দেশে সেক্স টয় বিক্রি বেড়েছে: নারী ক্রেতাই বেশি!

0

লাইফ স্টাইল ডেস্ক:

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরকালীন। যৌনতাকেও ‘নিষিদ্ধ বিষয়’ ও ট্যাবু হিসেবে গণ্য করা হয় বাংলাদেশে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা সেন্সরবোর্ডের কাঁচি আটকে রাখতে পারেনি এ বিষয়ের প্রতি মানুষের আকর্ষণকে। তাই তো উন্নত বিশ্বের মতো আমাদের দেশেও যৌন পণ্যের চাহিদা বাড়ছে প্রতিদিনই।

গোপনে হলেও ডিলডো (কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ) বা প্লেজারপ্যাড এখন লাইফস্টাইলের অংশ হয়ে গেছ। বিশ্বায়নের এই যুগে সব কিছুই পরিবর্তনশীল। আর এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে রক্ষণশীল শহর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে সেক্স টয় ব্যবহারের চাহিদা। ইন্টারনেটের কল্যাণে দেশের জনগণ এই পণ্যটি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন। কিন্তু তা হাতে পাওয়ার স্বপ্ন বোধহয় দেখতেন না। বেসিস এবং ই-ক্যাবের অনুমোদিত সদস্যের বাইরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পরিচালিত প্রচুর অনলাইন শপ রয়েছে।

গত কয়েক বছরে তাদের বিক্রির পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ব্যাপকহারে বেড়েছে সেক্স টয়ের চাহিদা। বিশেষ করে ঢাকায় তাদের বিক্রির পরিমাণ আকাশচুম্বি। বিক্রেতা সংস্থাগুলোর দাবি, এই সেক্স টয়ের গ্রাহক সংখ্যার অধিকাংশরা হলেন ১৮ থেকে ৫০ বছরের নারী!


ছবি: নারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সেক্স টয়

সেক্স টয় কী?

এক কথায় আপেক্ষিকভাবে শারীরিক ও মানসিক কামনা মেটানোর ইলেকট্রনিক বা নন ইলেকট্রনিক ডিভাইস। নারী ও পুরুষের যৌনাঙ্গের আকৃতির মতো হয় এই ডিভাইস।

এর মেয়াদ কতদিন?

মোবাইলের মতোই এই ডিভাইসের ব্যাটারি আছে। চার্জ দিলেই তা ফের নতুন। তাই একবার কিনলে গ্রাহকদের মেয়াদ নিয়ে আর কোনও চিন্তা নেই। তবে ব্যাটারি ছাড়াও আছে বেশ কিছু।

সেক্স টয় কি আইনস্বীকৃত?

এদেশে সেক্স টয় অবৈধ। খোলা বাজারে এর বিক্রির কোনও সরকারি অনুমতি নেই। কিন্তু অনলাইনে নির্দিষ্ট কিছু ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে অবাধে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার পণ্য। জাপান ও চীন থেকে এদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে চলে আসছে সেক্স টয়। চলছে দেদার বিক্রিও। দেশের মূলস্রোতের অনলাইন শপিং সাইটে সেক্স টয় পাওয়া যায় না। কিছু সাইটে গেলে দেখা যায় খুব অল্পদামে বিকোচ্ছে সেক্স টয়। দাম শুরু হয় কয়েকশ টাকা থেকে। ৫০০০ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের সেক্স টয়ও পাওয়া যায় এই শপিং সাইটগুলোতে।


ছবি: পুরুষদের জন্য সেক্স ডল

ঢাকায় খুব অল্প ব্যবসায়ী গোপনে সেক্স টয়ের ব্যবসা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেক্স টয় আমদানীকারক নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন। তিনি বলেন, “এখন ডিলডোর (কৃত্রিম পুরুষাঙ্গ) বাজার অনেক চড়া। নারী গ্রাহকদের অর্ডারের সংখ্যা অনেক বেশি। মানুষের চিন্তাধারা বদলাচ্ছে, আধুনিক হচ্ছে। তাই টাকা দিয়ে যৌনসুখ কিনছে। পুরুষ গ্রাহকদেরও অর্ডার আসে। কিন্তু মহিলাদের তুলনায় তা অনেক কম।”

এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদক কথা বলেছেন একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত মনোরোগ চিকিৎসক রোমানা ইসলামের সাথে। বাংলাদেশের মানুষ কীভাবে আর কোন কোন কারণে প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে, কথা প্রসঙ্গে তাও জানালেন তিনি। বিশেষ করে ঢাকার মতো মেট্রো সিটিতে জায়গার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। উচ্চবিত্ত হোক বা মধ্যবিত্ত পরিবার। কেউ যে তাঁর নিভৃতে প্রেম করবেন, তার কোনও উপায় নেই। খরচ করে আপনি নিরাপদ ও ভালোমানের হোটেল ভাড়া করবেন? জানাজানি হলে পারিবারিক সম্মানের ভয়।


ছবি: উপযুক্ত ও নিরাপদ সঙ্গীর অভাবেও অনেকে সেক্স টয়ের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন

এদিকে মানসিক ও শারীরিক চাহিদাও কিন্তু থেমে নেই। ছেলেদের ক্ষেত্রে একরকম ভয়, মেয়েদের ক্ষেত্রে সমস্যা অন্যরকম। তিনি জানালেন, যে মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবেন তাকে আপনি ঠিক কতটা বিশ্বাস করেন? আগামী দিনে সম্পর্ক ভেঙে গেলে সে যে আপনাকে ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসাবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে?

মেয়েদের সমস্যা অন্যরকম। আপনার সঙ্গী গোপন মুহূর্তের ছবি তুলে রেখে আপনাকে ব্ল্যাকমেল করতে পারেন। সেই দায়ও বা কে নেবে? এ তো গেল তরুণ প্রজন্মের কথা। দাম্পত্য জীবনেও বাড়ছে অশান্তি। স্বামী-স্ত্রী ১২-১৪ ঘণ্টা অফিস করে এসে ক্লান্ত। নিজের জীবনে কোনও সময় নেই। কোনও ছুটি নেই। কিন্তু শরীরের চাহিদা তো থেমে নেই। পরকীয়া সম্পর্কেও আছে নানারকম ঝুঁকি। তাই সব আশঙ্কার সমাধান হয়ে উঠেছে সেক্স টয়।

সেক্স টয় আমদানিকারক উক্ত ব্যবসায়ী বলেন, আমরা সেক্স ডল আনারও চেষ্টা করছি। তবে এটা এখনই চলবে না। কারন দাম অনেক বেশি। চাহিদা থাকলেও কেউ ঘরে রাখতে পারবে না লজ্জায়। আর যেহেতু আকারে বড় তাই লুকিয়ে রাখাও সম্ভব না।


ছবি: সেক্স টয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একজন মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা

তিনি বলেন, ইদানিং ‘পেনিস এনলার্জমেন্ট কনডমে’র চাহিদা বেশ বেড়েছে। পুরুষরা এগুলো অর্ডার করছেন। এটা একবার কিনলে অনেকদিন ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি যাদের বিশেষ অঙ্গ ছোট এবং তা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন, তারা কিছুটা মানসিক প্রশান্তি পায়।

শহর প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে মন্থরগতিতে। কিন্তু পর্যাপ্ত গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাবলীল হচ্ছেন নাগরিক। তাই খোলা ফুটপাতে বা নিউ মার্কেট কিংবা বসুন্ধরা সিটির চাইতে বরং অনলাইন শপিং সাইটে বিশ্বাসী নগরবাসী। ব্যবসায়ীরাও এই দোকান জনসমক্ষে আনতে চান না। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, শহরে এখনও গোপনীয়তা আছে বলেই এই ব্যবসার বাজার আছে। প্রকাশ্যে সেক্স টয় ব্যবহারের মতো প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠেনি এখনও ঢাকা।

সেক্স টয় কি বিকৃত কাম? সমাজে এর প্রয়োজন কতোটা?

মনোরোগ চিকিৎসক রোমানা জানান, এই সেক্স টয়ের চাহিদাবৃদ্ধির কারণ। তিনি মনে করেন, মূলত তিনটি কারণে বাড়ছে সেক্স টয়ের চাহিদা। প্রথমত, সমাজের অগ্রগতি। আগে যৌনতা নিয়ে প্রকাশ্য মতামতে অনেকটাই ছেলেদের থেকে পিছিয়ে ছিল মেয়েরা। এখন অনেক বেশি সাবলীল তাঁরাও।

দ্বিতীয়ত, বর্তমানে দেশের সামগ্রিক মহিলাদের মধ্যে একটা বড় অংশই সেক্স টয়ের প্রতি আকৃষ্ট। তৃতীয়ত, আগেও সেক্স টয়ের সমান চাহিদা ছিল। কিন্তু, আইনত স্বীকৃতি ও জোগান না থাকায় অপারগ ছিল শহর। এবার বাজার খুলে যাওয়ায় সেই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন শহরবাসী।

Spread the love
  • 372
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    372
    Shares

এই ওয়েবসাইটের যাবতীয় লেখার বিষয়বস্তু, মতামত কিংবা মন্তব্য– লেখকের একান্তই নিজস্ব। somoyekhon.com-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে এর মিল আছে, এমন সিদ্ধান্তে আসার কোনো যৌক্তিকতাই নেই। লেখকের মতামত, বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে somoyekhon.com আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো প্রকার দায় বহন করে না।