ইয়াজুজ-মাজুজের গালগল্প বিশ্লেষণ: মুফতী মাসুদের বয়ান (ভিডিও)

0

।। আলহাজ হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ।।

বিশিষ্ট ইসলামিক পন্ডিত (বর্তমানে ধর্মত্যাগী) হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ আজকের চাঞ্চল্যকর ভিডিওটিতে তিনি কোরানের আলোকে ইয়াজুজ-মাজুজ নামক একটি প্রজাতি এবং সম্রাট যুলকারনাইনের মিথটি নিয়ে আলোকপাত করেছেন।

আল্লাহ প্রদত্ত শক্তিমত্তা ও অসীম ক্ষমতাধর যুলকারনাইনের সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত হওয়ার কাল্পনিক স্থান (পঙ্কিল জলাশয়)-এ পরিভ্রমণ এবং সেখানকার জনগোষ্ঠীর সাথে তার অবস্থানকালীন সময়ের ঘটনার বিবরণ নিয়ে মুফতী মাসুদ বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন। যে ঘটনাগুলোর বিবরণ ইহুদিদের ওপর আদিষ্ট ধর্মগ্রন্থ তাওরাতেও বর্ণিত ছিলো বলে মাসুদ জানান। ফলে কোরান যে তাওরাত থেকে তথ্য চুরি করে তৈরী করা হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হয়।

অপরদিকে ইয়াজুজ-মাজুজের জন্মরহস্যের বর্ণনাও করেন তিনি। ঘুমিয়ে থাকা পৃথিবীর প্রথম পুরুষ আদম এর স্বপ্নদোষ এর স্খলিত বীর্য্য থেকে জন্ম নেওয়া ইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে মিথোলজিক্যাল বিবরণও কোরান, তাফসীর গ্রন্থ ও হাদিসের আলোকে বর্ণনা করেন মুফতী মাসুদ।


ছবি: শিল্পীর তুলিতে আঁকা ইয়াজুজ-মাজুজের কাল্পনিক ছবি

কোরানের আলোকে ইয়াজুজ-মাজুজ আর যুলকারনাইন:

জুলকারনাইন কোরানে উল্লিখিত একজন ব্যক্তি। কোরানের সূরা কাহাফ্-এ জুলকারনাইন নামটি উল্লেখিত আছে। কোরানের তাফসিরকারীদের কারো কারো মতে তিনি একজন নবী ছিলেন। অন্যপক্ষে, ইসলামী পণ্ডিতদের কেউ কেউ মনে করেন কোরানে বর্ণিত জুলকারনাইন হলেন আলেকজান্ডার। স্মর্তব্য, কোরানে “আলেকজান্ডার” নামটি সরাসরি উল্লিখিত নেই। প্রাচীনকালে আরব উপদ্বীপে জুলকারনাইন নামটি পরিচিত ছিল অল্প বয়সী উচ্চ ক্ষমতাধর একজন শাসক হিসেবে। জুলকারনইন শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল “দুই শিং বিশিষ্ট”।

কোরান শরীফের সূরা কাহাফের আয়াত নম্বর ৮৩-১০১ অংশে জুলকারনাইন সম্পর্কিত বর্ণনা আছে। নবী হিসেবে জুলকারনাইনের নাম উল্লেখ নেই যদিও কিন্তু তিনি নবী ছিলেন না এমনটিও বলা হয়নি। বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তাঁকে সকল বিষয়ে পথনির্দেশ বা দিকনির্দেশ এবং/অথবা কার্যপোকরণ দিয়েছেন। তিনি এরপর দুটি পথ অনুসরণ করেন। এর মধ্যে এক পথে গিয়ে তিনি ইয়াজুজ মাজুজের হাতে অত্যাচারিত এক জাতির দেখা পান। তিনি তাদের জন্য গলিত তামার তৈরি একটি প্রাচীর বানিয়ে দেন।

সূরা কাহাফ ৮৩-৮৬ নম্বর আয়াতে নিম্নরূপ বর্ণিত আছেঃ

“তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব। আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম। অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন। অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন।”

জুলকারনাইন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে বেড়াতেন নির্যাতিত, বঞ্চিত, শাসকের হাতে শোষিত লোকদের মুক্তি দিতেন। কোরানের বর্ননা অনুযায়ী অরুণাচলে, যেখান থেকে সূর্য উদিত হয় সেখানে ইয়াজুজ, মাজুজের হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করার জন্য দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন জুলকারনাইন। আর সে স্থানটি পাহাড়ের প্রাচীরের মাঝখানে। সূরা কাহাফের ৯৩ হতে ৯৮ নম্বর আয়াতে জুলকারনাইনের এই প্রাচীর নির্মাণের উল্লেখ আছে।

ধারণা করা হয় এই জাতি ধাতুর ব্যবহার জানতো। তারা হাপর দ্বারা বায়ু প্রবাহ চালনা করে ধাতুকে উত্তপ্ত করে গলাতে পারতো এবং তারা লোহার পিন্ড ও গলিত সীসাও তৈরি করতে পারতো। পরবর্তী আয়াতের বিভিন্ন বাংলা অনুবাদে গলিত তামার উল্লেখ আছে; ইংরেজি অনুবাদে তামার স্থলে সীসার উল্লেখ আছে। জুলকারনাইন তাদের প্রতিরোধ প্রাচীর তৈরি করার জন্য উপাদান ও শ্রম সরবরাহ করতে বললেন। তারা নিজেরাই জুলকারনাইনের আদেশ মত দুই পর্বতের মাঝে শক্ত লোহার প্রাচীর বা দ্বারা তৈরি করলো।

ভিডিওটি দেখে তার সাথে কোরানের বর্ণনা এবং ফাঁকফোকরগুলো সম্পর্কে জেনে নিয়ে সবাইকে সচেতন হতে মুফতী মাসুদ সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।