়েছে। এসব তদন্তের রিপোর্ট আমার আগের স্ট্যাটাসে দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়াই ছিলো পিনাকী ভট্টাচার্যের লক্ষ্য!

“সরকারী তদন্তে কোয়ালিটি ফেইলিওরের জন্য সুনির্দিস্ট করে ওষুধ সরবরাহকারী কোম্পানিকে অভিযুক্ত করা সম্ভব হয়না”।

এতক্ষণে লাইনে আসছেন উনি। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই তো স্ট্যাটাস দেয়া। আমরা জানতে চাই পপুলারের ম্যানেজমেন্ট কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে এতবড় দুর্নীতি করে পার পেয়ে গেল?

“পপুলার ফার্মা তারপরে যথারীতি আগের দেয়া ওষুধ যথানিয়মে ফিরিয়ে এনে, সেটা সহ বাকী ৮০% ওষুধের সাপ্লাই সম্পন্ন করে”।

মিথ্যা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে বাকি ছিলই ১৫%।

“সেই ওষুধ সবগুলো সরকারী কর্মসুচীতে সাফল্যের সাথে ব্যবহারও হয়। তবে বলাই বাহুল্য পরবর্তি সাপ্লাইয়ের প্রত্যেক ব্যাচের কোয়ালিটি কন্ট্রোল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র অনুমোদিত ল্যাবে ক্রস চেক করে সরকার সাপ্লাই নেয়। সাপ্লাই শেষ হবার পর যথানিয়মে পপুলার ফার্মা তাদের পেমেন্টও পায়”।

এ বিষয়ে আমরা পুরোই অন্ধকারে। এতগুলো মিথ্যার মধ্যে প্রমাণাদি ছাড়া উনার কোন কথাই বিশ্বাস করা নিরাপদ না। আশা করি উনি আমাদের আলো দেখাবেন।

“ওয়ান ইলেভেনের সরকার ও বিশ্ব ব্যাংক (যারা পদ্মা সেতুর বিষয়ে দুর্নীতির আলাপ হইছিল সেই বাতাসেই অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়)”।

এখন বিশ্বব্যাংক খারাপ?! তাহলে পদ্মা সেতুর বিষয়ে আমাদের মত বাকশালিদের অবস্থানই ঠিক ছিল।

আরও পড়ুন  পিনাকী ভট্টাচার্যের গোপনে ইসলাম গ্রহণ, মুসলিম নারী বিয়ে ও ইসলাম-ব্যবসা প্রসঙ্গ

“এই দুই পক্ষের হাতে নিস্পত্তি হওয়া একটা ঘটনা নিয়ে আমাকে অন্যায় ভাবে কলংকিত করার লক্ষ্যে অপপ্রচার ও অপচেষ্টায় নেমেছে বাকশলিরা”।

কিভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হল সেটাই তো জানতে চাই।

“এদের বুদ্ধির বহর দেখে আমি বিদ্রুপের হাসি হাসতেছি। সৌভাগ্যবানরা বুদ্ধিমান শত্রু পায়, আমি পাইছি অশিক্ষিত আর গর্দভ শত্রু”।

অশিক্ষিত গর্দভ বলেই তো মেডিক্যাল সায়েন্সে পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর উনার মত আবর্জনা ঘেঁটে দূর্গন্ধ ছড়াই। বুদ্ধিমান হলে হয় এমবিবিএস পাশ করে ডাক্তারি করার বদলে উনার মত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দালালি করতাম, না হয় অনলাইনে ধর্মান্ধদের বেতনভোগী কর্মচারী হতাম।

“এইটা খোদাতালার কেমন বিচার”?!!

সঠিক বিচার। পাপ কখনো চাপা থাকে না।

ছাগুদের আইকিউ লেবেলে উনার মত জ্ঞানপাপীই মহামানব। কিন্তু বাকশালিদের লেবেলে উনি স্রেফ একটা ডিজিটাল বাটপার। সাহস থাকলে মুরিদদের গালাগালি দিতে লেলিয়ে না দিয়ে আশা করি নিজে আমার ওয়ালে এসে অথবা আমাকে উনার ওয়ালে নিয়ে যেয়ে আলোচনা করবেন। যদিও অতীতে তথ্য প্রমাণ দিয়ে আলোচনা করার একটি উদাহরণও তিনি সৃষ্টি করতে পারেননি। পারবেনও বা কিভাবে? ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলালে নিজের উপরেই তো নিজের ভরসা থাকে না।

পাঠকের লেখা কলামে প্রকাশিত লেখার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে লেখকের, কর্তৃপক্ষের নয়।

পরিচিতি: ভাইরোলজিস্ট, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

Spread the love
  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    5
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।