আসিফ নজরুলকে জুতাপেটা করতে বলেছিলেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম

0

ফিচার ডেস্ক:

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম যে ক’জনকে নিজের ছেলের মত স্নেহ করতেন, আসিফ নজরুলও ছিল তাদের একজন। তাদের মাঝে আসিফ নজরুল সহ আরও দুই জন জননীর জীবদ্দশায়ই তাঁর সাথে এবং আন্দোলনের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। পুরনো স্মৃতি থেকে এমনটাই বলেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল পাশা চৌধুরী।

গণ আদালতের পরে প্রধান কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর অপরাধ সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য আমরা ‘গণ তদন্ত কমিশন’ নামে একটা কমিশন গঠন করি। জনাব খান সারোয়ার মুর্শিদকে চেয়ারম্যান ও আসিফ নজরুলকে সচিব করা হয় কমিশনের। নিজামী, সাকা চৌধুরী, কামরুজ্জামান, মুজাহিদী সহ শীর্ষ রাজাকারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় বেশ জোরেশোরে। তখন একদিন জাহানারা ইমাম জরুরী ভিত্তিতে আমাকে ডাকলেন, গিয়ে দেখি তিনি ভীষণ উত্তেজিত, যা তাঁর স্বভাব বিরুদ্ধ। আমাকে দেখেই বললেন- ‘আসিফ যদি কখনও আমার বাড়ি বা আমাদের কোনও সভায় আসে তবে তাকে সোজা জুতাপেটা করবি। ‘তাঁর এ ধরনের নির্দেশ এটাই সম্ভবত প্রথম এবং শেষ।

পরে জানলাম আসিফ নজরুল জননীকে বলেছে যে সে কমন ওয়েলথ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করেছে, এই আন্দোলনে থাকলে স্কলারশিপটা পাবেনা, তাই সে আর কাজ করবেনা। আমি তখন তার অপেক্ষায় না থেকে তাকে খুঁজতে শুরু করি। অনেক খোজাখুজি করেও আর তাকে পাইনি। কমিশনের সকল কাগজ-পত্র নিয়ে ততদিনে সে লাপাত্তা।

আসলে কমিশনের গোপন দলিলগুলো বিরোধী পক্ষের হাতে তুলে দেয়ার বিনিময়েই সে এই স্কলারশিপটা বাগিয়েছিল।

আসিফ নজরুলের টক-শো বাণিজ্য এবং ভণ্ডামির খবর:

টিভি চ্যানেলের টক-শো’তে অংশগ্রহণকারী আলোচকরা সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা সম্মানী পান বলে আমরা জানি। কিন্তু কিছু আলোচককে টক-শো’তে ডাকার জন্য উল্টো চ্যানেলকেই মোটা অংকের টাকা দেওয়া হয়। এদের একজন আসিফ নজরুল। তাকে একটি অনুষ্ঠানে ডাকলে সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা পায় চ্যানেল। আর এই টাকা দেয় জামায়াতে ইসলাম।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর জন্য যে কয়জন কথিত বুদ্ধিজীবিকে জামায়াত ভাড়া করেছিলো তার তালিকা দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিলো। প্রতিবেদন অনুসারে ২৭ আগস্ট ২০১০ তারিখে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী আমির রফিকুল ইসলামের গ্রেফতারের একটি খবর দেয়। তাকে ধরার সময় তার কাছ থেকে নানা কাগজপত্র জব্দ করে পুলিশ।

উদ্ধার করা নথি অনুসারে জামাতের ‘নিজস্ব’ বিশিষ্টজনদের তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, কমরেড সাইফুল হক ও ফরহাদ মজহার। সাংবাদিক মাসুদ কার্জনের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- উদ্ধারকৃত কাগজপত্র অনুসারে যুদ্ধাপরাধের বিচার ইস্যু নিয়ে ঘন ঘন সেমিনার করা হবে। যারা সরাসরি জামায়াতের রাজনীতি করেন না এরকম বিশিষ্টজনদের এসব সেমিনার বা আলোচনায় হাজির করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিলেও কোনো কারণে এখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহজোট সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয় এরকম ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে সেমিনারে টানতে হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী ও শাহাজাহান সিরাজ। সেমিনারে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য ধারণ করে বুকলেট ও ডিভিডি তৈরি করে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে কর্মপরিকল্পনায়।’

তালিকার শীর্ষে থাকা আসিফ নজরুল ওরফে নজরুল ইসলাম খান যার আসল নাম সেলিম মিয়া, যা ভাঁড়িয়ে তিনি চটকদার নামে নিজেকে উপস্থাপন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে শিক্ষকতা করেন। নিজেকে সুশীল সমাজের প্রতিনিধির তালিকায় শীর্ষে রাখেন। আসিফ নজরুলের ব্যাক্তি জীবন ঘাটতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এসেছে সাপ। জানা গেছে নানা কেলেংকারির গল্প। বছরখানেক আগে তিনি আলোচনায় এসেছেন হুমায়ুন আহমেদের কনিষ্ঠা কন্যা শীলা আহমেদকে বিয়ে করে। ইসলামী শরীয়া মতে এতে তার চতুর্থ বিবাহ হলেও নারী কেলেংকারি ছড়িয়ে আছে তার এই বয়সকালের প্রতিটি পরতে।

বার্ডস আই’র অনুসন্ধানে আসিফ নজরুলের অতীত সম্পর্কে যা জানা যায়- তিনি থাকতেন লালবাগে। ছাত্রাবাসে তিনি ‘সেলিম মিয়া’ নামে পরিচিত ছিলেন। ঐ এলাকার জ্যেষ্ঠ মুদি দোকানদার ও এলাকাবাসী বলেন, স্বভাবের দিক থেকে কখনোই তাঁর চরিত্র ভাল ছিল না। দুই- দুইবার মেস বদল করে দেখা গেছে, এক একটি মেয়ের সাথে তার সম্পর্ক হতো, তাদেরকে নিয়ে সারাদিন মেসের দরজা বন্ধ করে সময় কাটাতেন। এর পর আবার মেয়ে পরিবর্তন হত। দিনভর কাটিয়ে মেয়েরা মাগরিবের নামাজের আগে বেরিয়ে যেত।


ছবি: টকশো বন্ধু আসিফ নজরুল ও সাংবাদিক মর্তুজা

সূত্রমতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে এই আসিফ নজরুলের নামে কোনো শিক্ষক নেই। সেখানে নজরুল ইসলাম বলে যে শিক্ষকের নাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারে রয়েছে- সেই তিনিই হলেন প্রত্যুৎপন্নমতি এই আসিফ নজরুল। আইন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে নিজের লেখা উচ্চমানের বই রচনার সামর্থ্য থাকলেও ব্যক্তি চরিত্রের নোংরামীর জন্য সময় বের করতে পারেন না এই বাকপটু আসিফ। কারণ, টেলিভিশন টক-শোতে যেদিন না যান, সেদিন কোনো না কোন নারীর সঙ্গে তিনি সময় কাটাবেনই- তা ধরা পড়েছে।

এদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু বার্ডস আইকে স্বীকার করতে বাধ্য হন, কারোর ব্যক্তিগত বিষয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আর সে তো স্ব-ঘোষিত লুচ্চা! সে তার জীবন সঙ্গিনীর প্রশ্নে বিনা দ্বিধায় বলে, “আমার এক তরকারী বেশী দিন খেতে ভাল লাগেনা।”

বার্ডস আই এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আসিফ নজরুল এ পর্যন্ত সামাজিক ভাবে ৪টি বিয়ে করেছেন। তন্মধ্যে দু’জনাই তাঁর ছাত্রী ছিলেন। সর্ব শেষ দুটি বিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের দুজন নারীকে করায় তা সর্বত্র আলোচিত হয়ে উঠেছিল। এর মধ্যে প্রয়াত পুলিশ সার্জেন্ট আহাদে’র নাট্যকর্মী স্ত্রী রোকেয়া প্রাচী এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর মেয়ে শীলা আহমেদ থাকায় আসিফ নিয়ে আলোচনা সব সময় ছিল।

আসিফ নজরুলের ব্যক্তিগত খবর নিলে নানান অনৈতিক খবরের প্রমাণাদি বার্ডস আই এর হস্তগত হয়। যেখানে দেখা যায়, গেল ৭ বছরেই তাঁর ডিপার্টমেন্টের ১৭ জন ছাত্রীর সঙ্গে সে সেক্স মিশন চালায়। প্রত্যেক মেয়েকেই ভাল রেজাল্ট করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সে এ ধরনের অনৈতিক কাজে যেতে বাধ্য করেছে ঐ সকল ছাত্রীদের। ঐ সকল ছাত্রীদের সামাজিক সম্মান বিবেচনায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকল বার্ডস আই।


ছবি: পুরনো চেহারার আসিফের ছবি

এদিকে আসিফ নজরুলের বেহায়াপনা ও বিকৃত সেক্স মিশন সম্পর্কে অনেকেই প্রকাশ্যে অবগত। এ প্রসঙ্গে আইনজ্ঞ ড. তুহিন মালিক এর সামনেই অপর এক বন্ধুকে আসিফ নজরুল বলেন, “মেয়ে মানুষের কথা বলিস না- আমার সঙ্গে কেউ পেরে উঠবে না, তোমাদের মাথায় যত চুল আছে- এ জীবনে সেই সংখ্যক নারীর সঙ্গে আমার সহবাস হয়েছে”।

বার্ডস আই এর অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, যে কোনো ধরনের পার্টিতে আসিফ উপস্থিত থাকলে মদের গ্লাস নিয়ে সুন্দরী নারীদের গায়ের ওপর ঢলে পড়তে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনায় জড়িয়েছেন অসংখ্যবার। স্টাইল ওয়াচ সম্পাদক ও সেলেব্রেটি করভী মিজান ও ব্যারিষ্টার তানিয়া আমীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে নিকট সময়েই দেখা গেছে। কাকতালীয়ভাবে দুটি পার্টির ভেন্যুই ছিল ঢাকা ক্লাব।

এর বাইরে সম্প্রতি আসিফ নজরুলের মোবাইলে তার বন্ধুর তোলা একটি ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটে দৃশ্যমান। মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে গিয়ে পাকিস্তানী একজন নাগরিকের স্ত্রীর সঙ্গে তিনি গাড়িতে যৌনলীলা করেছিলেন, সেটিই তার বন্ধুই ধারণ করেন। এরকম আরও কয়েকটি ভিডিও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর কাছেও আছে এবং তারা সেটি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আসিফকে ব্ল্যাকমেইল করে বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুটি।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো আসিফ নজরুল নিজেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত গণ আদালতের একজন সংগঠক হিসেবে দাবি করেন সব সময়। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ওই আদালতে যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমের বিচার হয়। আর নজরুল ইসলাম খান নামে গোলাম আযমের আইনজীবি ছিলেন আসিফ নজরুল। এখানেই শেষ নয়। আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে জাহানারা ইমামকে মা ডেকে তার থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নানা তথ্যপ্রমাণ নিজের দখলে নেয়ার, যা তিনি নষ্ট করে ফেলেন। বিনিময়ে তৎকালীন বিএনপি সরকার তাকে লন্ডনে আইনের উপর পিএইচডি করার জন্য স্কলারশীপের ব্যবস্থা করে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে বিখ্যাত বুদ্ধিজীবি শাহরিয়ার কবির ‘জাহানারা ইমামের শেষ দিনগুলি’ নামের বইয়ে লিখেছেন। তার ভাষায়:

“আসিফ লিখেছে, ওর মা ওর ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের কথা ভেবে ওকে এসব কাজে জড়াতে নিষেধ করেছেন। গণ আদালতের পর ও না কি বাবা মাকে বলেছিল, এসব কাজ আর করবে না। জাহানারা ইমামের চিঠি ওর মার হাতে পড়েছে। মা ওকে কসম খাইয়েছেন এ কাজ না করতে। মা’র কাছে দেয়া কসমের জন্য ও এ কাজ করতে পারবে না। ও বলল, ‘আমার কমনওয়েলথ স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডিপার্টম্যান্টের চেয়ারম্যান বলেছেন, এসব কাজের সাথে যুক্ত থাকলে আমি স্কলারশিপ পাবো না। ওকে বললাম, ‘তুমি মিথ্যে কথা কেন বলেছিলে? আম্মা কখনও তোমাকে এসব কাগজ আমাকে দেখাতে বারণ করেননি। আর আম্মাকে এরকম চিঠি লেখাও উচিৎ হয়নি। আসিফ বলল, ‘শাহরিয়ার ভাই, আপনার মত সাহস আমার নেই। আমি ক্যারিয়ারের কথা ভাবি। আপনাকে তখন এগুলো দেখালে আপনি রাগ করতেন। আপনার কথা আমি ফেলতে পারতাম না। আমি ভয় পেয়েছিলাম। এবার স্কলারশিপ হাতছাড়া হলে আবার কবে পাব তার কোন ঠিক নেই। আমি আম্মার কাছে ক্ষমা চাইবো।” জাহানারা ইমামকে বললাম, ‘আসিফ আপনার কাছে মাফ চাইতে আসবে।’ তিনি ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, ‘ওর মতো ছেলের মুখ আমি দেখতে চাই না। ওকে বারণ করে দিবি আমার বাসায় যেন না আসে।”

তো সংক্ষেপে এই হলো কথিত বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি আসিফ নজরুল ও তার চরিত্র। একজন বিকিয়ে যাওয়া মানুষ যিনি শিক্ষকতার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে টেলিভিশনে গিয়ে পাকিস্তানী দালালদের সাফাই গান। বিনিময়ে বাঙালী মেয়েদের নানা উছিলায় সম্ভোগ করেন। সম্ভোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাশ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বহিস্কার এখন সময়ের দাবি।

Spread the love
  • 12.8K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    12.8K
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।