বাংলাদেশি তারকাদের মধ্যে কার বিদ্যার দৌড় কতোটা?

0

অনেকেই বলেন, মিডিয়ায় যারা কাজ করেন, তাদের নাকি পড়াশোনা খুব বেশি না। কিন্তু এটা আসলে ঢালাওভাবে বলার মতো বিষয় না। অনেক উচ্চ শিক্ষিত মিডিয়াকর্মী রয়েছেন আমাদের দেশে, যারা তাদের পড়াশোনা সম্পর্কিত পেশায় না গিয়ে বিনোদন জগতকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছেন।

ঢাকাই চলচ্চিত্রে উচ্চ শিক্ষিত তারকাদের সংখ্যা হাতে গোণা। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে যাওয়ায় নিয়মিত পড়াশোনা থমকে রয়েছে অনেকের। তাই অনেকেই নিজেদের শিক্ষা নিয়ে পারতপক্ষে মুখ খোলেন না। তারকাদের শিক্ষা জীবন নিয়ে রয়েছে নানা মুখোরচক মিথও।

যারা এগিয়ে আছেন

মঞ্চ ও নাটক মাধ্যমের শিল্পীদের বেশিরভাগই উচ্চশিক্ষিত। একই সঙ্গে সিনেমার সিনিয়র তারকাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষায় সার্টিফিকেটধারী। ঢাকার ছবির শুরুটাও অনেক বর্ণাঢ্য।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়েছেন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের করাচিতে তিনি পড়াশোনা করেছেন। ইলিয়াস কাঞ্চন স্নাতকসম্পন্ন। অভিনেতা ও পরিচালক সোহেল রানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছাত্র রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। প্রয়াত খ্যাতিমান অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম বুয়েট থেকে স্থাপত্যবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। জাকিয়া বারী মম নাট্যকলায় স্নাতক শেষ করে উচ্চতর পড়াশোনা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুমাইয়া শিমু পিএইচডি করছেন।

চিত্রনায়ক-প্রযোজক অনন্ত জলিলের দাবি- যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করেছেন তিনি। অন্যদিকে অনেক আগেই শান্ত-মারিয়ম থেকে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সোহানা সাবা।

খ্যাতিমান খল অভিনেতা মিশা সওদাগর ব্যবস্থাপনায় পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। একই প্রতিষ্ঠানের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় পড়েছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। সিনিয়র অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করেছেন বলে দাবি করেন চিত্রনায়ক জায়েদ খান। ইডেন মহিলা কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছেন অভিনেত্রী রুনা খান। ফিল্ম স্টাডিজের ওপর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেছেন স্বাগতা। চিত্রনায়ক রিয়াজের কলেজ জীবন শুরু হয় যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজে এইচএসসিতে ভর্তির মাধ্যমে। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স একাডেমিতে ১৯৯১ সালের জুন পর্যন্ত অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি সম্পূর্ণ করেন।

চিত্রনায়িকা ববি হক আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করেছেন। নায়িকা রত্না জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। এছাড়াও রত্না সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি পাস করেছেন সম্প্রতি। তিনি ঢাকা ক্যাপিটাল ল’ কলেজ থেকে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী হিসেবে এলএলবি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এই কলেজের পাসকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রত্না মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।

অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স করেছেন। চিত্রনায়িকা আলিশা প্রধান ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিষ্ঠান থেকে এ লেভেল সম্পন্ন করে অর্থনীতি পড়ছেন ইডিক্সেল-এ। আর নায়িকা আঁচল স্ট্যামফোর্ড থেকে বিবিএ সম্পন্ন করেছেন। অর্চিতা স্পর্শিয়া ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করেছেন। মডেল-অভিনেত্রী পিয়া লন্ডনকেন্দ্রিক একটি কলেজে আইন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন এখনও।

যারা ক্লাসে নিয়মিত নন

হালের তরুণ প্রজন্মের তারকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকে শিক্ষাজীবন ধারাবাহিক রাখলেও নিয়মিত ক্লাস করতে পারছেন না। চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। একই অবস্থা চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়ারও। তিনি এআইইউবিতে বিবিএ’তে অষ্টম সেমিস্টারের ছাত্রী। সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে পড়াশোনা করেছেন পিয়া বিপাশা। এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক করছেন।

নতুনদের মধ্যে সাবিলা নূর নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। অভিনয়শিল্পী জোভানও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক করছেন। মডেল বিথী রানী সরকার ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে (শান্তা মারিয়াম-উত্তরা ক্যাম্পাস), মৌসুমী হামিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনার একটি কলেজে অনার্সে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি কাজের ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত ক্লাসে যেতে পারেন না।

জানা যায়, বিদ্যা সিনহা মিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বেশি দিন ক্লাস করতে পারেননি। নতুন করে ভর্তি হয়েছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানকার পড়াশোনাও শেষ করতে পারেননি এ লাক্স সুন্দরী। নিয়মিত ক্লাস না করেও শিক্ষা জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক বাপ্পী চৌধুরী। তিনি জানান, ক্লাসে না গেলেও নিয়মিত পরীক্ষাগুলোয় অংশ নেন। পাশাপাশি শিডিউল না থাকলে ক্লাস করেন তিনি। তমা মির্জা আইনে পড়ছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইতোমধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

বড় তারকাদের শিক্ষাজীবন, অন্ধকারে তথ্য

চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে বলছেন, বড় নায়ক নায়িকারা তাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না। ব্যস্ততা ও খ্যাতির খাতিরেই পড়াশোনা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যান তারা।

চিত্রনায়িকা মৌসুমীর শিক্ষাজীবন নিয়ে কোনও তথ্য জানা যায়নি। বাংলাদেশের শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনমত ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি তিনি ও বাংলাদেশের খ্যাতনামা জাদুকর জুয়েল আইচ ইউনিসেফ অ্যাডভোকেটের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা যায়নি এক সময়ের স্বনামখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেত্রী শাবনুরের শিক্ষা জীবনের কোনও খবরও। তবে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলচ্চিত্র বিষয়ক পড়াশোনা করেছেন বলে খবর মিলেছে।

এই সময়ে বাংলা সিনেমার সবচেয়ে বড় তারকা চিত্রনায়ক শাকিব খান। অনেক কাছের মানুষও জানেন না তার শিক্ষা জীবন সম্পর্কে। তার এক ছবির প্রযোজক জানান, ‘শাকিব খান কাছের মানুষদের বলতে শুনেছেন, তিনি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন এবং প্রায়শই তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রকৌশলী হতে চেয়েছিলেন। কয়েকটি সাক্ষাৎকারে অবশ্য তিনি নিজেকে স্নাতক পাসও দাবি করেছিলেন। ইদানীং বিষয়টি তিনি সচেতনভাবে এড়িয়ে যান। তবে একাধিক ঘনিষ্ট ব্যক্তির মতে শাকিব খান এইচএসসি পাস করেছেন।

নায়িকা অপু বিশ্বাস পড়েছেন এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুলে। এরপর আলোর মেলা, ক্রিসেন্ট হাই স্কুল এবং সব শেষে ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে এরপর তার শিক্ষা জীবনের পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে রয়েছে রহস্য। অপু বিশ্বাস নিজে কখনও কাউকে এ বিষয়ে বলেননি।

এছাড়া নায়িকা সিমলা শৈলকূপা গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শৈলকূপা সরকারী কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন। কিন্তু দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময়ই চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন বলে পড়াশোনার অকাল মৃত্যু ঘটে।

জনপ্রিয় অভিনেতা সজল জানান, তিনি অনেকে আগেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেছেন। অভিনেত্রী বিন্দুও একই বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন।

একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম, ফারুক আহমেদ, মাজনুন মিজান প্রমুখ।

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশের বর্তমান চলচ্চিত্র তারকাদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব অনেক বেশি হলেও টেলিভিশন বিভাগে সেটি খুব কমই। জানা গেছে, প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পাশ করেছেন আফজাল হোসেন, বিপাশা হায়াত, চঞ্চল চৌধুরী, সাজু খাদেম, প্রাণ রায়সহ এমন বেশ ক’জন তারকা শিল্পী।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেছেন অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফা (ইংরেজি বিভাগ), রোকেয়া প্রাচী, বিজরী বরকতুল্লাহ, বন্যা মির্জা এবং গোলাম ফরিদা ছন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অভিনেতা আজাদ আবুল কালাম, অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ, মডেল ফয়সাল ব্যাবস্থাপনা বিভাগ থেকে, ব্যবসায় প্রশাসনে ব্যাচেলর (মার্কেটিং) ও মাস্টার্স (ফাইন্যান্স) শেষ করেন তাহসান খান। এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে অভিনেতা-নির্মাতা তৌকীর আহমেদ পড়াশোনা করেছেন বুয়েট থেকে। স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন অভিনেতা মোশাররফ করিমও। তবে তার কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম জানা যায়নি।

ছোটপর্দার অভিনেতা নাঈম নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স শেষ করেছেন।

অভিনেত্রী জেনির শিক্ষাজীবনের খোঁজ নিতে গিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথের কথা জানা গেলেও সেটি অসম্পূর্ণ বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। তবে বর্তমানে অভিনয়ে অনিয়মিত অভিনেত্রী ঈশিতা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। এদিকে উপস্থাপক-অভিনেত্রী নাবিলা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন ২০১০ সালে।

বর্তমানে দুই বাংলার প্রিয় মুখ জয়া আহসান ব্যবস্থাপনা বিষয় নিয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন ইডেন মহিলা কলেজ থেকে। অন্যদিকে লাক্স সুন্দরী বাঁধন বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে বিডিএস (গ্র্যাজুয়েশন) সম্পন্ন করেছেন।

এদিকে অভিনেত্রী ভাবনা ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস থেকে ইংরেজি এবং নাজনীন হাসান চুমকী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। আর এই সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাডেমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি সেখানকার ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও বেশ সক্রিয় ছিলেন।

এই সময়ের অন্যতম আলোচিত নায়িকা পরীমনির শিক্ষাজীবনের তথ্য পরিষ্কার জানা যায়নি। নিজের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা হলেও পিরোজপুরে নানাবাড়িতে বড় হয়েছেন বলে জানা গেছে ঘনিষ্ট একটি সূত্রে। সূত্র জানায়, খুব সম্ভবত তিনি এসএসসি পাস করেছেন!

পরীর প্রথম ছবি রানা প্লাজা ছবির পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘‘যখন আমি ‘রানা প্লাজা’ করার জন্য পরীকে চূড়ান্ত করি তখন যতদূর জানতাম ও উচ্চমাধ্যমিকে পড়ত। তবে পরীক্ষা দিয়েছে কী না, জানি না।’’

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় পরীমনির সঙ্গে। তিনি বিরক্ত প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলবো না।’ তবে গুগল উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে, তিনি বর্তমানে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগে সন্মানের ছাত্রী!

এছাড়া পূর্ণিমা, পপি, বর্ষা, সিমলা, সায়মনসহ অনেক নায়ক-নায়িকাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে পরিষ্কার কোনও তথ্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের ফোন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

তারা যা বললেন

দেশের অন্যতম নায়ক ও পরিচালক সোহেল রানা বলেন, ‘কারও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আর একজন শিল্পীর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা না থাকা কোনও বিষয় নয়, পৃথিবীর অনেক গুণী শিল্পী আছেন যারা বেশি দূর পড়েননি। পড়ালেখা এক জিনিস আর প্রয়োগ আলাদা। এখানে শিল্পীদের অভিনয় যোগ্যতাই প্রধান।’

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিনেত্রী বলেন, ‘পড়াশোনা নিয়মিত করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেকে অভিনয়ে ব্যস্ত হওয়ার আগে পড়াশোনা ছেড়ে দেন। এটা ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে অভিনয়টাও যে শিখতে হয়, সেটা তারা বুঝতে পারেন না। অর্থ আয়টা বড় হয়ে ওঠে।’

ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ শেষ করা চিত্রনায়িকা ববি বলেন, ‘শুধু অভিনয় কেন, শিক্ষা তো মানুষ মাত্রই দরকার। আধুনিক যুগে মানুষ তো শিক্ষাটাকেই যাচাই করে। যদিও অনেক শিক্ষিত মানুষ আছে, যারা দুর্জন। এ কারণে অভিনয় যেহেতু বড় শিল্প মাধ্যম, এখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা জরুরি।’

ইডেন কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করা অভিনেত্রী রুনা খান বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, একাডেমিক শিক্ষার অবশ্যই দরকার আছে। আর এই শিক্ষাটা সম্পূর্ণ করতে পারাটা নিঃসন্দেহে আনন্দের। এবং এটি শেষ করা যে কারও জন্যই উচিত। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, অভিনয়ের জন্য আগে তো শিক্ষাগ্রহণ করার তেমন সুযোগ ছিল না। এখন কিন্তু বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিনয়ের ওপর বিষয় আছে। আমার জানা মতে, ইউল্যাবেও নাট্যকলা আছে। যারা আসতে চায় এই শিল্পে, তাদের জন্য এটা বড় সুযোগ। এর মানে কিন্তু এই না, এগুলো পড়েই অভিনয়ে আসতে হবে। অন্য বিষয় থেকেও হতে পারে, তবে অবশ্যই অভিনয় জানতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘একজন অভিনয় শিল্পীর অভিনয় করার সময় কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের রিঅ্যাক্ট করতে হবে, এছাড়া অভিনয়ের বেসিক কিছু বিষয় জানার জন্য একাডেমিক জ্ঞান থাকাটা জরুরি। কেননা, অনেকেই হয়তো প্রাকৃতিকভাবে এই জ্ঞান অর্জন করেন। কিন্তু সবার পক্ষে সেটা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে একাডেমিক জ্ঞান তাদের জন্য সহায়ক হয়।’

তারকাদের শিক্ষা বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান বলেন, ‘যেকোনও ক্ষেত্রেই পদ্ধতিগত শিক্ষার কোনও বিকল্প নেই। যেমন আমাদের ক্রিকেটর প্রাতিষ্ঠানিক রুপ আছে বলেই আজ ক্রিকেটে এত উন্নতি। সভ্যতার শুরু থেকেই মানুষ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুর কাছে শিক্ষা নিত। সে দিক দিয়ে অভিনয় তো একটি শিল্প। অতএব, এর বিস্তারের ক্ষেত্রে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ অবশ্যই জরুরি।’

তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।