ঘুমের সঠিক ভঙ্গিই সারিয়ে তুলবে আপনার ৭টি স্বাস্থ্য সমস্যা

0

জীবদ্দশার মানুষ এক তৃতীয়াংশ সময় ঘুমিয়েই কাটায়! ঘুমের মান এবং ঘুমানোর ভঙ্গিমা স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান দিতে পারে সঠিক ঘুমের ভঙ্গি। চলুন তাহলে জেনে নিই ঘুমের সঠিক ভঙ্গির বিষয়ে যা বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধান করে দেবে।

১। কাঁধে ব্যথা

কাঁধে ব্যথার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে চিৎ হয়ে শোয়া। মাথার নীচে পাতলা বালিশ রাখুন। আরেকটি বালিশ আপনার পেটের উপর রাখুন এবং একে জড়িয়ে ধরুন। এভাবে আপনার কাঁধ সবচেয়ে সঠিক এবং স্থায়ী ভঙ্গিতে থাকবে।

২। পিঠে ব্যথা

আপনার যদি পিঠে ব্যথার সমস্যা থাকে তাহলে নরম বিছানায় শোবেন না। আপনার জন্যও চিৎ হয়ে শোয়া সবচেয়ে ভালো উপায়। এক্ষেত্রে আপনার হাঁটুর নীচে একটি বালিশ দিয়ে রাখুন, এতে আপনার মেরুদন্ড সঠিকভাবে থাকবে এবং আপনার শরীরের টেন্ডনের টেনশন কমবে। আপনার পিঠের নীচের অংশে একটি তোয়ালে গোল করে পেঁচিয়ে দিয়ে রাখতে পারেন। যদি আপনার চিত হয়ে শুতে সমস্যা হয় তাহলে পাশ ফিরে ঘুমান এবং পা দুটো হালকা বাঁকা করে বুকের কাছাকাছি নিয়ে আসুন। দুই হাঁটুর মাঝখানে ছোট বালিশ রাখতে পারেন। এতে পিঠের নীচের অংশের ভার কমবে।

৩। ঘাড় ব্যথা

পিঠে ব্যথার মতোই ঘাড়ে ব্যথার ক্ষেত্রেও ঘুমানোর সময় সাপোর্ট প্রয়োজন। সাধারণভাবে এর জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে চিৎ হয়ে শুয়ে মাথার নীচে এবং দুই হাতের নীচে দু’টি বালিশ দিয়ে ঘুমানো।

৪। নাক ডাকা

যদি আপনার নাক ডাকার সমস্যা থাকে তাহলে চিৎ হয়ে শুবেন না। এভাবে ঘুমালে গলার টিস্যু এবং জিহ্বা পেছনের দিকে চলে যায় বলে গলার বায়ু চলাচলের পথটি ছোট হয়ে আসে। তাই নরম বালিশে ঘুমাবেন না এবং পাশ ফিরে ঘুমান। মাথা উঁচুতে রাখার জন্য অতিরিক্ত বালিশ ব্যবহার করুন। বিশেষ কিছু ব্যায়াম আছে যা গলার ও জিহ্বার পেশীকে শক্তিশালী করতে পারে, সেগুলো করতে পারেন।

৫। পায়ে টান পড়া

সাধারণত পায়ের পাতা, কাফ মাসল এবং ঊরুর পেশী শক্ত হয়ে গেলে বা হঠাৎ করে সংকুচিত হয়ে গেলে পায়ে টান পড়ার সমস্যা হয়। প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এই সমস্যাটিতে ভোগে। রাতে পায়ে টান পড়ার সমস্যা কিছু রোগের সাথে সম্পর্কিত যেমন- স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্থ হলে অথবা প্রয়োজনীয় কোন উপাদানের অভাবে। যদি প্রায়ই আপনার এই সমস্যাটি হয় তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। ঘুমানোর আগে যোগ ব্যায়াম বা পায়ে ম্যাসাজ করাও উপকারী হতে পারে।

৬। বুক জ্বালাপোড়া

যদি আপনার বুক জ্বালাপোড়া হওয়ার সমস্যা থাকে তাহলে বাম পাশে কাঁত হয়ে ঘুমাবেন। এতে পাকস্থলীর উপাদান অন্ননালীতে উঠে আসাকে প্রতিরোধ করা যায় বলে বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা প্রতিরোধ হয়।

৭। পা কামড়ানো

আপনার কি রাতে পা কামড়ানোর সমস্যা হয়। তাহলে ঘুমানোর সময় পা দুটো একটু উঁচুতে রেখে ঘুমান। এতে পায়ের ভেইনে রক্ত এসে ভিড় করবে না, এতে আপনি ভালো অনুভব করবেন। এছাড়া ঘুমানোর আগে পায়ে হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন।

সূত্র: ব্রাইট সাইড

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।