জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম, অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে কাফেরদের আতঙ্কিত করুন: মুফতি ইব্রাহিম (ভিডিও)

3

ফিচার ডেস্ক:

মুফতি কাজী ইব্রাহিমের ধর্মীয় উস্কানিমূলক ওয়াজের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা গেলো, তিনি বলছেন- জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করার অর্থ সন্তান খুন করা। একাধিক সন্তান জন্ম দিলে তাদেরকে খাওয়ানোর দায়িত্ব আল্লার। তিনি নিজে ১১টি সন্তান নিয়েছেন, বাকিদেরকেও সেই উদাহরণ অনুসরণ করতে বলেছেন। একের পর এক সন্তান জন্ম দিয়ে ইউরোপ দখল করে নেয়ার স্বপ্নে বিভোর এই বিতর্কিত ইসলামিক বক্তা। তার ওয়াজগুলোতে প্রায়শঃ দেখা যায় অবৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ফুলঝুরি। পুরুষদের টেস্টোস্টেরন উৎপাদন হয় পায়ের গোড়ালি থেকে, রাত ৯টার পর ঘরের লাইট জ্বালানো থাকলে ক্যান্সার হয়…ইত্যাদি। দেশের অশিক্ষিত জনগণ এসব বক্তাদের ওয়াজে বিভ্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপগুলো মূলতঃ অকার্যকর হয়ে পড়ে এসব মোল্লাদের কারনে- সচেতন জনগণের অভিমত এমনটাই।

মুফতি কাজী ইব্রাহিম সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ধর্মীয় জঙ্গীবাদে অর্থায়ন, উস্কানি, অর্থ পাচারসহ কয়েকটি অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হওয়া চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামী এবং ইসলামিক বক্তা জাকির নায়েকের মালিকানাধীন পিস টিভি ও তার সংস্থার পরিচালনাধীন বাংলাদেশের পিস স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ‘উগ্র সালাফি মতবাদে’র চর্চায় দীক্ষিত করার অভিযোগ পুরনো। বাংলাদেশে এই চর্চা শুরু হয় মুফতি কাজী ইব্রাহিমের হাত ধরে। ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার ঘটনার পর হামলাকারী জঙ্গিদের অনেকেই জাকির নায়েকের লেকচারে অনুপ্রাণিত- এই তথ্য পাওয়ার পর তৎপর হয়ে উঠেছেন গোয়েন্দারা। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে পিস টিভি ও পিস স্কুলের অন্যতম উদ্যোক্তা কাজী ইব্রাহিমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি আছে।

সালাফি মতবাদের ৮ টি গ্রুপের অন্যতম হচ্ছে উগ্রবাদ; যারা সিরিয়াকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু করে কয়েক বছর আগে। জাকির নায়েকও ওই মতবাদের অনুসারী। উগ্র সালাফি মতবাদের অন্যতম প্রচারক আইএস-কে জাকির নায়েক কর্তৃক অর্থায়নের প্রমাণ পেয়েছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। কাজী ইব্রাহিম, মাওলানা জসিম উদ্দীন রাহমানী (গ্রেফতারকৃত), আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ (পলাতক)ও এই চিন্তাধারায় বিশ্বাসী বলে জানা যায়।

জাকির নায়েকের অনুসারীদের মতে, ৫ ওয়াক্ত নামাজের পর মোনাজাত করা যাবে না। ইসলামে টাই পরা জায়েজ। শবে বরাত পালন করা হারাম। তারাবির নামাজ সাধারণ ২০ রাকাত পড়া হলেও তারা ৮ রাকাত মনে করেন। পীর-মাশায়েখদের মাজার জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ হারাম ইত্যাদি। আলেমদের অভিযোগ, জাকির নায়েক ও তার অনুসারীরা এই বিষয়গুলো নিয়ে ইসলামে বিভক্তি সৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে পিস টিভিকে ব্যবহার করতো। ইসলামী ছাত্র মজলিসের সাবেক সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন সাদী জানান, দারুল উলুম দেওবন্দসহ বাংলাদেশের আলেমরাও জাকির নায়েকের এসব চিন্তাধারার বিরোধী।

ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও লালবাগ জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়ার সিনিয়র শিক্ষক মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, জাকির নায়েক ও তার অনুসারীরা চার ইমামের মাজহাব মানেন না। এমনকী জেএমবি, জসিম উদ্দীন রাহমানী, ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাই; তারা সালাফি মতবাদের অনুসারী ছিল।

গোয়েন্দা নজরে কাজী ইব্রাহিম!

‘আমরা আপনাদের দলে নেই। জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলবেন না। এসব আমরা গাই না। এগুলো ইসলামবিরোধী কাফেররা গায়, আমরা না। আর ইসলাম হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম।’ এটি উগ্রবাদী জঙ্গিনেতাদের বক্তব্য বলে মনে হলেও আদতে তা নয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য উগ্র ও ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে রীতিমতো আক্রমণাত্মকভাবে কথাগুলো বলেছিল প্রথম শ্রেণির একটি শিশু! গত বছরের শেষের দিকে লালমাটিয়ায় বি ব্লকে অবস্থিত ‘পিস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল’- এর এক শিশুর সাথে গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে উঠে এসেছিলো এই ভয়ংকর পরিস্থিতি।

লালমাটিয়ার পিস স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন কাজী ইব্রাহিম। তিনি পিস টিভিতে বক্তব্য রাখতেন এবং নিয়মিত দেশের বিভিন্নস্থানে নিজেদের মতাদর্শভিত্তিক প্রচার চালান। ধর্মভিত্তিক একটি ইসলামী সংগঠনের সাবেক শীর্ষনেতা দাবি করেন, মুফতি কাজী ইব্রাহিম প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ছিলেন। তবে দলটিতে তারা সাংগঠনিক পদমর্যাদা ছিল কি না, এ নিয়ে সুনিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত নেতা ও চ্যানেল আই’র জনপ্রিয় উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার ঘটনায় চারটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ছয়জন উপস্থাপককে আসামি করে পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ওই মামলায় মূল আসামিদের মধ্যে পিস টিভির উপস্থাপক কাজী ইব্রাহিমও রয়েছেন। এই ছয়জনকে ফারুকী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তুষারের আর্জিতে। ওই মামলাটি তদন্তাধীন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।