চিকিৎসার নামে শিশু ধর্ষণ | কবিরাজের যাবজ্জীবন

0

কুসংস্কার আমাদের জীবন এতটাই অন্ধকারে ডুবিয়ে রেখেছে যে, আমরা হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছি রীতিমতো। আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে নিরুপায় করে রেখেছে সমাজ ব্যবস্থাকে। এই অন্ধত্ব দূর করতে কেউই সচেষ্ট নয়। ফলে অপ-চিকিৎসার বিস্তার ঘটছে সর্বত্র। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাবে ভুক্তভোগীকে ভুগতে হচ্ছে জীবনভর।

চিকিৎসার নামে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ফুল মিয়া (৪৮) নামে এক প্রতারককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই রায়ে আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। রোববার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রামের দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোতাহির আলী এই রায় দিয়েছেন।

দণ্ডিত কথিত চিকিৎসক (স্থানীয়ভাবে কবিরাজ কিংবা বৈদ্য হিসেবে পরিচিত) ফুল মিয়া কুমিল্লার মুরাদনগরের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে। নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চন্দ্রনগর এলাকায় ছিল তার আস্তানা। ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া ফুল মিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের পিপি এম এ নাসের।

বাদির আইনজীবী বিবেকানন্দ চৌধুরী জানান, ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে এক শিশুকে নিয়ে তার পরিবার ফুল মিয়ার শরণাপন্ন হয়। তাবিজ কবজের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ধর্ষণ করতে হবে, এমন প্রস্তাব দেন ভণ্ড ফুল মিয়া। এক পর্যায়ে শিশুটির পরিবার এই ঘৃণ্য প্রস্তাবে রাজি হয়ে তাকে তুলে দেয় কবিরাজের বিছানায়! পরপর কয়েকদিন ফুল মিয়া শিশুটিকে ধর্ষণ করে। উপুর্যপরি যৌন নির্যাতনের ফলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে হুঁশ ফেরে পরিবারের। তখন বুঝতে পারে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে।

ওই বছরের ২২ জানুয়ারি ফুল মিয়ার বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা। ৫ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু ৭ জুলাই বাদি অভিযোগপত্রের উপর নারাজি দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় সংযোজনের আবেদন জানান।

আদালতের আদেশে ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ ৮ জনকে সাক্ষী হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।