জামায়াত নেতাদের বিশেষ অঙ্গ ধোয়া পানির রমরমা ব্যবসা!

0

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডপ্রাপ্তদের নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ধর্মের নামে অবিশ্বাস্য হারাম রীতিনীতি চালু করার তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি রাজশাহীতে গ্রেফতারকৃত শিবির ক্যাডার ইসমাইল হোসেন ও ছানাউল্লাহর পুলিশকে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে এ চাঞ্চল্যকর বিষয়টি উঠে এসেছে।

জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত শীর্ষ নেতাদের অনুপুস্থিতে নেতাকর্মীতের মনোবল সৃষ্টি এবং তাদেরকে দলের পূর্ণাঙ্গ গোলামে পরিণত করতে পাকিস্তানের জামাত নেতা মুনাওয়ারের পরামর্শে নেতাপুজার ধারণা বাস্তবায়ন শুরু হয়। মওদুদী এবং পাকিস্তানি তাহির কাদরির কিতাবের রেফারেন্স ব্যবহার করে “মজলিশ নেতাদের আনুগত্য ও আদবই জান্নাতের পথ” শীর্ষক একটি চটি পুস্তক প্রকাশ করেছে জামাত।

প্রকাশিত পুস্তকে বলা হয়েছে – “রিজিক ও দীর্ঘ আয়ুর জন্য গোলাম আজমের কবরে টাকা মানতে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়, কামিয়াবির জন্য কাদের মোল্লার কবরে মানত এবং সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য সাইদীর লিঙ্গ ধোয়া পানি পান করলে নিশ্চিত সাফল্য অর্জিত হবে।” একইভাবে নিজামীর পা ধোয়া পানি পানে আর্থিক উন্নতি, মোজাহিদের চুল থেকে তৈরি তাবিজ ধারণে মামলা মোকদ্দমা থেকে নিষ্কৃতি এবং কামারুজ্জামানের গোসলের পানি পানে বালা-মুসিবত দূর হওয়ার কথাও লেখা রয়েছে।

রাজশাহীর এক জামাতের নেতা জানান গত এক বছর যাবত জামাত শিবির আয়োজিত সকল ভোজসভার খাদ্য সাইদী-নিজামী-মোজাহিদ-কাশেম ও কামারুজ্জামানের গোসলের পানি দিয়ে তৈরি করা হয়।

“নেক দেলে পান করিলে মনের আশা পূরণ হইবে ইনশাল্লাহ”, “লিঙ্গ মোবারক ধোয়া পানি”, “পাকিস্তান বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা মুনওয়ার কর্তৃক প্রমাণিত সহি তরিকার নেক আমল”, “হাদিয়া ১৫০ টাকা মাত্র” ইত্যাদি বানোয়াট কথা লেখা আছে বোতলে।

জানা গেছে, মূল্য একই হলেও হাত পা ধোয়া, গোসল করা পানির তুলনায় সাইদীর লিঙ্গ ধোয়া পানির চাহিদা বেশি। প্রতি লিটার পানি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা ঢাকায় মূল্য ১৫০ টাকা। উল্লেখ্য রাজাকারদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পবিত্র এবং বরকতময় হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়ে অঙ্গের নামের পর মোবারক ব্যবহারের নির্দেশ রয়েছে প্রকাশিত চটি গ্রন্থে, যেমন সাঈদীর লিঙ্গ ধোয়া পানির নাম “আব-এ-লিঙ্গ মোবারক”। এসব অদ্ভুত রীতি বাণিজ্যিকভাবে প্রচার ও প্রসারে ছাত্র শিবির ও ছাত্রীসংস্থাকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে। কারাগারের কয়েকজন কারারক্ষী জামাত নেতাদের অঙ্গ ধোয়া এসব পানি সরবরাহ করে থাকে।

জামাত শিবিরের চালু করা এ নিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মোহাম্মদপুর ইকবাল রোড মসজিদের মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়েত শিবির প্রতিষ্ঠা থেকেই কুফুরি কর্মকান্ডে লিপ্ত। তারা তাদের নেতাদের নিরপরাধ মনে করে যে বক্তব্য পেশ করে তা শিরকের সমতূল্য। এখন যে নিয়মের কথা জানলাম তাতে বলতে পারি তারা নিশ্চিত জাহান্নামী।

এ ঘৃণ্য তৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে কারাগারে সঠিক নজরদারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ বাঞ্ছনীয় মনে করে সচেতন মহল।

ক্বারী ইকরামুল্লাহ মেহেদী
পেকুয়া, কক্সবাজার

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।