পতিতাবৃত্তি, ইয়াবা ব্যবসা ও জঙ্গীবাদের দায়ে ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ২৩ কর্মী আটক

8

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গ সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রীসংস্থার’ ২৩ কর্মীকে আটক করেছে কদমতলী থানা পুলিশ। বিশেষ সূত্রে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে। ওই অভিযানে ৭৯ প্যাকেট বিদেশি কন্ডম, ১২০০ পিস ইয়াবা, ২১ বোতল ফেন্সিডিল, যৌন উত্তেজক পানীয়, পর্ন ম্যাগাজিন ও ডিভিডি, জঙ্গিবাদে উস্কানিমূলক বই ইত্যাদি উদ্ধার করা হয়েছে।

কদমতলী থানা সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রী সংস্থার প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী খণ্ডকালীন পতিতাবৃত্তি, ইয়াবা বিক্রয়সহ নানা ধরণের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। জানা যায়, ছাত্রী সংস্থার নেত্রী নাঈমা, ফারজানা ও তানজিনা এসব ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। কদমতলী, গোরান, খিলগাঁও সহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে এই চক্রটি।

স্থানীয় একটি বাড়ির মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওই বাড়িটিতে প্রতিদিন বহু নারী-পুরুষের আনাগোনা ও অসংলগ্ন আচরণ দেখে এলাকাবাসীর মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ওই বাড়ির মালিক জামায়াত নেতা মোয়াজ্জেম হোসেনকে কয়েকবার অভিযোগ জানানোর পরও তিনি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো স্থানীয় শিবির ক্যাডারদের লেলিয়ে দেন অভিযোগকারীদের হেনস্তা করার জন্য। পরে এলাকার পরিবেশ ও সন্তানদের মানসিক বিকাশের কথা বিবেচনা করে উক্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ওয়ারী বিভাগ) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের কাছে অভিযোগ জানান।

অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৩ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত সকলেই ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মী। তাদের বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তি, ইয়াবা ব্যবসাসহ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজন বেড়াতে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।

মামলার এক তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রের সদস্য সংখ্যা দুই শতাধিক। দুই বছর আগে দক্ষিণ গোরানের ৬ নম্বর রোডে ‘স্কাইভিউ’ ৩১৬/৪ ভবনের ফ্ল্যাট এ-১ থেকে এ চক্রের ২৪ জন কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, শাহনাজ ও নাঈমা নামে এই যৌন-র‌্যাকেটের পরিচালনাকারী দুই নারী নেত্রী প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা এবং দামি পোশাক ও রূপচর্চা সামগ্রী উপহার হিসেবে প্রদান করে স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ছাত্রী সংস্থার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করেন। পরবর্তিতে বিলাসবহুল জীবনের লোভে অনেকেই জড়িয়ে পড়ে শাহনাজ-নাঈমার পরিচালিত অপরাধ জগতে। খণ্ডকালীন যৌনকর্মী হিসেবেই তারা স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করে বলে জানান দুই নেত্রী।

যাত্রাবাড়ির কদমতলীতে জামায়াত নেতা মোয়াজ্জেমের বাড়ির পাঁচ তলার ফ্ল্যাটটি ১২ জন থাকার উপযোগী হলেও প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ জন তরুণ-তরুণী নিয়মিত অবস্থান করে। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও উচ্চবিত্ত ছাড়াও সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা ও জামায়াত শিবিরের নেতাদের মনোরঞ্জন করা হয়। এছাড়া ১০ থেকে ১৫ জন ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও ফেন্সিডিল সরবরাহ করায় নিয়োজিত রয়েছে। নারী বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখও ফাঁকি দিতে পারে সহজেই। এছাড়া বোরখার আড়ালে সহজেই মাদক পাচার করার সুবিধা পায় তারা।

পতিতাবৃত্তি ও মাদক ব্যবসা ছাড়াও উক্ত ফ্ল্যাট থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয় বলে জানিয়েছেন উক্ত গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

কদমতলীর থানার ওসি এম এ জলিল বলেন, “দনিয়ার নূরপুরে মোয়াজ্জেম হোসেন নামের ওই জামায়াত নেতার পাঁচতলা ভবনের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে তারা সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড চালনার বিষয়ে বৈঠক করছিল।”

এ চক্রের নারী কর্মীরা শিবির কর্মী ও জঙ্গীদের কাছে বোমা ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে লিপ্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Spread the love
  • 90.9K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    90.9K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।